জর্জিয়ার খবর

আটলান্টা থেকে শুরু হলো আরেকটি অন লাইন নিউজ পোর্টালঃ শনিবারের চিঠি
Published : 23.11.2014 09:03:23 am

আটলান্টা থেকে শুরু হলো আরেকটি অন লাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল । শনিবারের চিঠি বা উয়িকলি স্যাটারডে নামের এ নিউজ পোর্টালের সম্পাদনা করছেন বিশিষ্ট লেখক; সাহিত্যিক সাংবাদিক সিকদার মনজিলুর রহমান। এ উপলক্ষে গতকাল বেলা ১২টায় স্থানীয় লিলবার্ণ ক্যাফে এন্ড গ্রীলে এক আড়ম্বর পূর্ণ অনুষ্ঠানে ল্যাপটপে বাটন টিপে এর শুভ যাত্রা শুরু করে সম্পাদকের মেয়ে ইউনিভাররাসিটি অব জর্জিয়ার ছাত্রী মেহবুবা রহমান মিমি। পোর্টালের শুভ কামনায় নাতি দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন জর্জিয়া থেকে প্রকাশিত আরেকটি নিউজ পোর্টাল জর্জিয়া বাংলার সম্পাদক রুমি কবির, আটলান্টার সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা ধারার কো অডিনেটর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবর রহমান ভুঁইয়াসহ আরো অনেকে। অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম গাজী, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সহসভাপতি রণজিৎ বিশ্বাস,ফটো সংবাদিক জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী হোসেন, বিশিষ্ট লেখক মোহাম্মদ শরীফ ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমদাদুল ইসলাম এমদাদ, রাজনীতিবিদ মোস্তফা জাহিদ টিটু, সাংবাদিকের ছেলে ক্ষুদে কবি সিকদার আশিকুর রহমানসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান চলাকালে পোর্টালের শুভ কামনা করে লস এঞ্জেলস থেকে টেলিফোনে বার্তা পাঠান বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক বুলবুল সিনহা, এ ছাড়াও নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানার স্থানীয় প্রতিনিনিধি সামসুল আলম চৌধুরি, বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি বশীর আহমেদ। পোর্টালের সম্পাদক জনাব মনজিলুর রহমান জানান,জাতীয় , আন্তর্জাতিক সব খবরাখবর আবডেট হবে প্রতিদিন । সাহিত্য-সাংস্কৃতির পাতা আবডেট হবে প্রতি শনিবার । তাই পোর্টালের নাম করণ করা হয়েছে শনিবারের চিঠি বা উয়িকলি স্যাটারডে। আপ্যয়ণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানে।

বিস্তারিত
যুক্তরাষ্টের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ায় রিপাবলিকান ড্যাভিড পারডু ও ন্যাথান ডেল বিজয়ী

রিপাবলিকানদের ঘঁটি বলে পরিচিত জর্জিয়ায় রিপাবলিকানরা আবারও প্রমাণিত করল তাদের একাত্বতা। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি তাদের সংখ্যা গরিষ্টতা প্রতিষ্ঠা করে তাইই প্রমাণ করেছে। সিনেট , গভর্ণর, হাউজে প্রত্যেক স্থানেই তারের বিজয় গতকালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জর্জিয়ায় সিনেটের নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির ডেভিড পারডু। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫ শত ৭০। তার নিকটতম প্রার্থি ছিলেন ডেমোক্রাট পার্টির মিশাইল নান ।তার বাক্সে ভোট পড়ে ৪৫ শতাংশ, প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৫০ হাজার ৬ শত ৮৫। এ ছাড়াও এখানে লিবার্টিয়ান পার্টির আমান্ডা শাফোর্ড নামে আরেক প্রার্থী এখানে প্রতিদন্ডিতা করেন । তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ২ শতাংশ। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪শত ৮৪। ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে গভর্ণর নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ন্যাথান ডেল । প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৫ শত ৫২। নিকট ম প্রতিদন্ডি জেসন কার্টার। তিনি পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ , সংখ্যা ১১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬শত ৭৫। তৃতীয়তমে রয়েছেন লিবার্টিয়ান পার্টির এ্যান্ড্র হাণ্ট তার বাক্সে ভোট পড়েছে ২ শতাংশ। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৬শত ২২টি। ইউ এস হাউজ ডিস্টিক ১২ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান রিক এ্যালেন প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৯০ হাজার ৯শত ৮৭ নিকটতম প্রতিদ্বন্ডি ডেমোক্রাটি পার্টির জন বারো ৭৫ হাজার ১শত ২৩। জর্জিয়ায় এবারকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ আকর্ষন ছিল ডেমোক্রাটিক পার্টির গভর্ণর পদ প্রার্থি জেসন কার্টার। তিনি হলেন জর্জিয়ার অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পৌত্র। সবার ধারণা ছিল সে যেহেতু সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পৌত্র।তার বিজয় নিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও তার উত্তরসুরি নির্বাচনে যথেষ্ট প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। রিপাবলিকান ঘাঁটি জর্জিয়ায় তার সে স্বপ্ন পুরণ হয়নি , ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় জর্জিয়ায় শ্যামা পুজা উদযাপিত

গতকাল ২৫ অক্টোবর এবং এর আগের দিন ২৪ অক্টোবর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জর্জিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামা বা কালী পুজা উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্যামা বা কালীপূজা উৎসবের প্রথমে সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে প্রয়াত পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের আত্মার শান্তি কামনা করেন। স্বামী-সন্তান ও স্বজনরা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দর থাকতে পারে সেই কল্যাণ কামনায় শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের কাছে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এরপর ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে জর্জিয়া প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংগঠন জর্জিয়া বাংলাদেশ পুজা সমিতি ও বাংলাদেশ পুজা এ্যাসোসিয়েসন বিপিএ স্থানীয় জেসি ইভেন্ট হলে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । ২৪ অক্টোবর শুত্রবার সন্ধ্যায় জর্জিয়া বাংলাদেশ পুজা সমিতির সভাপতি রজত শুভ্র দে বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক রমেশ সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য যারা উপস্থিত ছিলেন মনশ্রী দে জবা, শ্রীমতি মৌ, নিশিকান্ত দাস, রনদা প্রসাদ চৌধুরি, ধ্রুব ধর, সজল মুনি দে, সুকুমার সরকার,শশাংক দাস প্রমুখ। পুরোহিতের কর্তব্য পালন করেন বাবু সুভাষ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে ভারতীয় আইডল রাকা দাস এবং স্থানীয়দের মধ্যে সোমা দাস, মনশ্রী দে, পুরবী সুত্রধর, সুমিতা দেসহ আরো অনেকে। ২৫ অক্টোবর শনিবার সিগ্ধা দে ও শ্যাম চন্দর পরিচালনায় বাংলাদেশ পুজা এ্যাসোসিয়েসন বিপিএ এর অনুষ্ঠান সঙ্গীত পরিবেশন করে তৃপ্তি চক্রবর্তী এবং স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। পুরোহিতের কর্তব্য পালন করেন শ্রী কাজল চত্রবর্তী। যদিও হিন্দুসম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান দেখা গেছে জর্জিয়া প্রবাসী প্রচুর সংখ্যক মুসলমান নর-নারি এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। দুর্গাপূজার বিজয়ার পরবর্তী অমাবস্যার রাতেই এ পুজার আয়োজন করা হয়। পৃথিবীর সকল অন্ধকারের অমানিশা দূর করতেই এই আয়োজন। কেউ কেউ এ উৎসবকে দেওয়ালী উৎসব বলে থাকেন বিশেষ করে ভারতীয়রা। ত্রেতা যুগে চৌদ্দ বছর বন বাস থাকারপর নবমীতে শ্রীরাম রাবণ বধের বিজয় আনন্দ নিয়ে দশমীতে অযোধ্যায় ফিরে আসেন। রামের আগমন বার্তা শুনে সমস্ত প্রজাকুল তাদের গৃহে প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উৎসব পালন করেন। এই উৎসবকে দীপাবলি উৎসবও বলা হয়।

প্রবাস

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৯ জন বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড রহিত করার সমঝোতা হয়েছে।
Published : 21.11.2014 04:11:32 am

বিদেশে কাজের সময় বাংলাদেশীরা জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সংশিÍষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়ছে । বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ছাড়াও গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যু দন্ড দেওয়া হচ্ছে স্বস্ব দেশের আইন অনুসারে ।সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৯ জন বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড রহিত করার সমঝোতা হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষমাপত্র দূতাবাসগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে হাজী মো. সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাজনিত অপরাধের কারণে সৌদি আরবে ১২, সুংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ২৩, আবুধাবিতে ১, কুয়েতে ১২, বাহরাইনে ১ এবং সিঙ্গাপুরে ১ জনসহ মোট ৫০ কর্মীকে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তিনি বলেন, মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্ত করতে ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিহত ও অভিযুক্ত উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মৃত্যুদণ্ড রহিতকারীদের তালিকায় দুবাইয়ের ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং কুয়েতের ১২ জনের মধ্যে ১০ জন। এই ২৯ জনের মধ্যে ২১ কর্মীর মৃত্যুদণ্ড সংশ্লিষ্ট আদালত রহিত করেন। বাকি ৮ কর্মীর রায় অপেক্ষমাণ। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষায় সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিস্তারিত
কাতারে শ্রম আইনে পরিবর্তন আসছে।

সন্ত্রাসবাদ আর দেশের শৃংক্ষলা পরিস্তি ঠিক রাখতে নড়ে চড়ে বসেলে কাতারের আইন প্রয়োগকারী সং¯থা । ব্যাপক পরিবর্তন আনছে শ্রম আইনে। নতুন ভিসা প্রদান ও পুরাতন শ্রমিকদের মেয়াদ বাড়াতে আসছে নানা নিয়ম কানুন। কাতারে শ্রম আইনে পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সেখানে চালু আছে ‘কাফালা’ সিস্টেম। আগামী বছর এ ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু হবে নতুন স্পন্সরশিপ আইন। কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই মধ্যে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে শ্রম আইনে। যে সব নিয়োগকারী শ্রমিকদের পাসপোর্ট অবৈধভাবে জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে অধিক সংখ্যক ইন্সপেক্টর। যে সব প্রতিষ্ঠান অনিরাপদ স্থানে, অনিরাপদ অবস্থায় চালানো হচ্ছে তা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে সৌদি আরবের একটি প্রভাবশালী পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। উল্লেখ্য, কাতার, সৌদি আরব, লেবানন, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে তদারক ও অভিবাসী শ্রমিকদের দেখভালের জন্য যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাকে বলা হয় কাফালা সিস্টেম। একে ইংরেজিতে স্পন্সরশিপ সিস্টেমও বলা হয়। এই ব্যবস্থার অধীনে অদক্ষ সব শ্রমিকের কাজের জন্য প্রয়োজন হয় স্পন্সর। বিশেষ করে সেটা হতে পারে তাদের নিয়োগকারী। এ সব শ্রমিকের ভিসা ও তার আইনগত অবস্থানের জন্য দায়ী থাকে ওই নিয়োগকারী বা স্পন্সর। কিন্তু অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের পাসপোর্ট তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়। অনেক শ্রমিককে নির্যাতন করে। তারা যাতে আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারেন সে জন্য তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয় নিয়োগকারীরা। এসবের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক সব মানবাধিকার সংস্থা। দি ইকোনমিস্টের মতে, যদি এই কাফালা সিস্টেম পরিবর্তন বা সংস্কার না হয় তাহলে অভিবাসী শ্রমিকদের কোন উন্নতি হবে না। ওদিকে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতার। ফলে সেখানে ২০ হাজার কোটি ডলারের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। বিদেশী শ্রমিকরা সেই কাজ পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই কাতারে পাড়ি জমাচ্ছেন। উল্লেখ্য, কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। কাতারের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতে, ১৬ লাখেরও বেশি বিদেশী শ্রমিক কাজ করেন কাতারে। এই সংখ্যা কাতারের স্থানীয় শ্রমিকের চেয়ে অনেক বেশি। গড়ে প্রতি একজন কাতারি শ্রমিকের বিপরীতে রয়েছেন ২০ জন অভিবাসী শ্রমিক। ফলে সেখানে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে নানা দুর্ভোগে ভুগছেন। অনেকে ভিটেবাড়ি বিক্রি করে উন্নত জীবনের আশায় কাতারে পাড়ি দিচ্ছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এমনই এক শ্রমিক ভারতের মুরালি ভেলাযুধান। তিনি একজন নির্মাণ শ্রমিক। গত বছর অক্টোবরে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন কাতারে। ভেবেছিলেন সেখানকার লাখ লাখ শ্রমিকের মাঝে তিনিও একটা কাজ পেয়ে যাবেন। কিন্তু কাতারের রাজধানী দোহায় অবতরণের পরই তিনি বুঝতে পারলেন এ দেশ তার জন্য নয়। তাকে বাধ্য হয়ে কপর্দকশূন্য হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ঋণ হয়ে গেছে তার। সে ঋণ শোধ করতে তার হয়তো সারাজীবন কেটে যাবে। তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দোহা বিমানবন্দর থেকে তিনি সহ-শ্রমিকদের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন। তবে তাদেরকে ভিসা বা বেতন কিছুই দেয়া হয়নি। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন নামে শ্রম অধিকার বিষয়ক এক সংস্থা বলছে, নিয়োগকারীরা কাজ দেয়ার জন্য শ্রমিকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করে। তাদের বেতন আটকে রাখে। পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করে। এ অবস্থায় কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইনের পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে কি কি ধারা সংযোজন করা হবে বা কি কি বিধি বাদ দেয়া হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

জীবন বিপন্ন তার পরেও থেমে নেই অবৈধ পথে মালোয়েশিয়া যাবার প্রবনতা।

পথে অনেক রকম বিপদেও ভয় । কখন থাইল্যান্ডের জম্গল , কখনও গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাবার ভয় । সব তথেই জীবন বিপন্ন তার পরেও থেমে নেই অবৈধ পথে মালোয়েশিয়া যাবার প্রবনতা। উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের এখন প্রধান টার্গেট টেকনাফের কাটাবুনিয়া ঘাট। এটি স্থানীয়দের কাছে ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ নামে ব্যাপক পরিচিত। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এ ঘাটটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে পাচারকারীরা। এছাড়া টেকনাফ-উখিয়া-কক্সবাজারের আরও নয়টি ঘাট দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নির্বিঘ্নে চলছে মানব পাচার। আর এসব কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পাচারকারীদের সঙ্গে দেশের ২০টি সিন্ডিকেট। ‘অবৈধপথে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া যেতে নগদ টাকা দিতে হয় না’- দালালদের এমন প্রলোভনের ফাঁদে প্রায় প্রতিদিনই পা দিচ্ছেন অসংখ্য নিরীহ মানুষ। প্রথম অবস্থায় বিনা খরচে তারা পৌঁছে যান থাইল্যান্ড সীমান্তে। ট্রলারে চড়ে সাগর পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাইল্যান্ড উপকূলে পৌঁছার পর তাদের ঠিকানা হয় পাচারকারীদের বন্দিশালা। থাইল্যান্ড উপকূলের পাহাড়-জঙ্গলে একাধিক বন্দিশালা তৈরি করে রেখেছে সেখানকার স্থানীয় পাচারকারীরা। এরপর তাদের ওপর শুরু হয় অর্থ আদায়ে অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এরপর পাচারকারীরা সেখান থেকে মোবাইল ফোনে বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই সময় ফোনে নির্যাতিতদের আর্তচিৎকারও শুনানো হয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়া পৌঁছানো বাবদ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা টেকনাফ-কক্সবাজারের অবস্থানরত দালালদের হাতে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে, যেভাবে পারে দালালদের হাতে তুলে দেয় নির্ধারিত টাকা। এরপর তাদের থাইল্যান্ড সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে হাঁটা পথে পৌঁছানো হয় মালয়েশিয়ায়। সেখানে তাদের গ্রহণ করে দালাল সিন্ডিকেটের অপর একটি গ্রুপ। অবৈধ পথে প্রবেশ করায় থাইল্যান্ড-মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার মালয়েশিয়াগামী নিরীহ মানুষ। মালয়েশিয়ার গহিন জঙ্গলে অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী। পাশাপাশি স্বপ্নের মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে গত প্রায় পাঁচ বছরে সাগরে সলিল সমাধি অথবা নিখোঁজ হয়েছেন সহস্রাধিক। টেকনাফের লেদা আনরেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ শতাধিক লোক। যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন কৌশলে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ফেরত আসা বেশ ক’জনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য।অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগর থেকে মিয়ানমারের পতাকাবাহী একটি ট্রলারসহ ৬১৪ জন যাত্রীকে আটক করেছে নৌবাহিনী। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় যাত্রীবাহী ওই জাহাজটিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গভীর সাগর থেকে আটক করা হয়। নৌবাহিনীর সেন্টমার্টিন ফরোয়ার্ড বেসের ইনচার্জ লে. কমান্ডার মোস্তফা কামাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মোস্তফা কামাল জানান, নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা দুর্জয় সাগরে টহল দেয়ার সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে ট্রলারটিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় ট্রলারটির ৬১৪ যাত্রীবে আটক করা হয়। আটক করা ট্রলারটিকে সেন্টমার্টিনে ফেরত আনা হচ্ছে। রাতের মধ্যে এটি সেন্টমার্টিনে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছবে।সেইন্ট মার্টিন বেইস শিফট ইনচার্জ লে: মোস্তফা কামাল জানান, কয়েকদিন ধরে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূল থেকে ছোট নৌযানে করে একটি বড় জাহাজে লোক জড়ো করছিল আদম পাচারকারী চক্র।মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য ৬১৪ জনকে জাহাজে তুলে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে মানব পাচার ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। গত মাসে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অর্ধশতাধিক বাঙালি শ্রমিক উদ্ধারের পর সাগরে তদারকি বাড়ায় কোস্টড়ার্ড ও নৌবাহিনী।

বাংলাদেশ

পাড়ায় পাড়ায় ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে।ভবিষ্যতে জ্বালানি অপরাধীদের ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা হবে।
Published : 22.11.2014 04:09:01 am

বাড়ছে বিদ্যুত আর গ্যাসের দাম । দেশের সাধারন মানুষের জীবনকে আর দুর্বিষহ করে তোলা হল । আবার পন্যের দাম বাড়বে পাগলা ঘোড়ার মত। সরকারের দুর্নীতি আর ভুলনীতিকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার রেকর্ড করেছে। সরকারের ভুলনীতি আর দুর্নীতির দায়ভার পড়বে বিশাল দারিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে। আর ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল করে জ্বালানি অপরাধীদের বিচার করা হবে। শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে ‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত: ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চক্রান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ সরকার ধনীদের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, এই ধনীরা সরকারকে তার লুটপাটে সহযোগিতা করেন। তাই সংখ্যাগরিষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের মাথা ব্যাথা নেই। আইএমএফ’র কাছে ঋণ নেয়াকে সরকারের ভুলনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে দাম বাড়লে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সরকার দাম বাড়িয়ে বাড়তি টাকা কোনো খাতে ব্যয় করছে তা কেউ জানে না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা শুধু কথা বলেই ক্ষান্ত হবো না। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসলে প্রতিরোধের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাড়ায় পাড়ায় ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে।’ গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি অপরাধীদের ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা হবে। দুর্নীতির এ মহোৎসবের বিরুদ্ধে রুঁখে দাড়াতে হবে। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাবলিক এনকোয়ারি কমিশন গঠন করা হবে। দেখা যাবে সরকার কত অপকর্ম করতে পারে। দেশের স্বার্থে সকলকে এজন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতিকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার রেকর্ড করেছে। সরকারের ভুলনীতি আর দুর্নীতির দায়ভার পড়বে বিশাল দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর ওপর। সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে। আর ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল করে জ্বালানি অপরাধীদের বিচার করা হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে ‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত: ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চক্রান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নিয়ে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ সরকার ধনীদের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, এই ধনীরা সরকারকে তার লুটপাটে সহযোগিতা করেন। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের মাথা ব্যথা নেই। আইএমএফ’র কাছে নেয়াকে সরকারের ভুলনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে দাম বাড়লে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু সরকার দাম বাড়িয়ে বাড়তি টাকা কোন খাতে ব্যয় করছে তা কেউ জানে না। আইএমএফ’র শর্ত পূরণ করতেই সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা শুধু কথা বলেই ক্ষান্ত হবো না। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলে প্রতিরোধের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাড়ায় পাড়ায় ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি অপরাধীদের ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা হবে। দুর্নীতির এ মহোৎসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাবলিক এনকোয়ারি কমিশন গঠন করা হবে। দেখা যাবে সরকার কত অপকর্ম করতে পারে। দেশের স্বার্থে সবাইকে এ জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার জনমত যাচাইয়ের প্রাথমিক পথ পরিহার করে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে আছে। একদিকে শাসক দল জনগণের ওপর দ্রব্যমূল্যের ছুরি বসাচ্ছে, অন্যদিকে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে খোনাখুনি করছে। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য অহেতুক যুক্তি দিচ্ছে। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে লুটপাটের চক্রান্ত করা হচ্ছে। লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ করা দরকার। কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, গ্যাস ব্যবহারকারী ৮৭ ভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের। গ্যাসের দাম বাড়লে এদের কেউই সুবিধাভোগী হবে না। বরং তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এর আগে গ্যাস তহবিল গঠন করা হলেও সে অর্থ কোন কাজে লাগেনি। ৫৫ শতাংশ গ্যাস বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। কম দামে গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পপতিরা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ক্ষুদ্রশিল্প ধ্বংসের পথে। এ বৈষম্য দূর করা দরকার। সব ক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে। সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় জনগণ নিতে পারে না উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার মূল কারণ অব্যবস্থাপনা। বাপেক্স গ্যাস অনুসন্ধানে সক্ষম হলেও নানাভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। বাপেক্সকে সরিয়ে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। অন্ধকার করিডরে চুক্তি করে গ্যাসফিল্ডগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, সরকারের কোন কোন মহল আইন মানছে না। শুনানির আগেই বিইআরসি সিদ্ধান্ত দিচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। সরকার দাম বাড়ানোর জন্য খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে। সরকার রাজস্ব তহবিল বৃদ্ধির জন্য এ কাজ করছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এ বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার না করে সরকার নজর দিয়েছে নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর। বর্তমানে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাভিশ্বাস উঠেছে। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে এর চাপ পড়বে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সরকার প্রাইভেট কারে সিএনজি সরবরাহ করছে কম দামে। অনুৎপাদনশীল এ খাতে সে রকম দাম বাড়াচ্ছে না। বর্তমান সরকার একেবারেই দায়বদ্ধতার জায়গায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে আদর্শ হিসেবে দেখছে সরকার। ভবিষ্যতে তারা ৩০০ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আলোচনা সভা থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে ও ২৪শে নভেম্বর ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সিপিবি ও বাসদ।

বিস্তারিত
মুখখুলেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর ছাত্র লীগের সহ সভাপতি এইচ এম বদি উজ্জামান।

নানা মুনির নানামত। মুখখুলেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর ছাত্র লীগের সহ সভাপতি এইচ এম বদি উজ্জামান। তাদের কথা দেশের লোক কি বুঝবেন তা বোঝা বড়দায়। কোন বিরোধী দলের প্রয়োজন নেই তাদেও বক্তব্যই তাদেও স্বভাব খুলে দিচ্ছে ।সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন দলটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তার পাল্টা অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম এ বিষয়টির সঙ্গে ঢালাওভাবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পূজারি ছাত্রলীগকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, এ ঘটনার পেছনে দায়ী বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না। ছাত্রলীগের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যিনি মারা গেছেন তিনিও বহিরাগত। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কারো কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। অপরদিকে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এক হাত দেখে নিলেন অর্থ মন্ত্রী ও বেসরকারী বিমান মন্ত্রীকে। পৃথক অনুষ্ঠানে তাদো সম্পর্কে মন্তব্য করেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অর্থমন্ত্রীকে সেখানে গিয়ে রাবিশ বলে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় তার নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন যাতে তিনি সেখানে গিয়ে কেঁদে আসেন। এর আগে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ এর ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্রলীগ। এ ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে কেঁদেছিলেন নূরুল ইসলাম নাহিদ। আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু একাডেমী একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুরঞ্জিত বলেন, বিগত সময়ে যখন ছাত্রলীগ সিলেট এমসি কলেজ পোড়ানোর ঘটনা ঘটায়, তখন শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুজনই গিয়েছিলেন। তখন শিক্ষামন্ত্রী সেখানে গিয়ে কেঁদেছিলেন। আমি এবারও শিক্ষামন্ত্রীকে বলব, আর কিছু না পারেন একবার সেখানে গিয়ে কাঁদেন। আর অর্থমন্ত্রীকে বলব সেখানে গিয়ে রাবিশ বলে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে রক্ষা করতে হবে। গুটি কয়েক কর্মী ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ম্লান করে দিচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগকে আবার নীতি ও আদর্শের পথে নিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কষ্ট করে যা কিছু অর্জন করছেন তা কয়েকজনের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বিমান চালানো বাদ নিয়ে এখন সোনা চোরাচালানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবার রাঘব বোয়াল নয়, ছোট পদের রুই, মৃগেল ধরা পরেছে। এর পিছনে আরও বড় রাগব বোয়াল রয়েছে। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি হওয়া প্রয়োজন। বিমানকর্তারা ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ বা বক্তব্য না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক এ মন্ত্রী।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার দায়দায়িত্ব বিমানমন্ত্রী ও এর চেয়ারম্যান এড়াতে পারেন না।এর দায়দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত ‘চলমান রাজনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বেশ কয়েক মাস ধরে র্স্বণ চোরচালান বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বিমানের কর্মকর্তারা বিমান চালনা বাদ দিয়ে স্বর্ণ চালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।এটা গর্হিত কাজ। কিছু মাঝারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।স্বর্ণ চোরাচালানের দায়দায়িত্ব বিমানমন্ত্রী ও চেয়ারম্যানকে নিতে হবে। তিনি বলেন,স্বর্ণ চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।এর সঙ্গে বিমানের কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অতএব অভিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে বিমানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী

অবৈধ ভাবে জলসীমা অতিক্রম করেছিল ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার । শান্তিপূর্ন ভাবে সেটাকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ নৈাবাহিনীর টহল জাহাজ। আমরা গর্বিত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী বি এস এফ এর মত খুনের ঘটনা ঘটায়নি। বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় ২টি ফিসিং ট্রলারসহ ২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী। শুক্রবার দুপুরে নৌবাহিনীর টহল জাহাজ বিএনএস মেঘনা মংলা বন্দরে ১৫০ নটিক্যাল মাইল দুরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় ওই ভারতীয় জেলেদের আটক করে। বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুত্র শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে ৮ দফায় নৌবাহিনীর হাতে ১০টি ট্রলার সহ ১৩০ জন ভারতীয় জেলে আটক হলো। এছাড়া গত মাসে চট্রগ্রামের বঙ্গোপসাগরের উপকুল থেকে ৪টি ট্রলার সহ আরও ২০ শ্রীলংকান জেলেকে নৌবাহিনী সদস্যরা আটক করে। নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মংলা বন্দর থেকে ১৫০ নটিক্যাল মাইল দুরে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সুন্দরবন উপকুলের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় এফবি বাসন্তি ১ এবং এফবি বাসন্তি ২ নামের দুটি ভারতীয় ট্রলারসহ ২৬ জেলে মাছ শিকার করছিলো। এসময়ে নৌবাহিনীর টহল জাহাজ বিএনএস মেঘনা দুটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে। আটক জেলেদের বাড়ী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ-চব্বিশ পরগনা জেলায় বলে জানা গেছে। এনিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে অনুপ্রবেশের করে মাছ ধরার সময় ১৩০ ভারতীয় এবং ২০ শ্রীলঙ্কান জেলেকে আটক করল বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। আমরা গর্বিত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী বি এস এফ এর মত খুনের ঘটনা ঘটায়নি বা ঘটায় না।

ভিডিও