জর্জিয়ার খবর

কোরবানী উপলক্ষে জর্জিয়ায় পশুর দাম বেড়েছে
Published : 29.09.2014 06:08:15 am

আগামি ৪ অক্টোবর কোরবানী উপলক্ষে জর্জিয়ায় পশু খামার গুলোতে গরু, ছাগল,মেষ প্রভৃতি কোরবানী উপযোগী পশুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে পশু মালিকেরা। জিলহজ মাস শুরুর সাথে সাথে মুসলমান খদ্দেরদের এসব খামারে আগাগোনা দেখে তারা এ মূল্য বৃদ্ধি করছে বলে ভুক্ত ভোগীরা জানিয়েছেন। জর্জিয়া তথা 'যুক্তরাষ্ট্রে খোলা বাজারে কোথাও জীবিত পশু- পক্ষী বেচা কেনা হয় না । নিদিষ্ট কোন খামারে বেচা-কেনা হয়। তাও মূল শহর থেকে দূরে এবং জবেহও হবে নিদিষ্ট কোন সোলাট হাউজ বা কসাই খানায়। মাত্র ক’দিন আগেও যে গরুর দাম ছিল ১হাজার ডলার তার দাম বেড়েছে ১হাজার ৩শ থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত। ছাগল বা মেষের দামও বেড়েছে সেই হারে। যে ছাগল বা মেষের দাম ছিল ৭০- ৮০ডলার তার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১শত ডলার থেকে ১শত ২৫ ডলার পর্যন্ত।

বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আটলান্টায় কনস্যুলেট অফিস স্থাপিত হচ্ছে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সোমাবার সকালে নিউইয়র্ক পৌঁছার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃত্বের করণীয় তুলে ধরেন তিনি। উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করে তিনি সম্মেলনের ‘ন্যাশনাল একশন এন্ড এম্বিশন এনাউন্সমেন্ট’ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন । আর এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগমনকে স্বাগত জানাতে সভাপতি জনাব এম মাওলা দিলু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রহমানের নেতৃত্বে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক পৌছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিধি দলের সকল সদস্যদের সঙ্গে একান্তে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল বাংলাদেশী প্রবাসীদেরকে একই মঞ্চে এনে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীদেরকে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকতে নির্দেশ প্রদান করেন বলে জানা গেছে। সেসময় জর্জিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টায় বাংলাদেশ মিশনের একটি কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের দাবি উত্থাপন করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিটি বাস্তবায়নের নীতিগত আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে প্রকাশ। প্রতিনিধি দলের অন্যান্যদের মধ্যে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজা করিম, সদস্য জনাব ফরহাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জর্জিয়ার প্রতিনিধিগন পরদিন মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথেও দেখা করেন। এদিকে নিউ ইয়র্ক থেকে টেলিফোনে এম মওলা দিলু জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গলবারের এই আশ্বাসের আলোকে আটলান্টায় একটি কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেনকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের যথাযথ উদ্যোগে অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়াটি খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে আমরা প্রত্যাশা করছি। উল্লেখ্য, জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টায় একটি কনস্যুলেট অফিস প্রতিষ্ঠার দাবী এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের। আর সেই প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছর ধরে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতিসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ঊর্ধ্বতন মহলে নানা চেষ্টা তদবির করে আসছিলেন। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের নিউ ইয়র্ক সফরের সময়কালে জর্জিয়া আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে অনুরোধটি পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে জননেত্রী শেখ হাসিনা আটলান্টার বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশাটি পূরণ করতে সক্ষম হলেন। তাই এখন শুধু অপেক্ষার পালা। তবে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর এই নির্দেশটি কতটা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনায় যোগ দিতে জর্জিয়া আ' লীগের নেতৃবৃন্দ এখন নিউইয়র্কে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নিউইয়র্কে । প্রধান মন্ত্রীর এই আগমন এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তির গৌরবময় ৪০ বৎসর পূর্তি উদযাপন সফল ও সার্থক করতে গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় ম্যারিয়ট মার্কিতে এক সার্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনা ওঁ সমাবেশের আয়োজন করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এ সমাবেশে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাষ্ট্র থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগদান করেছে । অন্যান্য অঙ্গ রাজ্যের ন্যায় জর্জিয়া থেকেও জর্জিয়া আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে।এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জর্জিয়া আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী হোসেন, সদস্য সচিব শেখ জামাল, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর কাউসার, সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ । এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জর্জিয়ার বাসিন্দা ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিক ও তার স্ত্রী শাকিরা আলী বাচ্চি। নিউ ইয়র্কে থেকে সদস্য সচিব শেখ জামাল এ প্রতিনিধিকে টেলিফোনে জানান, সমাবেশের পূর্বে তারা প্রধান মন্ত্রীর সফর সঙ্গী বিভিন্ন সুধীজনের সাথে মিলিত হয়েছেন। উল্ল্যেখযোগ্যদের মধ্যে ডাক-তার টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি, প্রধান মন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় , যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এ প্রতিনিধিকে তিনি আরো জানান জর্জিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুদিনের প্রত্যাশা জর্জিয়ায় একটি স্থায়ী কনসুলার অফিস স্থাপন। এ ব্যাপারে তিনি তার সাথে আলাপ করেছেন। রাষ্ট্রদূত জনাব জিয়া এ ব্যাপারে প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি তাকে আরো জানিয়েছেন কনসুলার অফিস না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাস সেবা প্রদানের লক্ষে বছরে অন্তত একবার জর্জিয়ায় ভ্রাম্যমান দূতাবাস পাঠাবে। এ বছরের ভ্রাম্যমান দূতাবাস আগামি মাসের যে কোন এক সপ্তায় আসবে। জর্জিয়া আওয়ামী লীগের আরো একটি দল প্রধান মন্ত্রীর সংবর্ধনায় যোগ দিবে বলে জানা গেছে । এ দলে যারা রয়েছেন তারা হলেন, এম মাওলা দিলু, মাহমুদুর রহমান, মোহাম্মদ রেজা করিম ও ফরহাদ হোসেন ।

প্রবাস

‘বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া’ || মোদি শেখ হাসিনা বৈঠক
Published : 28.09.2014 08:34:35 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে থাকা দুই সরকার প্রধান শনিবার প্রথম বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে ভারত সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তিসহ দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলোর কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তিনি (মোদী) বলেছেন, ম্যায় রাস্তা নিকাল রা হু (আমি সমাধানের পথ খুঁজছি)।”শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) ‘ইকোনমিক করিডোরের’ ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থল যোগাযোগের অন্তরায়গুলো তুলে নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে মোদী ইতিবাচক সাড়া দেন।মোদী আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেন বৈঠকে উপস্থিত শহীদুল হক জানান। “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাউথ এশিয়া সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর কথা বললে তিনি (মোদী) বলেন, ‘সাবকো সাথ লেকে উন্নায়ন করানা হোগা (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে)। ওনার যে ‘লুক ইস্ট পলিসি’, তার মধ্যে এই জিনিসটা খুব প্রোমিনেন্টলি আসে।” “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে যোগাযোগগত যে সমস্যা আছে, সেটা তুলে ধরেছেন। সেটার আশু সমাধানের অনুরোধ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই তিন দেশ বা চার দেশের মধ্যে চলাচলের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা দরকার। উনি সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এ ব্যাপারে একটা নির্দেশও দিয়েছেন।”মঙ্গলে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোয় সম্প্রতি সফল হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইটের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সার্কের সদস্যভুক্ত সব দেশই এর সুবিধা নিতে পারবে।মোদীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি শিগগিরই শেখ হাসিনার এই আমন্ত্রণ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বগুণেরও প্রশংসা করেন। “তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া (বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু, আর তার কন্যা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন),” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নয়া দিল্লি সফরে গেলে তাকেও একই কথা বলেছিলেন চার মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মোদী।হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির কট্টর নেতা হিসেবে পরিচিত মোদী ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাই দিচ্ছেন।কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ভারতে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে তা নাকচ হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে থাকায় সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিতে পারেননি হাসিনা।শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সফরে এই হোটেলেই থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন গ্র্যান্ড হায়াৎ হোটেলে।শহীদুল হক বলেন, অত্যন্ত ‘আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ পরিবেশে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। উন্নয়নের শত্রু হিসেবে সন্ত্রাসকে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন। ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য নিয়ে যেতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মোদী। অটিজম নিয়ে কাজের জন্য শেখ হাসিনাকন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের প্রশংসাও করেন তিনি।বহুল আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “না, হয়নি। দুজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যখন আলোচনা হয়, তখন পলিসি লেভেলে হয়।”বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারও ছিলেন।মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা নেবেন শেখ হাসিনা।রোববার শেখ হাসিনার জন্মদিন। এদিন ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের সময় দেবেন তিনি।জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়বেন শেখ হাসিনা। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে ২ অক্টোবর ঢাকায় রওনা হবেন তিনি।

বিস্তারিত
শিকাগোতে জিয়ার নামে রাস্তা উদ্বোধন

আমেরিকার শিকাগোতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তা উদ্বোধন হয়েছে। আওয়ামী লীগের আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও ইলনয় স্টেটের শিকাগো শহরে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসেননি। রাস্তা উদ্বোধনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ অনুষ্ঠান করেন। সিটির ৬৮০০ নর্থ ক্লার্কের ওয়েস্ট প্রাট ব্লুভারের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৬৭৫০ নর্থ ক্লার্কের পশ্চিম কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ সড়কের উদ্বোধন করেন সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর পরিচালনায় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলডারমেন জোসেফ ম্যুর বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান।” জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেয়া শোক বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিশ্ব নেতা। শিকাগো শহরে বহু বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত নেতৃত্বের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক ছিল, যার ধারাবাহিকতা তার সহধর্মীনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অত্যন্ত খুশি। এর মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “আজকের এই দিনটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে আরেকবার স্বীকৃতি দিয়েছে গণতন্ত্রের চারণভূমি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আমরা গর্ববোধ করছি। এমন একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান একজন বিশ্ব নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সড়কের নামকরণ বাস্তবায়নে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিত তদারকি করেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেট থেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এসেছেন। শিকাগো শহরের বরেণ্য রাজনীতিকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সবার প্রতি আজকের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।” শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “ইতিপূর্বে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ ব্যক্তির নাম ফলক উন্মোচনে এত মানুষের সমাগম ঘটেনি। মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে ‘জিয়া মরে নাই’।” বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তার নামকরণ করায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও শিকাগো সিটি নেতৃত্বকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই শ্রদ্ধা জানানোয় বিএনপি নেতাকর্মী নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।” বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র একজন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এতে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত।” উদ্বোধনের পর শিকাগো শহরের নর্থ শোর ব্যাংকুয়েট হলে বিএনপি এক আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, শিকাগো বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শিকাগো সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম মনা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আবদুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসাইন বাবু, বাবর উদ্দিন, জাকির হোসেন হাওলাদার, শাহ মোসাদ্দেক মিন্টু, একে আজাদ, মো. আবদুল বাসিত, জসীম উদ্দীন ভুইয়া, কাজী আজম, আতিকুল হক আহাদ, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন, গিয়াস উদ্দিন, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাইদ আহমেদ, এবাদ চৌধুরী, রেজাউল আজাদ, আবদুস সবুর, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, শেখ হায়দার আলী, শাহাদত হোসাইন রাজু, হাদী, শাহ মোশাররফ, মো. ডুলো মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিকাগো বিএনপির নেতা জসীম উদ্দীন। শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বেবী নাজনিন। প্রসঙ্গত, শিকাগো সিটি কাউন্সিলে অনুমোদিত রাস্তার নামকরণের উদ্যোগ নিলে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা করা হয় তা ফেরানোর জন্য। এমনকি এর বিরুদ্ধে শিকাগোতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করলো। উল্লেখ্য, শিকাগোতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শেখ মুজিব ওয়ে, বিশ্ববিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ারের ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খানের নামে এফ আর খান ওয়ে ভারতের মহাত্মা গান্ধীসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুনিজনের নামে সড়ক রয়েছে।

আজ সেই ভয়াল ৯/১১

আরো দু’ দশটা দিনের মতই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের দিনটি শুরু হয়েছিল। ১৩ বছর আগের দিনটি ছিল মঙ্গলবার।দিনটিতে ঘঠে যাওয়া ঘঠনায় শুধূ আমেরিকাই নয় ,যেন পাল্টে গেছে পুরো বিশ্ব। ২০০১ সালের এ দিনটিতে জঙ্গী হামলায় মাটিতে মিশে যায় নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র।বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে পেন্টাগন পর্যন্ত জঙ্গীদের শাড়াশী বিমান হামলা। নিহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশী মানুষ।বিশ্বের সেরা দেশের কর্ম পাগল মানুষেরা দিনটি শুরু করেছিল নিত্যদিনের মত।টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্থাপনার উপর ছিনতাই করা যাত্রিবাহী বিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাতকরা।পর পর দুটি বিমানের ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।হলিউডের চিত্র নির্মতারাও এমন ধ্বংশ যজ্ঞের সিনেমা নির্মান করতে পারেননি।বাংলাদেশী শাকিলা-নুরুল দম্পতি নিহত হন বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের উপর জঙ্গী হামলায়।অভিবাসনের নগরী নিউইয়র্কে এ দিনটিতে নিহত হন ৬০টি দেশের লোকজন।অন্যান্যের মধ্যে নিহত হন বাংলাদেশী মুহাম্মদ সাদেক আলী,মোহাম্মদ শাহাজাহান,সাব্বির হোসেন,সালাউদ্দিন আহমেদ , আবুল কে চৌধূরী,নাভিদ হোসেন,ওসমান গণি এবং আশফাক আহমেদ। ঘঠনার তের বছর পর চলে গেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর বড় হওয়া প্রজন্মের কাছে এক ভিন্ন বিশ্ব বাস্তবতা।নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের ফিফ্থ এভিন্যু সংলগ্ন ’’ সাকিলা ইয়াসমিন এন্ড নুরুল হক মিয়া ৯১১ মেমোরিয়েল ” সড়ক পথে কেউ হয়ত থমকে দাঁড়ায়।জানতে চায় বাংলাদেশী এ দম্পতির কথা।২০০৫ সালে নিউইয়র্ক নগরীর পক্ষ থেকে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে নিহত হওয়া এ বাংলাদেশী দম্পতির নামে সড়কটির নামকরন করা হয়। টুইন টাওয়ারে,পেন্টাগনে হামলাকারীদের পরিচয় জানতে সেদিন বিলম্ব হয়নি।মাত্র ঊনিশ জনের একটি দল পরিকল্পনা করে এ হামলা চালায়।তিনটি বিমানই লক্ষ্যস্থলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।নিপুন পরিকল্পনার এ হামলার কথা আগাম ধারনাও করতে পারেনি বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা গোয়েন্দারা।মুসলমান পরিচয়ে এ আত্মঘাতী হামলাকারীদের ধংশজজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে আমেরিকার জঙ্গীবাদ বিরোধি যুদ্ধযাত্রার শুরু।আফগান, ইরাক হয়ে এ যুদ্ধ যাত্রা এখনো চলমান।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিহত হওয়া তিন হাজারের সংখ্যাটি এখন হতাহত মিলে লাখের সীমানা পেরিয়েছে।হামলার মূল পরিকল্পনার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছে।১৩ বছর পরও শেষ হচ্ছে না আমেরিকার যুদ্ধ যাত্রা। রাত ১০টার আগে ফিরতে পারবেন না বলে পুত্র কন্যার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কাজে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহাজাহান।আদরের কন্যা শিরিনকে কিন্টারগার্টেনে নামিয়ে দিয়ে গুডবাই বলেছিলেন।শেষ বারের মত বাবার বলে যাওয়া গুডবাই-এর স্মৃতি নিয়ে শিরিন বেড়ে উঠেছেন ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তি আমেরিকায়।ধংশ হয়ে যাওয়া বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে আবার । নির্মিত হয়েছে ফ্রিডম টাওয়ার।শাহাজাহান কন্যার মত মানুষের কাছে ফ্রিডম টাওয়ার ভিন্ন অর্থ বহন করে।টুইন টাওয়ারের ধংশস্তুপ থেকে সংগ্রহ করা পোড়া মাটি সংগ্রহ করে নিজের কাছে রেখেছেন শিরিন। এ মাটির দিকে তাঁকিয়ে শুধূ ১১ সেপ্টেম্বর নয়,গত ১৩টি বছর জনকের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে ম্যরিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের কিছু আগে আবার কোন কারন ছাড়াই নিউইয়র্কে ফিরে আসেন।কাজে যোগ দেন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উইন্ডোজ অব দ্যা ওয়ার্ল হোটেলে।ঘটনার দিন তাঁর নির্ধারিত কাজও ছিল না।সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে চিকিতসকের কাছে নেয়ার জন্য কাজ বদল করেছিলেন অন্য সহকর্মির সাথে।বিমান হামলার ধংশস্তুপে প্রাণ দেয়া সালাউদ্দিন দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেন নি।১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া ফারাকাত এখন ১৩ বছরের কিশোর।আমেরিকায় প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় নানাসব আনুষ্টানিকতার মধ্য দিয়ে।কিশোর ফারাকাতের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর, আর না দেখা বাবার নাম অনেকটাই সমার্থক।নিহত সালাউদ্দিনের বাল্যবন্ধু মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন,ম্যারিল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে ফিরে আসাটা সালাউদ্দিনের জন্য ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলতে হবে।

বাংলাদেশ

জেলে জামাই আদরে আছে আছেন নারায়নগঞ্জ আলোচিত ৭ মার্ডারের আসামীর্ যাব কর্মকর্তা তারেক সাইদ।
Published : 30.09.2014 05:32:04 am

আমাদের দেশের আইন আর বিচার ব্যবস্থার মাঝে এসছে এক অশুভ ছায়া। নারায়নগঞ্জ আলোচিত ৭ মার্ডারের আসামীর্ যাবের কর্মকর্তা জেলে আছেন জামাই আদরে। কারাগার কর্তৃপক্ষেও সাথে এমন একটি সাক্ষাতকার মানচিত্র নিউজের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল। সাক্ষাতকার টি দৈনিক যুগান্তরের।তার সঙ্গে কথোপকথন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল- যুগান্তর : আপনি কারাগারে তারেক সাঈদের কাছে টিভি-ফ্রিজ পৌঁছে দিয়েছেন? কিভাবে দিলেন? জামান : এটা আপনি কী বলছেন? কোথা থেকে এ খবর পেলেন? যুগান্তর : আপনার নাম তো জামান, তাই না? আপনি তো মন্ত্রী মহোদয়ের খুবই ঘনিষ্ঠ? জামান : হ্যাঁ, আমিই জামান। মন্ত্রী সাহেব আমার বাবার মতো। ১৫/২০ বছর ধরে আমি তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। আমি তার জন্য কয়েক দফা জেলও খেটেছি। যুগান্তর : আপনিই তো টিভি, ফ্রিজ পৌঁছে দিয়েছেন। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। জামান : থাকলে থাকতে থাকতে পারে... থাকতে পারে। কিন্তু আমি দিইনি। কোথাও আপনাদের ভুল হচ্ছে... (ফ্যাকাশে মুখে বারবার হাত বোলান)। যুগান্তর : আপনি দিয়েছেন। পুরনো ঢাকার একটি দোকান থেকে এসব সামগ্রী আপনি কিনে এনেছেন। জামান : ভাই, আপনারা কত তারিখের কথা বলছেন। যুগান্তর : কেন, ৭ জুলাই। জামান : সে সময় তো আমি দেশেই ছিলাম না। মালয়েশিয়ায় ছিলাম। যুগান্তর : কত তারিখে আপনি মালয়েশিয়া গেলেন? জামান : জুলাই মাসের ২৬ অথবা ২৭ তারিখ। যুগান্তর : কিন্তু ঘটনা তো ৭ জুলাইয়ের। তখন তো আপনি দেশে। জামান : ভাই, আমি জুলাই মাসেই দুবার বিদেশে গেছি। যুগান্তর : আরেকবার কত তারিখে গেছেন? জামান : আরেক বার... আরেকবার কত তারিখ যে গেলাম... এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে গিয়েছিলাম। এরপর তিনি আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান। কারাগারে টিভি-ফ্রিজ ঢোকানোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন রোববার তার কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ প্রথম শ্রেণীর বন্দি হিসেবে কারাগারে টিভি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তার সেলে ফ্রিজ বা অন্য কোনো উপকরণ থাকার কথা নয়। এ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী যুগান্তরকে বলেন, জেল কোড অনুযায়ী তার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা সেসবই তাকে দেয়া হচ্ছে। বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা তাকে দেয়া হচ্ছে না। ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহরণ হয়। পরে শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। ওই সময় র্যাব-১১ এর অধিনায়ক ছিলেন তারেক সাঈদ। ঘটনার পর তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন|

বিস্তারিত
মুখোমুখী অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ও শিক্ষামন্ত্রী

গন এ প্লাস আর অপেশাদার শিক্ষা ব্যবস্থার কারনে মুখ থুবরে পড়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। যার প্রতি ফলন ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায়। চলছে ভিসি সাহেবে আর মন্ত্রী সাহেবের দোষারোপ। মন্ত্রীর বানী পরীক্ষা পদ্ধতি সঠিক নয়। সমাজের মান্যগন্য ব্যক্তিদের ধারনা সঠিক প্রমানিত হল শিক্ষা ব্যবস্থায় ঘটেছে চরম সর্বনাশ। গতকাল প্রকাশিত ‘চ’ ইউনিটের ফলে মাত্র তিন ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর আগের ইউনিটগুলোতে ৯ থেকে ২০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনা তখন মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, এমন ফলের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষা পদ্ধতি দায়ী। এতে শিক্ষার্থীরা হেনস্তা হচ্ছে এবং তাদের হতাশা বাড়াচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বোর্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদরাও। গতকাল সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান কমেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছা করে শিক্ষার্থীদের ফেল করাচ্ছে শিক্ষার মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল এটা আমাদের বিষয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবে। শিক্ষার্থীদের হেস্তনেস্ত করতে ফেল বলে প্রচার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেমেয়েদের সর্বনাশ, হতাশাগ্রস্ত, নিরুৎসাহিত এবং বিদেশে তাদের অগ্রহণযোগ্য করার জন্য ওই ধরনের বাছাই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবেন না। শিক্ষামন্ত্রী এ বক্তব্যে কড়া সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এটা নিয়ে কখনও কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে আপনার (শিক্ষামন্ত্রী) পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ ওই পরীক্ষাগুলো থেকে ৮০ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে সহায়তা করে। ভিসি আরও বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি আরও আধুনিকায়নে আমরা চেষ্টা করছি। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা পরীক্ষা নিয়ে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে বির্তক করার কোন অবকাশ নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মানে গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি এটি তারই প্রমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ত্রুটি কোন জায়গায় আছে বিতর্ক না করে সেটা বের করতে হবে। ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করাটা সামগ্রিক শিক্ষার মানে নিয়ে উদ্বেগ হওয়ার মতো। এর সমাধানে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে। ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। বহু কষ্টে আজকের এ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি একটি পরিপূর্ণ নির্ভুল প্রক্রিয়া। শিক্ষামন্ত্রী এ ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কিছু ঘটনার কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে। তা উত্তরণের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যখন ছাত্র ছিলেন তখনও এ পদ্ধতি ছিল। ৩০-৪০ ভাগ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাস করতো। তারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়েও ভাল করতো। বর্তমানে শিক্ষার মানের দিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। এটার লক্ষণ ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা। শিক্ষাবিদ ও ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যেমন বিশ্লেষণ করা দরকার তেমনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নম্বর দেয়ার সময় উদারতা ছিল কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষা আরও আধুনিকায়নের চেষ্টা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদরা জড়িত। এটা কোনভাবে ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে না। উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মান যাচাই-বাছাই করার জন্য ভর্তি পরীক্ষা। সেখানে তারা পাস করতে পারছে না মানে আমাদের সামগ্রিক মান খারাপ সেটা বুঝে নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় নির্ধারণ হচ্ছে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্য কিনা। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলে জাস্টিফাই করতে চাইছেন। উচ্চ মাধ্যমিকে গণহারে পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়া সবাই মেধাবী। অতিরিক্ত জিপিএ-৫ পাওয়ার মাঝে কোন কৃতিত্ব নেই। কলা অনুষদের ডিন ও ‘খ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য দুঃখজনক। এটা ওনার কাছ থেকে আশা করিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেশের সেরা ভর্তি পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানের অবনতি হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে এসে শিক্ষার্থীরা ভাল করতে পারছে না। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয় অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অদ্বিতীয়। এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সারা দুনিয়া এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ভর্তি পরীক্ষায় পাস-ফেলের বিষয় নেই। যারা সেরা তাদের ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ও শিক্ষা গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে সত্য। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি ্ত্রুটিপূর্ণ। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে চলছে তা চলতে দেয়া যায় না। পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় ত্রুটি আছে বিষয়টি সে রকম না। ভর্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য শিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ণয় না, ভর্তির যোগ্যদের যাচাই করা। ভালদের মধ্যে থেকে অধিক ভালদের খুঁজে বের করা। সুতরাং এটা দিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার মান যাচাই করার কথা বলা যাবে না। তবে গণহারে ফেলের বিষয়টিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঢাবি ‘চ’ ইউনিটে ফেল ৯৭ শতাংশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ইউনিটে পাসের হার ৩.১০ শতাংশ। ফেল করেছে ৯৭ শতাংশ। রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে এই ফল ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন ও ‘চ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আবুল বারাক আলভী, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান। এ বছর ১৩৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭ হাজার ২২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২২৬ জন। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানা যাবে। উল্লেখ্য, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ৭টি কেন্দ্রে ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতি আর বেয়াদপ সমাচার।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পশ্চিম দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিপরীত দিকে মোটরচালক লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন ড. হাছান মাহমুদ। এসময় হাছান মাহমদুকে উদ্দেশ্য করে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, ওর মতো বেয়াদব আমি আর দেখি নাই। সে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ বেয়াদব। আমি এই বেয়াদবি আর সহ্য করবো না। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে এই বেয়াদবির বিচার দিয়ে গেলাম। ক্ষুব্ধ সাজেদা বলেন, “এখানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হবে না। এই জামায়াতি কায়দায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আওয়ামী লীগ অতীতে করেনি, এখনো আশা করিনি। সাজেদা চৌধুরী আরো বলেন, যখন লাশ পড়েছিল তিন দিন। কেউই ছিল না। প্রতিবাদ করেনি। এখন অনেকেই নেতা বনে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচার শুরু করেছে। তিনি হাছানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি কে? কী ছিলেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন? আমি জানি। কিভাবে উনি নেতা হয়েছেন তাও জানি। ‘এই ধরনের আস্ফোলন আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি’ উল্লেখ করে সাজেদা আরো বলেন, এখন নতুন নতুন নেতার জন্ম হচ্ছে, তারা বেয়াদবি শুরু করেছে। - বক্তব্য শুরু করতে গিয়ে সাজেদা চৌধুরী অপর প্রান্তের মাইকের বিকট আওয়াজে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলেন। এ সময় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ড. হাছান মাহমুদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এসব কথা বলেন। সাজেদা হাছান মাহমুদের উদ্দেশে বলেন, এখানে পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠান আমি আশা করিনি। এখানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হবে না। এই জামায়াতি কায়দায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আওয়ামী লীগ অতীতে করেনি। এখনও আশা করেনা। এধরনের আস্ফালন তার রাজনৈতিক জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন নতুন নতুন নেতা জন্মে বেয়াদবি শুরু করেছে। এ বেয়াদবি আমি সহ্য করবোনা। তাকে একটু সংবরণ করতে বলবো। তিনি হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি কে? আগে কি ছিলেন? তা আমি জানি। কিভাবে উনি নেতা হয়েছেন, রাজনীতিবিদ হয়েছেন তাও আমার জানা আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় উনি কোথায় ছিলেন?

ভিডিও