জর্জিয়ার খবর

গোয়ার্তুমিতে অটল আমেরিকা: ‘ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা দেব না’
Published : 16.04.2014 08:05:31 am

১৬ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): মার্কিন সরকার তার গোয়ার্তুমি অব্যাহত রেখে বলেছে, জাতিসংঘে নবনিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ আবুতালেবিকে ভিসা দেয়া হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি মঙ্গলবার বলেছেন, “১৯৭৯ সালের ঘটনাবলীতে তার (হামিদ আবুতালেবির) ভূমিকা থাকার কারণে তাকে ভিসা দেয়া সম্ভব নয়।” এর আগে হোয়াইট হাউজ ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতির কথা জানিয়েছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে হামিদ আবুতালেবিকে নিয়োগ দেয়ার পর তিনি যাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য মার্কিন সিনেট একটি বিল পাস করে। এরপর গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, আবুতালেবিকে আমেরিকায় স্বাগত জানানো হবে না। মার্কিন সিনেট অভিযোগ করছে, ১৯৭৯ সালে গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে পরিচিত তেহরানস্থ তৎকালীন মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনায় আবুতালেবি জড়িত ছিলেন। ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র মার্কিন দূতাবাস দখল করেন। আগে থেকেই তারা ধারণা করেছিলেন, দূতাবাসটি ইরানের ইসলামি সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দূতাবাস দখলের পর সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে ইরানি ছাত্রদের সে ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ মার্কিন সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, আবুতালেবি হচ্ছেন এমন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক যিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে ইরানি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। জারিফ বলেন, ইরান বহুদিন ধরে বলে আসছে, মার্কিন সরকার দেশটিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তর অবস্থিত বলে বিশ্বের ওপর মোড়লিপনা করছে। ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা না দেয়ার ঘটনা তেহরানের সে অভিযোগ আবার সত্য প্রমাণ করল। এ ছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম এর আগে বলেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাতিসংঘে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবুতালেবিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘে নিয়োগ দেয়া কোনো রাষ্ট্রদূতকে নিজের অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় আনার কোনো অধিকার মার্কিন সরকারের নেই।# রেডিও তেহরান/এমআই/১৬

বিস্তারিত
যেসব কারনে আমেরিকা এক নম্বর নয়!

আমরা আমেরিকার সামরিক শক্তিতে কাঁপি! অর্থনীতি ও সামাজিকভাবে এখনও আমরা ভাবি আমেরিকা স্বর্গ। আসলে কি তাই? না, আমেরিকা ১ নম্বর নয়। কারন, ১। মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে নরওয়ের নাগরিকেরা আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে আছে ২। সামাজিক অগ্রগতি সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬তম। আর সবার ওপরে নিউজিল্যান্ড ৩। জাপানিদের গড় আয়ু আমেরিকানদের চেয়ে বেশি ৪। ‘সুযোগের’ দিক থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে আয়ারল্যান্ড ৫। সুস্বাস্থ্যের দিক থেকে আমেরিকা বিশ্বে ৭০তম ৬। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ৬৯তম ৭। মৌলিক শিক্ষায় ৩৯তম ৮। বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ৩৪তম ৯। ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ৩১তম অবস্থানে ১০। সেলফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে আমেরিকা ২৩তম স্থানে আছে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় লেখা ‘আমরা এক নম্বর নই’ শিরোনামে মার্কিন সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টোফ-এর লেখা প্রবন্ধে এসব তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।

আমার প্রবাস জীবন

ছেলেবেলা থেকেই আমার বিদেশে বসবাসের ইচ্ছা ছিল। আমি একজন ভালো ব্যবসায়ী হতে চেয়েছিলাম। অনেক করে চেষ্টা করে এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল পেয়েছি। এরপর দুর্ভাগ্যবশত ছাত্র হিসেবে ২০১১ সালে জর্জিয়া নামের একটি উন্নয়নশীল দেশে আসি। আমার সঙ্গী সাথীদের কেউ এখানে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না। তারা অবৈধভাবে ইউরোপ যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার অবৈধভাবে যাওয়ার ভয় ছিল। বুঝতে পারি যে, আমার দেশ এই দেশের চেয়ে ভাল ছিল । আমাদের দেশে যথেষ্ট রপ্তানি পণ্য আছে। আমি একটি বছর এখানে খুব খারাপ সময় পার করেছিলাম। দেশ থেকে গার্মেন্টস পণ্য আমদানি করবো এটা আমার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। আমি মাত্র ১৯ বছর বয়সে এখানে এসে ছয় মাসে জর্জিয়ান ভাষা শিখেছিলাম। কিন্তু, ব্যবসার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা প্রয়োজন। বিদেশী এক বন্ধুর কাছে বাংলাদেশি কাপড় রপ্তানি সম্পর্কে বললাম। আমি এ নিয়ে তাকে ইন্টারনেটে অনেক কিছু দেখালামও। তাই, তিনি বাংলাদেশে যেতে আমার বিমান টিকেট দিলেন। কিছু দিন পরে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমরা ঢাকা থেকে গার্মেন্টস পণ্য কিনেছিলাম। তারপর সেগুলো রপ্তানি করে আমরা ভালো লাভ করেছিলাম। আমার বন্ধু বাংলাদেশের বাজারে অনেক আনারস দেখেছিল, যা খুব সস্তা। তিনি আনারস আমদানি করতে চেয়েছিলেন। তাই তিন মাস পর আবার তিনি আনারস ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে আসেন । আবার আমি ভাল মুনাফা পেয়েছিলাম। এখন আমি বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি করছি। বাংলাদেশ যে বিশ্বের সেরা দেশ তা আমি বুঝতে পেরেছি। এখন শুধুমাত্র আমার সোনার দেশের জন্য আমি একজন তরুণ ব্যবসায়ী। সুতরাং আমাদের দেশকে গরীব বলা উচিত নয়। আমাদের নিজের দেশকে এভাবে অবহেলা করা উচিত নয়। আমি সবসময় অন্যদের বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে বলার চেষ্টা করি। গত ১৬ ডিসেম্বর আমি আমাদের বিজয় দিবস সম্পর্কে আমার বন্ধুকে জানাই। আমরা যে সময়ে সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির রেকর্ড করি তখন আমি আমার বন্ধুদের তা জানাই। কেউ আমার দেশের সম্পর্কে খারাপ বললে আমি আমার মহান দেশের ইতিহাস তুলে ধরতে চেষ্টা করি। কেউ আমার দেশ সম্পর্কে খারাপ শব্দ ব্যবহার করলে আমি রেগে যাই। কেন জানি না এখানে আসার আগে আমার এরকম মনে হয়নি। হয়তো এখন আমি আমার দেশে নেই দেখে দেশকে ভালো করে বুঝতে পারি। সত্যিই আমি আমার ছোট সবুজ গ্রামকে খুব মিস করি। যেখানে আছে আম গাছ, নদী, সবুজ ধানখেত। যেখানে আছে নির্মল বাতাস। এসব ভাবতেই মনে হয় সকল দেশের সেরা সে যে, আমার জন্মভূমি। তাই, দেশ বিকাশের জন্য আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা প্রবাসী-দেশবাসী সবাই মিলে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলি। তিবলিসি,জর্জিয়া

প্রবাস

সৌদি আরবে গোল্ড মেডেল পেল তিন বাংলাদেশি
Published : 16.04.2014 08:44:15 am

সৌদি আরব: সৌদি আরবে আল জাবর কোম্পানি কর্তৃক সেরা শপ-কিপার নির্বাচিত হওয়ায় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদে আল জাবর কোম্পানির সোলাই ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত বার্ষিক শপ-কিপার মিটিং এ তাদেরকে এ মেডেল প্রদান করা হয়। গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত তিন বাংলাদেশি হলেন- মোবারক হোসেন গ্রাম: আগলা, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: ঢাকা। রেজাউল করিম, গ্রাম: কুতুবপুর, থানা: শিবচর, জেলা: মাদারীপুর। এবং আলমগীর হোসেন, গ্রাম: মাইলাইল, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: ঢাকা। আল জাবর কোম্পানির বিভিন্ন দেশের নাগরিক একশ সত্তর জন শপ-কীপারের মধ্যে এ তিনজন সেরা শপ-কিপার নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিস্ট্যান্ড শপ-কিপার, চালক এবং সাধারণ কর্মচারিসহ পাঁচশ শ্রমিকের মধ্য থেকে আরও ১৫ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ ১৫ জনের একজন ভারতীয় নাগরিক, একজন শ্রীলঙ্কান এবং তেরজন বাংলাদেশি। মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক শপ-কিপার মিটিং এ কোম্পানির রিয়াদ ব্রাঞ্চের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তিন বাংলাদেশিকে অভিনন্দন জানান। সেই সাথে অন্য শ্রমিকদের মাঝে তাদেরকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে, দুর্ব্যবহার করা যাবে না এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দাম্মাম থেকে টেলি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন কোম্পানির পরিচালক আবুল মোহসিন আল-জাবর। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানির রিয়াদ ব্রাঞ্চের প্রডাকশন ম্যানেজার রাজ গোপাল, সুপার ভাইজার রোমান খান, বেলায়েত হোসেন, আসলাম কাজী, কামরুজ্জামান টিপু, সফিউদ্দিন সরকার, সাইদুর রহমান সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ, কাউসার আহমেদ, মাখন চ্যু, মনির হোসেন পাটওয়ারী, সফিউল ইসলাম এবং সালাম আব্দুল হাকিমসহ কোম্পানির পাঁচশ কর্মচারি। উল্লেখ্য, আল জাবর বিশ্বের সর্ববৃহৎ একটি ডিজিটাল লন্ড্রি কোম্পানি। স্যুট, উইডিং ড্রেস, কম্বল, কার্পেট এবং সোফা ওয়াশের জন্য সৌদি আরবে আল জাবর অত্যন্ত জনপ্রিয়। রিয়াদে একশ সত্তরটিসহ পুরো সৌদি আরবে আল জাবরের তিনশর মতো শো-রুম রয়েছে। এ কোম্পানিতে বাংলাদেশিরা অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। বাংলামেইল২৪ডটকম/ লোকমান/ এমআর

বিস্তারিত
লজ্জাস্থান ঢাকিলেই হয়না লজ্জা নিবারণ

"আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, ইদানিং দূতাবাসের ভিতরে পকেটমারের উপদ্রব বেড়ে গেছে। আপনারা আপনাদের পকেট সাবধানে রাখবেন।" দুবাই -এ অবস্থিত বাংলাদশ দুতাবাস কর্তৃপক্ষ একটু পরপর যখন এই সতর্কতামুলক বার্তাটি ঘোষণা করছিল তখন একটু বিরক্ত না হয়ে আর পারলাম না। লজ্জিতও হলাম বটে এই ঘোষণাটি শুনে। কেন লজ্জিত হলাম সেটাই বলতে যাচ্ছি। দুবাই-এর সাথে আমি আমার সোনার দেশের তুলনা করতে চাই না। তবে তারপরও কিছু কথা আজ না বলে পারলাম না। আজকাল আমি একটু বেশি কথা-ই বলে ফেলছি। দু'কলম লিখাপড়া করেই সুযোগ পেলে দু'একটি বিবেক তাড়িত বাক্য হঠাৎ করে অনিচ্ছাকৃতভাবেই বের হয়ে যায়। বিশ্বের মানচিত্রে বর্তমানে দুবাই একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের নাগরিকের অবস্থান এই ক্ষুদ্র দেশটিতে। অনেকে এসেছেন কোন চাকুরী নিয়ে আবার অনেকে এসে গড়েছেন বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। আমি আজ গত ৪ বছর ধরেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছি। আমার এই ৪ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি কথা আমি বলতে পারি যে, আমাদের বাংলাদেশের নাগরিকদের এখানে খুব হেয় করে দেখা হয়। বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে কিভাবে দেখা হয় সেই সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই তবে দুবাই-তে বাংলাদেশী নাগরিকদের যে হেয় করে দেখা হয় তার কোনো সন্দেহ নেই। একটি প্রবাদ বাক্যে পরেছিলাম যে, কেউ তোমার পিঠে চড়তে পারবে না যতক্ষণ তুমি তোমার পিঠ নিচু না করো। কথাটি এজন্য বললাম কারণ আমরা নিজেরাই আসলে আমাদেরকে হেয় করে দেখার পথটি সুদৃঢ় করে দিয়েছি তাদের। আমরা আমাদের কর্মকান্ড দ্বারা নিজের জাতিকে করেছি কলঙ্কিত। যার কারণে বাঙালি নামটি শুনলেই এদেশের মানুষের মুখে একটি কালো মেঘের আবরণ পরে যায়। মনে করেন আমি কারো সাথে বিগত এক ঘন্টা ধরে কথা বলছি, অনেক মিষ্টি মধুর কথা, তবে সে যখন একটি ঘন্টা পর জানে যে আমি একজন বাংলাদেশের নাগরিক তখন তার মুখে আর আগের রস-কস থাকে না। তবে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। সে আমার সাথে ভালো/খারাপ যেভাবেই কথা বলুক না কেন তাতে আমার কিছু আসে যায় না তবে অবশ্যই আমার জাতির কিছু আসে যায়, আর আমার জাতির উপর যেটা আসে সেটাতো আর মেনে নিতে পারি না। তারা আমাদেরকে আসলেই আমাদের জাতিকে খুব নগন্য মনে করে তবে তার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। এবার সর্ব প্রথমে আপনাদের যে সতর্কবাক্যটি শুনিয়েছি সেটা দুবাই-এ অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস কতৃপক্ষের সতর্কবার্তা। আপনারা হয়ত বলতে পারেন এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে এটি তো একটু সতর্কতামুলুক বার্তা। লজ্জাটা এজন্য পেলাম কারণ এই দেশে হত্যা, গুম, চুরি, ডাকাতির সংবাদ তেমন একটা চোখে পরে না। আমি কিন্তু বলছিনা না যে এসব ঘটনা ঘটে না, সব দেশেই এসব ঘটে থাকে তবে সচরাচর লক্ষনীয় নয়। এদেশে বসবাসরত সবাই এই দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে আর এটা করাটাই স্বাভাবিক কারণ আমি যখন আমার দেশ থকে বাহিরে আসব তখন আমাকে ওই দেশের আইন-কানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এখানে একটি অর্ধ-বসনা নারী মধ্যরাতে একা রাস্তাতে চলতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না। মানুষ এখানে দ্বিধাবোধ করে না সাথে টাকা নিয়ে চলতে। স্বীকার করতে হবে আমাকে যে এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আজও তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হওয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেখানে আমাদের দুতাবাস প্রতিনিয়ত সতর্কবাণী দিয়ে যাচ্ছে পকেট মার থেকে সাবধান থাকার জন্য এটা কি লজ্জাকর ব্যাপার নয়? আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং আমরাও আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানি অথবা চেষ্টা করছি তাল মিলিয়ে চলার জন্য। আমি মনে করি আজ যদিও আমরা পিছিয়ে রয়েছি শুধু আমাদের সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মূল্যবোধের অভাবে যা আমরা আমাদের চেতনায় আজও ধারণ করতে পারিনি। নিজের এবং নিজের পরিবারের মুখে একটু হাসি, একটু সচ্ছল ভাবে জীবন ধরণের লক্ষে আপন দেশের মাটি ছেড়ে আমরা পারি জমায় বিদেশের মাটিতে। অর্থ উপার্জন করার উদ্দেশে এখানে আমাদের আসা তবে তার মানে এই নয় যে সেই অর্থটি উপার্জন করতে হবে কোনো অবৈধ পথে। আমাদের দেশের শত শত নাগরিক আজ এই দেশে এসে জড়িত হয়ে পরেছে অনেক অবৈধ কর্মকান্ডে। ভিন দেশে এসেও এখানে পরিকল্পনার করা হয় ব্যাংক লুটের মত বড় অবৈধ কাজ। যার যেই কাজগুলো আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমাদের। বেশি বকবক করে আমি আর কি করব বলেন? ঘোড়াকে জোর করে পানিতে নামানো যাবে কিন্তু জোর করে পানি পান করানো যাবে না। নিজেরাই যদি নিজেদের ও নিজের দেশের স্বার্থের জন্য নিজের নৈতিক মূল্যবোধকে না জাগাই তাহলে অন্য কেউ আর তা জাগিয়ে দিতে পারবে না।

প্রবাস বরণ করে নিল ১৪২১ কে

বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি সম্প্রদায় নানান উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎযাপন করছে বাংলা নববর্ষ ১৪২১ সনকে। বিভিন্ন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার আয়োজন করা হয়েছে দিনটি পালন করতে। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামেবাংলা নববর্ষ উৎযাপন উপলক্ষে রবিবার এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি’র বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিবারের সদস্য এবং ওয়াশিংটনস্থ প্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা কোরাসে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো,’ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।নতুন বছরকে কে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রদূত কাদের আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দূতাবাসসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে আমরা বহির্বিশ্বে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারব। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানের গ্র্যান্ড রেপিডস-এর আফা ক্রিশ্চিয়ান স্কুলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। বাঙালি সাংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে উজ্জীবিত হয়ে তারা ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন, রং বেরং-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এতে তিন শতাধিক বাংলাদেশি পরিবার অংশ নেয়। পাকিস্তান বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও উত্সবমুখর পরিবেশে ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে রবিবার বাংলা নববর্ষ ১৪২১ উৎযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খাদ্য, হস্তশিল্প ও পুস্তক প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইসলামাবাদে বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, পাকিস্তানের সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইসলামাবাদ ও লাহোরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণ বর্ণাঢ্য ব্যানার, বেলুন ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়। খাদ্য ও হস্তশিল্প সামগ্রীর স্টলও এতে স্থান পায় ফ্রান্স ফ্রান্সে প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে। যুবক যুবতী, তরুণ তরুণী, সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে কালচার প্লাসের বৈশাখী মেলা রূপ নেয় মহাসমাবেশে। তরুণীদের হলুদ মাখা শাড়ি, শিশু-কিশোরদের নববর্ষের আলপনা আঁকা রং বেরং-এর শার্ট, টি-শার্ট এবং তরুণদের মাথায় বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা দেখে মনে হয় প্যারিসের বুকে এক ছোট্ট বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কালচার প্লাস প্যারিসের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শরীফ আল মোমিনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, কালচার প্লাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাজী এনায়েতউল্লাহ, লিনা খান, মনির কাদের, আব্দুল খালিক,শহীদুল আলম মানিক, টি এম রেজা, হেনু মিয়া, হাসনাত, ফ্রান্স বাংলা প্রেসক্লাব আহবায়ক ফারুক নেওয়াজ খান, সদস্য সচিব দেবেশ বড়ুয়া, আবু তাহির, রানা চৌধরী, আলী জাফর রেজোয়ান জুয়েল, খালেদ বিন রহমান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মিজানুর রহমান লাভলু প্রমুখ।

বাংলাদেশ

বরিশাল বিভাগের চিকিৎসাসেবা
Published : 16.04.2014 07:19:21 am

‘নেই’-এর পরিমাণ যদি শতকরা ৬৭ ভাগ হয়, তবে সেই খাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। খাতটি স্বাস্থ্য খাত আর সংখ্যাটি চিকিৎসকের। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শতকরা ৬৭ ভাগ চিকিৎসকের পদই এখন শূন্য। বরিশাল বিভাগে সরকারি চিকিৎসাসেবা বলে আদৌ কিছু আছে কি? হিসাব অনুযায়ী বরিশাল বিভাগে যে কয়জন চিকিৎসক থাকার কথা, তার তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চলছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী শতকরা ৬৭ ভাগ পদ শূন্য রয়েছে, তবে প্রেষণ ও অন্যান্য কারণে এই হার আরও বেশি হতে পারে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, কাগজে-কলমে যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ। আর যে-সংখ্যক চিকিৎসক কাগজে-কলমে রয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই আবার থাকেন জেলা শহরে। উপজেলা পর্যায়ের চিত্রটি টের পাওয়া যায় প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যে। বরগুনার আমতলী উপজেলায় চিকিৎসকের পদ আছে ৩৯টি আর বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য। পটুয়াখালীর মির্জাপুর উপজেলায় ২১টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র তিনজন, অর্থাৎ সাত ভাগের এক ভাগ! বছরের পর বছর ধরেই এভাবে চলছে। দেশে চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য প্রশাসন বলে কিছু থেকে থাকলে পরিস্থিতি এত শোচনীয় হওয়ার কথা নয়। পদ অনুযায়ী চিকিৎসক নেই, নিয়োগ পেয়ে এসে অনেকে উধাও, কেউ কেউ পদায়ন হওয়ার পরপরই মহাপরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ঢাকা বা বড় শহরে প্রেষণে চলে যান, যেসব তথ্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কেউ জানতে পারে না—এ রকম এক চরম বিশৃঙ্খল ও জবাবদিহি ছাড়া পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি এর কোনোই খোঁজখবর রাখে না? তাদের কি কিছুই করার নেই?

বিস্তারিত
দেশরক্ষা ও মানুষের কল্যাণই বিএনপির লক্ষ্য: খালেদা

দেশরক্ষা ও মানুষের কল্যাণই আগামী দিনে বিএনপির লক্ষ্য’ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাসাস আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, দেশকে রক্ষা করব। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনব।” জাসাসের কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “গীতিনাট্যের মাধ্যমে আপনারা বাংলাদেশ ও স্বৈরাচারী সরকারের চরিত্র তুলে ধরেছেন। আপনারা সারাদেশের মানুষের কাছে এটা তুলে ধরুন, কারণ মানুষ এটা জানতে চায়। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকব।” খালেদা বলেন, “দেশরক্ষা ও মানুষের কল্যাণ হবে আগামী দিনে বিএনপির লক্ষ্য।” অনুষ্ঠান শেষে খালেদা জিয়া শিল্পীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে জাসাসের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, নাচ পরিবেশন করেন। পরে চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় গীতি নাট্য ‘পালকি’ মঞ্চস্থ করা হয়। গীতি নাট্যের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শায়রুল কবির খানের লেখা গান ‘নতুন পথের দিশারী’ পরিবেশিত হয়। এতে কণ্ঠ দেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সংগীত পরিচালনা করেন জাসাসের লোক-সংস্কৃতি সম্পাদক আহম্মেদ কিসলু।

বাংলাদেশে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণ

বাংলাদেশে আজ উদযাপন করা হচ্ছে বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথমদিন। নববর্ষ পালনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঢাকায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষের উৎসব। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে মুসলমানদের দুটি ঈদের পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হবে। তবে গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে যেভাবে নববর্ষ উদযাপন করা হয়, তার সাথে শহুরে নববর্ষ উদযাপনের বেশ পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে সকাল ১০টায় শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে’। এদিকে, ২০০১ সালে রাজধানী ঢাকার রমনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তা প্রধান একটি ইস্যু। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তার স্বার্থে মহানগর পুলিশ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সমস্ত অনুষ্ঠান সন্ধ্যে ছটার মধ্যে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছে। ষোড়শ শতকে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের যুগে প্রবর্তন করা হয়েছিল বাংলা সালের। সময়ের বিবর্তনে সেই দিনটি এখন বাঙালির প্রাণের উৎসব পরিণত হয়েছে।

ভিডিও