জর্জিয়ার খবর

জর্জিয়ায় উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত
Published : 31.07.2014 12:44:24 pm

এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের সাথে জর্জিয়ার মুসলমানরাও যথাযথ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে গতকাল ২৮ জুলাই সোমবার এদিনটি উদযাপন করে। নন ইসলামিক দেশ আমেরিকাতে স্থায়ী কোন ঈদের ময়দান না থাকাতে ভাড়া করা বিভিন্ন কম্যুনিটি সেন্টার ও মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বরাবরের মতো এবারও জর্জিয়ার কেন্দ্রিয় মসজিদ আল –ফারুক মসজিদ অব আটলান্টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দু'টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে সকাল সাড়ে আটটায় ও সকাল সোয়া ন'টায়। সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডাউন টাউন আটলান্টা থেকে ৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত নর্থ আটলান্টা ট্রেড সেন্টারে । সেখানে পর পর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে সকাল আটটা, পৌনে নয়টায় ও সোয়া ন’টায়। এর পর পর অন্যান্য যেসব স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয় তা হলো, জর্জিয়া ইসলামিক ইনইন্সটিটিউট জামে মসজিদ লরেন্সভিলে দু'টি সকাল সাড়ে আটটায় ও সোয়া ন'টায়, ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটন আলফারাটা সকাল সাড়ে আটটা ও সকাল সাড়ে ন'টায় দুটি জামাত, ইবাদুর রহমান দাওয়াহ্ সেন্টার মেরিয়াটা সকাল সোয়া ন'টায়, আটলান্টা মসজিদ আল ইসলাম সকাল সাড়ে আটটায়, মসজিদ আল মুমিন ক্লার্ক স্টোন সাড়ে আটটায়, আত তাকওয়া মসজিদ ডোরাভিল সাড়ে আটটা ও সাড়ে ন’টা, ইবাদুর রহমান মসজিদ ম্যরিয়াটা সকাল সোয়া ন’টা , রজোয়েল কম্যুনিটি জামে মসজিদ রজোয়েল সকাল ন’টা ও সাড়ে ন’টা , মসজিদ আবু বকর বিউফোর্ড হাইওয়ে আটলান্টায় সকাল ৮টা ও সোয়া ন’টায় দুটি জামাত , গ্লোবাল মল মিলায়তনে সকাল আটটা ও সোয়া ন’টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকায় মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবে কোন ছুটি-ছাটার ব্যবস্থা না থাকলেও প্রতিটি জামাতস্থল ছিল মুসল্লীদের উপচে পড়া ভীড়। মুসলমান নারিরাও ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করে। প্রায় প্রতিটি স্থানেই একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এবছরের পুরো রোজার মাসটি স্কুল- কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রীষ্মকালিন অবকাশ থাকায় স্কুল-কলেজ পড়ূয়া মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দ-উৎসাহের মধ্যদিয়ে রমজান পালন ও ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছে বলে জানা যায়। প্রতিটি ঈদ জামাতে দুনিয়ার সুখ, শান্তি ,স্বস্তি আর আখেরাতের মুক্তি কামনা করে মহান আল্লার দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিস্তারিত
জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত

গত ৭ জুলাই সোমবার জর্জিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্থানীয় লিলবার্ণ ক্যাফে এন্ড গ্রীলে। জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মাওলা দিলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঞ্চালনে আলোচনা সভা শুরু হয় মাহে রমজানের ইফতার ও দোয়া মাহফিলের প্রায় দুই ঘন্টা পূর্বে । জর্জিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন বর্ষীয়ান নেতা ও ঐক্য মতের সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ মোল্লা ও আজিজুর রহমান জর্জিয়া আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনের সর্বশেষ বিষয় সকলকে অবহিত করেন । তারা জানান অচিরেই জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করনের দিন ক্ষণ জানানো হবে । এ বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দের সাথে ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন । তারা আরো জানান আমরা সম্মেলন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা : মুহাম্মদ আলী মানিক ও জনাব আলী হোসেনের সাথে আলোচনা করে কোনো আশানুরূপ সহায়তা পাইনি এবং আসন্ন সম্মেলনে তাদের সহায়তা ও কামনা করছি । আমরা এখনো আশাবাদী উনারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে সম্মেলন সম্পন্ন করনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবেন । আমরা চাই জর্জিয়াতে একটি ঐক্যবদ্দ সম্মেলন উপহার দিয়ে জর্জিয়া আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে । উম্মুক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেদী সাদেক , ইসতিয়াক আহমেদ জুলু ,জনাব মশিউর রহমান চৌধুরী ,মাহতাব হোসেন,নাসির মাওলা ,ইমদাদ হোসেন,মুকুল হোসেন ,আরিফ হোসেন ,মোশাররফ হোসেন , এ এইচ রাসেল ,রইচ উদ্দিন , আলী খান,আলী হোসেন ,আহমেদ চুন্নু ,গোলাম মহিউদ্দিন,ফরহাদ হোসেন ,ফারুক হোসেন প্রমুখ । অসুস্থতার কারণে সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির অপর সদস্য গোলাম রহমান উপস্থিত হতে পারেননি । দেশ ও দুনিয়ার মঙ্গল কামনায় ও মহান আল্লাহ তালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইফতার পূর্ব দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জনাব আজিজুর রহমান । ইফতারের পর সকলে নৈশ ভোজে মিলিত হন ।

জর্জিয়া আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল ৭ জুলাই সোমবার

আগামী ৭ জুলাই সোমবার আটলান্টার ৯০০ ইন্ডিয়ান ট্রেইল রোড, লিলবার্ন, জর্জিয়া ৩০০৪৭ ঠিকানাস্থ লিলবার্ন ক্যাফে রেস্টুরেন্টে জর্জিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক ঈফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। জর্জিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি এম মওলা দিলু ও সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমান সাক্ষরিত উক্ত ইফতার মাহফিলের আমন্ত্রণ লিপিতে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য মুসলমান এই পবিত্র রমজান মাসে তাঁদের সিয়াম সাধনার মাস হিসেবে রোজা পালন করে আসছে। এই রোজা আমাদের ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। কাজেই আমাদের এখনি সময় এই পবিত্র মাসে নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে রমজানকে যথার্থভাবে আত্মস্থ করা। উক্ত ইফতার মাহফিলে দলমত নির্বিশেষে আপনার সদয় উপস্থিতি পবিত্র রমজান মাসে আমাদের এই উদ্যোগকে সার্থক করবে।

প্রবাস

ভারতে বাংলাদেশি মুসলমান অভিবাসীরা বৈষ্যম্যের শিকার
Published : 31.07.2014 06:09:49 pm

ভারতের মধ্যপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তারা অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশীকে তাদের রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ও নাগরিকত্বর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এদের প্রায় সকলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ত্রিপুরার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্য জানিয়েছে, তারা গত পাঁচ বছরে প্রায় আট হাজারের মতো কথিত বাংলাদেশি‘অনুপ্রবেশকারী’-কে ফেরত পাঠিয়েছে, যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশই মুসলিম। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই সব তথ্য সামনে এসেছে, তবে এই মামলায় এখনও দেশের বেশির ভাগ রাজ্যই তাদের পরিস্থিতি জানায়নি। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে তাদের নীতি যে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে, ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সে কথা কখনওই গোপন করেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মাস কয়েক আগেই বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় বারে বারে বলেছেন, ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসবেন সেই হিন্দুদের জন্য ভারতের দ্বার অবারিত থাকবে। কিন্তু অন্যরা অনুপ্রবেশকারী বলে গণ্য হবেন, এবং তাদের ফেরত পাঠাতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর থাকবে। ভারতের এমন কী, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের চাপ যে শুধু আসামের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যকেই সামলাতে হবে না, বরং সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে, ফেব্রুয়ারি মাসে শিলচরে এক জনসভায় সে কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন মি মোদী। তিনি সেদিন বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দুদের খেদিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের বোঝা শুধু যদি আসামকে ওঠাতে হয় তাহলে সেটা অন্যায় হবে। “সারা ভারতে তাদের রুটিরুজি, বাচ্চাদের পড়াশুনো আর জীবনধারণের ব্যবস্থা করা গেলে আসামের সমস্যার যেমন সমাধান হবে, তেমনি বাংলাদেশে দুর্দশার শিকার হচ্ছেন যারা তারাও সুরাহা পাবেন,” বলেন নরেন্দ্র মোদী। মোদীর সেই বক্তৃতার পাঁচ মাসের মাথায় এসে জানা যাচ্ছে, মধ্যপ্রদেশের মতো কোনও কোনও বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলাদেশী হিন্দুদের পুনর্বাসনের সেই প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। মধ্যপ্রদেশ মডেল স্বজন ও বিমলাংশু রায় ফাউন্ডেশন নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মধ্যপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে হলফনামা জমা দিয়েছে, তা থেকে জানা যাচ্ছে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এরই মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো বাংলাদেশীকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলো হল মান্দসওর, বেতুল, দেওয়াস, মোরেনা ও খান্ডওয়া। হলফনামায় তাদের ধর্ম নিয়ে কিছু বলা হয়নি, তবে রাজ্য সরকারের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে এদের মধ্যে একজনও মুসলিম নেই। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী শুভদীপ রায় বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে সে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো বাংলাদেশীকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। “এরা কৃষিজমি পেয়েছেন, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সবচেয়ে বড় কথা তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে,” তিনি বলেন। “দুয়েকটি জেলায় রেশন কার্ড দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে,” মি: রায় বলেন। সোজা কথায়, বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশে বাংলাদেশি হিন্দুরা পুরাদস্তুর একটা পুনর্বাসন প্যাকেজ পেয়েছেন। অথচ একই মামলায় বামপন্থী-শাসিত ত্রিপুরার হলফনামা বলছে, গত পাঁচ বছরে তারা ৭,৭৩৫ জন কথিত অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫,০২২জনই মুসলিম। উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্য আবার বলেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২৮জন বাংলাদেশি তাদের রাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস করছেন। উত্তরাখন্ড দাবি করছে তাদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা শূন্য। ওই মামলায় দেশের মোট ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে পক্ষ করা হলেও এযাবৎ মোটে চারটি রাজ্যই বাংলাদেশিদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। কিন্তু আগামী জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত শুনানির সময় সব রাজ্যকেই তাদের পরিস্থিতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। ভারতে বাংলা্দেশি হিন্দুরা ঠিক কতটা আতিথেয়তা পাচ্ছেন এবং মুসলিমদের ক্ষেত্রে কতটা বৈষম্য করা হচ্ছে, সেই পূর্ণাঙ্গ ছবিটা সম্ভবত তখনই স্পষ্ট হবে। ।

বিস্তারিত
ইফতার পার্টি রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করছে নাতো ?

রহমত, মাগফেরাত এবং নাজাত সম্মৃদ্ধ বরকতময় রমযান মাস অতিবাহিত হচ্ছে । মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে তার সকল রোযাদার বান্দাহের প্রতি করুনার ফল্গুধারা বর্ষিত হচ্ছে । রমযানের প্রত্যেকটি নেক আমলের সওয়াব স্বয়ং স্রষ্টা কয়েকগুন বৃদ্ধি করে দেন । আল্লাহ তায়ালা হাদীসে কুদসীতে ঘোষণা করেছেন , ‘রোযা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজ হাতে দিব’ । রমযান মাসের মর্যাদার কোন সীমা পরিসীমা নেই । এ মাসে যেমন অতীতেকৃত গুনাহ থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় তেমনি অগণন সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায় । প্রত্যেকটি আমল তার পূর্বেরকার আমলের চেয়ে ককেগুন বেশি তাৎপর্য বহন করে । রোযা মানুষকে সকল ধরনের পাপাচার থেকে বিরত রাখে । এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলায়িত করা হয়, রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং রমযান মাসে আল্লাহ তায়ালা তারা বান্দাহদেরকে অবারিত সুযোগ দান করেন । আল্লাহর দেয়া সে সুযোগ যারা গ্রহন করে তারা আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিতে পরিনত হয় আর যারা নিজেদের কপটতা প্রদর্শন করার জন্য আল্লাহর সাথে শত্রুতা পোষণ করে আল্লাহও তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেন এবং তাদের প্রতি আল্লাহর লানত পতিত হয় । রোযা পালনের মাধ্যমে যেমন শারীরীক উপকার সাধিত হয় তেমনি আত্মিক পবিত্রতা অর্জিত হয় । রোযা মানুষকে পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং অধিক সওয়াব হাসিলের সুযোগ করে দেয় । সেহরি থেকে শুরু করে ইফতার গ্রহন আবার ইফতার গ্রহন থেকে শুরু করে সেহরি গ্রহন পর্যন্ত প্রতিটি সৎ কাজেই মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত প্রাপ্ত হয় । দিনে পানাহার থেকে বিরত এবং রাতে আল্লাহর স্মরণে নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যে অসংখ্য ফায়দা লুকায়িত । রোজার মাসে যে সকল কাজের মাধ্যমে অধিক সওয়াব হাসিল করা যায় তার মধ্যে অন্য রোযাদারকে ইফতারি করানো অন্যতম । হাদীস শরীফে মানবতার মুক্তির দুত, সর্বশ্রেষ এবং সর্বশ্রেষ্ট রাসূল, নবী-রাসূলদের সরদার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ঘোষণা করেছেন, কোন রোযাদার ব্যক্তি যদি অন্যরোযাদার ব্যক্তিকে ইফতার করায় হোক সে একটি খুরমা দ্বারা কিংবা এক গ্লাস পানি দ্বারা তবে সে ব্যক্তি ঐ রোযাদার ব্যক্তির সমপরিমান সওয়াকের অধিকারী হবে। তবে যে ব্যাক্তিকে ইফতার করানো হবে তার সওয়াব থেকে সওয়াব কমানো হবে না’। সুতরাং সকল রোযদার ব্যক্তি রোযার মাসে অন্য রোযাদারদের ইফতার করানোর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ঘোষিত সওয়াবের মালিক হতে চায় । আমাদের সমাজে এ মহিমান্বিত হাদিসখানা বাস্তবায়ণ করার অনেক ধরনের পন্থা লক্ষ করা যায় । এসকল পন্থার মধ্যে কিছু পন্থা ইসলাম আদৌ সমর্থন করে কিনা তা নিয়ে ধর্ম বিশেষজ্ঞদের সংশয় প্রকাশ পরিলক্ষিত হয় । ছোটবেলায় দেখেছি, বিশ রমজানের পরে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াতের ধুম পড়ে যেত । বিশেষ করে শ্ববে-ক্বদরের দিন বিকেলে প্রায় সব পরিবারেই ইফতারীর দাওয়াত থাকত । সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়লেও মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবকে সমস্যায় পড়তে হত । কেননা রমযান মাসে প্রতিদিন তার একাধিক বাড়িতে দাওয়াত থাকত । ইমাম সাহেব সবার সন্তুষ্টি রক্ষা করার জন্য কারো বাড়ীতে ইফতার, কারো বাড়িত রাতের খাবার আবার কারো বাড়িতে সেহরী খেতেন । যেদিন এভাবেও সিডিউল মিলাতে পারতেন না সেদিন অসুস্থতার বাহানা করে নিজ বাড়ীতেই ইফতার করতেন । তবে বর্তমানে ইমাম সাহেবরা এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন । গ্রামের সে ঐতিহ্যবাহী সান্ধ্যকালীন মিলাদ দোয়া-কালাম পাঠের প্রথা এবং অনেকগুলো পরিবারের সবাই একসাথে বসে ইফতারী করার প্রচলন প্রায় উঠে গেছে । এখন আর ইমাম সাহেবকে রমযান মাসে এ বাড়ি ও বাড়ি দাওয়াত খাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হয় না বরং এলাকাবাসী যে যার তাওফীক অনুযায়ী মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । গ্রামের এ প্রথা থেকে শহরের প্রথা সম্পূর্ণ ভিন্ন । গ্রামে যেরকম দোয়া-কালামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত সেভাবে শহরে দেখা যায় না । শহরে আয়োজন করার হয় বর্ণিল ইফতার পার্টির । রাজনৈতিক নেতারা থেকে শুরু করে শহরের মজুর শ্রেণী পর্যন্ত সকলের অনুষ্ঠানের মানভেদে একই ঘারানার আয়োজন । বাহারি খাবারের পশরা সাজিয়ে আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে পাশাপাশি ডাইনিং টেবিলে ডজন ডজন চেয়ারে বসে ইফতার পার্টি । সারা শহর খুজলেও গ্রামের মত পাটি বিছানো অবস্থার কাউকে ইফতারী করতে দেখা যায় না। শহরে রাজনৈতিক দলগুলোকেই বেশিরভাগ ইফতার পার্টির আয়োজন করতে দেখা যায় । ইফতার পার্টির সবচেয়ে বড় আকর্ষন মিডিয়া কভারেজ । বিভিন্ন মিডিয়ায় ইফতার পার্টির খবর প্রচার-প্রকাশ করার ব্যবস্থা করা হয় । কোন দলের ইফতার পার্টিতে বেশি লোক হয়েছিল তা নিয়ে হম্বিতম্বি আরও কত কী ? যে সকল নেতারা সমাজের নিচু স্তরের লোকদের বছরেও একবার খোঁজ নেন না তাদেরকেও ঘটা করে ইফতার পার্টিতে নিয়ে আসা হয় । শুধু অসহায়দেরকেই নয় বড় বিত্তবানসহ সকলেই পালাক্রমে ইফতার পার্টিতে আমন্ত্রিত হন । এ ইফতার পার্টির পিছনে বিভিন্ন প্রকার উদ্দেশ্য থাকলেও সওয়াব অর্জনকেই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয় ! শরীয়তের অন্য কতগুলো বিধানের মত নামাজ,রোযা এবং পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে । ইফতার করা সুন্নাত । আমাদের সমাজে বিশেষ করে শহুরে সমাজে দেখা যয় শরীয়তের তিনটি হুকুমকে অমান্য করে সুন্নাত পালনের জন্য মানুষ উম্মত্ততায় ভোগে । রোযাদার নারী-পুরুষ যদি পর্দাসহকারে ইফতার পার্টিতে যোগদান করতে পারেন তবে সেটাই উত্তম । আর যদি ইফতার পার্টির নামে পর্দা প্রথার অবমাননা হয় তবে সে ইফতার পার্টির ন্যূনতম মূল্য আছে কিনা সেটা ভেবে দেখা আবশ্যক। তবে হ্যা এ ইফতার পার্টি দ্বারা দুনিয়ার কিছু স্বার্থ অর্জিত হতে পারে তবে সেটা আখেরাতের জন্য নয় । অনেক রোযাদার ভাই-বোনকে দেখা যায় ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহন করে মাগরিবের নামায পড়ার সুযোগ পাননা কিংবা ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দেন । তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয়ার পাপ সারা জীবন ইফতার পার্টিতে যোগদান কিংবা ইফতার পার্টিতে হাজার হাজার মানুষকে নিমন্ত্রন করে খাওয়ালেও মোচন হবে না । কাজেই এ ব্যাপারে মুসলমানদের যথেষ্ট সচেতনতার দাবী রাখে । ইফতার পার্টিতে যদি রমযানের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাতে তবে সে পার্টি এড়ানো ফরজ তবে যদি শরীয়ত বর্জিত কোন কাজ না হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে তবে সে পার্টিতে অবশ্যই সওয়াব হবে এবং আমন্ত্রন পেলে সে ইফতার পার্টিতে শরীক হওয়াও জরুরী । রোযা যদি শুধু না খেয়ে থাকার নাম হয় তবে মানুষ ছাড়াও বিশ্বের অনেক প্রাণী রোযা রাখে । আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কেবল না খেয়ে থাকার নাম রোযা নয় বরং এটাকে উপোস বলা যেতে পারে । রোযার সংজ্ঞায় ইসলামিক স্কলারবৃন্দ বলেছেন, সূর্যোদয়ের পূর্ব থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই রোযা । কাজেই এ নির্দিষ্ট সময় ভূখা থাকার সাথে সাথে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রতঙ্গকেও পাপ কার্য থেকে বিরত রাখতে পারলেই শরীয়তের বিধানানুযায়ী রোযার হুকুম পালন হবে । সারাদিন না খেয়ে থেকে অনর্গল মিথ্যা কথা বলা কিংবা ফরজ নামাজ ছেড়ে দেয়ার নাম রোযা নয় বরং এটা কেবল শরীরকে কষ্ট দেয়ার নামান্তর । এ প্রকার রোযার মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালন হয়না কিংবা এ দ্বারা সওয়াবের অধিকারী হওয়ার আশা করা যায় না । সুতরাং প্রতিটি মুসলমান রোযাদার নর-নারীর উচিত শরীয়তের বিধানাবলীকে পুঙ্খানূপুঙ্খরুপে পালন করা এবং যে কাজে পাপ হয় তা থেকে যথাসাধ্য বিরত থাকা । আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দ্বীনের বুঝ দান করুন । রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার তওফীক দিন এবং রমজানের সকল ফায়েদার মালিক যেন আমরা প্রত্যেকেই হতে পারি তার জন্য যথাযোগ্য চেষ্টার মানসিকতা তৈরি করি । রমযানের রোযা পালনের মাধ্যমে যেন আমরা ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তিলাভ করতে পারি । আল্লাহ আমাদেরকে শারীরীক এবং মানসিকভাবে সুস্থ রাখুন যেন আমরা রমযানমাস জুড়ে তার সকল আদেশ নিষেধ পালন করতে পারি ।

কুয়েতে বাংলাদেশ কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইফতার মাহফিল

কুয়েতে প্রবাসি ও বিদেশি অতিথিদের সম্মানার্থে বাংলাদেশ কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রমজান শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। কুয়েতে রিগাইস্থ রামাদা হোটেলে ৫ জুলাই শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুয়েত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী সংস্থার চেয়ারম্যান হামুদ আল রুমি। সংগঠণের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুল আলম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুয়েত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আদেল আল দামখি, কুয়েত ধর্ম মন্ত্রনালয়ের ইমাম ও খতীব নাসের আল আতিকী। অনুষ্ঠানে কোরআন-হাদিসের আলোকে রমজান শীর্ষক আলোচনা করেন মাওলানা আব্দুর রব, ডঃ আমান, প্রকেৌশলী মোসত্মাকুল হাসান খান প্রমুখ। সেই সময় কুয়েতের বিভিন্ন আরবী সংস্থার বেশ কয়েকটি দেশের প্রধানসহ কুয়েত প্রবাসি সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ

খুলনা ও সুনামগঞ্জে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ
Published : 31.07.2014 10:53:22 pm

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একই দিনে পৃথক পৃথক স্থানে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্শণের দুটি সংবাদ পাওয়া গেছে। ৩১ জুলাই- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে দুর্বৃত্তরা গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ধর্ষিতার স্বামী জানান, তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের লামা পারকুল গ্রামে। তারা ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এক ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার রাতে টেম্পুতে গোবিন্দগঞ্জ যাওয়ার পথে কালারুকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ৪ দুর্বৃত্ত তাকে মারধর করে তার স্ত্রীকে ছিনিয়ে নেয়। পরে রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যালয়ের দরজা ভেঙে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তারা। এ সময় ধর্ষিতার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ছাতক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজীব চক্রবর্তী জানান, ওই গৃহবধূর শরীরে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায়। ঈদের একদিন পর গভীর রাতে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার খড়িয়া গ্রামে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডুমুরিয়া থানার ওসি এম মশিউর রহমান জানান, স্থানীয় একটি ইটভাটার নৈশপ্রহরী মুনসুর আলী গোলদার এবং শ্রমিক আশীষ মণ্ডল ও মনিরুল ইসলামকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিতার স্বামী ইব্রাহিম গাজী। মামলার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, শেষ রাতের দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ইব্রাহিমের বাসার দরজা খুলতে বলে মুনসুর, আশীষ ও মনিরুল। কিন্তু ডাকাডাকিতে সাড়া না দেয়ায় দরজা ভেঙে তারা বাসার ভেতরে ঢোকে। “পরে ইব্রাহীম ও তার দুই শিশু সন্তানকে বাসা থেকে বের করে পাশের একটি বাগানে ধারালো অস্ত্রের মুখে আটকে রাখে আশীষ। আর মনিরের উপস্থিতিতে মুনসুর বাসার ভেতর ইব্রাহিমের স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ওসি জানান, ইব্রাহিম গাজীর স্ত্রীর চিৎকারে আশেপাশের লোক ছুটে এলে মুনসুর ও মনির পালিয়ে যায়। তবে বাগানের ভেতর থাকা আশীষকে আটক করে জনতা মারধর করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় ইব্রাহিম বুধবার গভীর রাতে মুনসুর, আশীষ ও মনিরের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্ত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয় বলে জানান ওসি।

বিস্তারিত
সরকার পতন আন্দোলনে শরীক হচ্ছে না জামায়াত

ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে না জামায়াত। ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনে নামা হবে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের এমন হুংকারকে পাত্তা দিচ্ছে না জামায়াত। বরং বিএনপির এমন হুংকার নিয়ে রসিকতা করছেন দলটির নেতারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান নির্বাহী পরিষদের সদস্য এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, কি নিয়ে আন্দোলন করবে বিএনপি? এক মহানগর কমিটি মাত্র ঘোষণা করল। সেখানেও চলছে মতবিরোধ। এছাড়া অন্য কোন সহযোগী সংগঠনের কমিটি নেই। ত্যাগী নেতা নেই। এই অবস্থায় বিএনপির উপর আর ভরসা করতে রাজি নয় জামায়াত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতায় ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফল হয়নি। যার কারণে সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার সাহস পেয়েছে। তার মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা যে দলের নেই তাদের দিয়ে নির্বাচিত একটি সরকারের পতন ঘটানো ‘আষাঢের গল্প’ ছাড়া আর কিছু না। ঈদের পর আন্দোলনে জামায়াতের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর দেন, বর্তমান পরিবেশ জামায়াতের জন্য স্থিতিশীল। এই পরিবেশ গায়ে পড়ে কেন নষ্ট করবো? তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি পর সরকার এখন পর্যন্ত আমাদের ক্ষতির কারণ হয়নি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পর অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে দলের মধ্যে, এমন দাবিও করেন তিনি। ঢাকা মহানগর জামায়াতের একজন নায়েবে আমির নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের সঙ্গে লিয়াজো রক্ষা করছে বিএনপি এমন নেতাদের দিয়ে আর যাই হোক সরকার পতন হবে না। তার দাবি, বিএনপির হারানোর কিছু নেই। তারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু জামায়াতের একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কাদের মোল্লার একজন নেতাকে হারাতে হয়েছে। দ্বিতীয় বার একই ভুল করে আর কোন নেতাকে হারাতে চায় না তারা। আন্দোলনে মাঠের জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতের এই নীরবতায় ব্যাপক অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে বিএনপিতে। ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনে রোড ম্যাপ ও আন্দোলনের ছক নির্ধারণে জামায়াতকে বারবার ডাকা হলেও তারা কোন সাড়া দেয়নি। এমনকি রমজান মাসে জামায়াত প্রকাশ্যে কয়েকটি ইফতার অনুষ্ঠান করলেও সরকার বিরোধী হুংকার দিতে দেখা যায়নি দলটির কোন নেতার। সম্প্রতি জামায়াতের এমন আচরণে বিএনপি হাইকমান্ড চরমভাবে অসন্তুষ্ট। দলটি স্থায়ী কমিটি একাধিক সদস্যকে দিয়ে জামায়াতকে বাগে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন খালেদা জিয়া। কোন মতেই ঈদের পর আন্দোলনে নামতে রাজি হয়নি দলটি। সর্বশেষ সদ্য গঠিত ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসকে দিয়ে জামায়াতকে বাগে আনার চেষ্টা করে চালাচ্ছে বিএনপি। কারণ জামায়াতের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ দিনের সখ্যতা রয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সব মিলিয়ে ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনে মাঠে নামতে নারাজ জামায়াত। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে দলটির।

রাজশাহীতে পর্ণ্যেগ্রাফি ভিডিও তৈরীর অভিযোগে কলেজ ছাত্র আটক

রাজশাহীতে একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পর্ণ্যেগ্রাফি ভিডিও তৈরীর অভিযোগে খালেকুজ্জামান নামে এক কলেজ ছাত্রকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তার কাছ একটি ল্যাপটপ, কয়েকটি ডিভাইস ও মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটক খালেকুজ্জামান রাজশাহী কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র এবং নওগাঁর মান্দা থানার তুলসিরামপুর গ্রামের ইউনুস আলী ছেলে। আটককৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খালেকুজ্জামান রাজশাহী ইনফরমেশন এন্ড হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল রেড ক্যাসেলে উঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে যে ওই হোটেলে পর্নোগ্রাফি তৈরি করা হচ্ছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল হোটেল রেড ক্যাসেলের ২০৭ নম্বর কৰে অভিযান চালায়। সেখান থেকে খালেকুজ্জামান ও আইএইচটি’র ওই ছাত্রীকে আটক করে। এসময় আটক ছাত্রের ল্যাপটপ তলস্নাশি চালিয়ে তাদের ধারনকৃত পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করে। আটক কলেজ ছাত্র খালেকুজ্জামান জানান, ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে নওগাঁয় তার বিয়ে হয়। তার ১০ মাসের একটি সনৱান রয়েছে। মাস ছয়েক আগে ট্রেনে যেতে গিয়ে আইএইচটি’র ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে দু’জনে ভালোবাসা হয়ে যায়। ভালোবাসার সুযোগে সোমবার রাতে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলনের ভিডিও সে গোপনে ধারন করে। এদিকে, পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে দুইজনকে আটকের পর তাদের ছেড়ে দিতে তিন লাখ টাকার প্রসৱাব দেয় ডিবি পুলিশ। পুলিশ আটক ছাত্রীকে রাজপাড়া থানা ও কলেজ ছাত্রকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রাখা হয়। কিন’ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে মঙ্গলবার দুপুরে আটককৃতদের পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। রাজশাহী মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহম্মদ জানান, খালেকুজ্জামানের ল্যাপটপে ধারন করা ভিডিও দেখে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। রাজশাহী ইনফরমেশন এন্ড হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ওই ছাত্রীকে পুলিমের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ভিডিও