জর্জিয়ার খবর

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত
Published : 20.10.2014 07:58:35 am

রক্ত দিন, জীবন বাঁচান” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এবং আটলান্টাস্থ লাইফ সাউথ কমিউনিটি ব্লাড সেন্টারের সহায়তায় সেচ্ছায় এক রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিকের লিলবাণস্থ নিজস্ব ক্লিনিকে এ রক্তদান কর্মসূচীতে সর্বোমোট ২৯ ব্যক্তি রক্তদান করে। রক্তদানকারীরা হলো মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ইলিয়াস হাসান, আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুর আহমেদ, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী খান সজল, মিনহাজুল ইসলাম বাদল, মোহাম্মদ ইনামুল হক,নেহাল মাহমুদ, অভিষেক শ্যাম, অসিম সাহা, মোহাম্মদ হোসেন, ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিক, মোহাম্মদ আলী হোসেন, মোহন জব্বার, সৈয়দ মুরাদ শেখ জামাল, হুমায়ূন কবির কাউসার, মোহাম্মদ হাসেম প্রমুখ। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী প্রত্যেকের লাইফ সাউথ কমিউনিটি ব্লাড সেন্টারের সৌজন্যে বিনা মুল্যে ব্লাড কোলেস্ট্রেরেল চেক আপসহ লাইফ সাউথ কমিউনিটি একটি করে টি-শার্ট প্রদান করা হয়। রক্তদান কর্মসূচীতে সেচ্ছাসেবক ও অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোহন জব্বার, ইলিয়াস হাসান, অভিষেক শ্যাম, অসীম সাহা, দেবযানী সাহা, শাকিরা আলি বাচ্চিসহ আরো অনেকে। এছাড়াও বাঙালি কম্যুনিটির অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ যোগ্যদের মধ্যে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার স্ত্রী নাজনিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহমাদুর রহমান পারভেজ প্রমুখ।

বিস্তারিত
ডালাসে আক্রান্ত ইবোলা রোগী এখন আটলান্টায়ঃ জনমনে আতংঙ্ক

মরণঘাতক ইবোলা আক্রান্ত আরো এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য আনা হলো আটলান্টায়। যার নাম অ্যাম্বার ভিনসন। সে হলো চতুর্থ ইবোলা রোগী আটলান্টায়। তাকে ছাড়া আরো তিনজনকে আটলান্টায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। টেক্সাসের ডালাস স্বাস্থ্য কর্মী অ্যাম্বার ভিনসনকে গতকাল আটলান্টার ইমোরী মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। আটলান্টার স্থানীয় কেউ এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। বার বার অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে ইবোলা রোগী আটলান্টায় আনায় মেডিক্যাল স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্থানীয় জনমনে এক আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইবোলায় আক্রান্ত ডালাসের এক হাসপাতালে যারা মারা যান লাইবেরিয়ার টমাস এরিক ডানকান। অ্যাম্বার ভিনসন ছিলেন তার স্বাস্থ্যসেবা কর্মী। স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা যায়, অ্যাম্বার ভিনসনকে ডালাস থেকে এক বিশেষ বিমানে করে আটলান্টাস্থা ডিকাব-পিচট্রি এয়ারপোর্টে অবতরণ করান হয় এবং সেখান থেকে তাকে পুলিশ প্রহরায় বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সে ইমোরী মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বার ভিনসনকে ইমোরীতে ভর্তি করার পর পরই ডিকাব কাউন্টি স্কুল বোর্ড গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া, গিনিসহ আফ্রিকার অন্যান্য ইবোলা আক্রান্ত দেশ থেকে নতুন ছাত্র বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত কোন স্কুল শিক্ষার্থীকে চিকিৎসকের উপযুক্ত ডকুমেন্টেশন এবং অনুমোদন ছাড়া স্কুলে প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ছাড়া স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে । হঠাৎ কেউ জ্বর বা মাথা ধরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক তাকে চিকিৎসা দেওয়া এবং ইবোলা সংক্রমক সিমটমে আক্রান্ত হলো কিনা তাও পর্যাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Dallas Ebola patient being treated in Atlanta

Amber Vinson The second Dallas health care worker who contracted the deadly Ebola virus is now at Emory University Hospital in Atlanta. Vinson arrived in Atlanta from DeKalb Peachtree Airport, then transferred from the specialized private jet to a waiting ambulance. The motorcade with police escort made the 20 minute drive to Emory Hospital at about 8:30 p.m yesterday. Vinson was infected with the deadly disease after treating a Liberian man, Thomas Eric Duncan, who died of Ebola last week at a Dallas-area hospital. Dr. Tom Frieden, director of the Centers for Disease Control and Prevention, says Vinson traveled to Cleveland, Ohio before she knew that the first nurse had been diagnosed. Vinson was self-monitoring at the time. A CDC spokesman, David Daigle, says Vinson spoke with a CDC official responsible for monitoring her health before she boarded the flight Monday. Daigle says the 29-year-old Vinson reported her temperature was below 100.4 degrees and she had no symptoms. Ebola sufferers aren't contagious until they show symptoms. The official said she could board Frontier Airlines Flight 1143. Vinson flew to Cleveland on Friday, the same day a colleague, nurse Nina Pham, was hospitalized. Pham's diagnosis with Ebola was disclosed on Sunday. Vinson then returned to Texas on Monday on Frontier Airlines Flight 1143 from Cleveland to Dallas-Fort Worth with 132 other passengers, according to the CDC. The airplane's crew said she had no symptoms of Ebola during her return flight on Monday. But Tuesday morning she developed a fever and on Tuesday night tested positive for Ebola.

প্রবাস

‘বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া’ || মোদি শেখ হাসিনা বৈঠক
Published : 28.09.2014 08:34:35 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে থাকা দুই সরকার প্রধান শনিবার প্রথম বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে ভারত সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তিসহ দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলোর কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তিনি (মোদী) বলেছেন, ম্যায় রাস্তা নিকাল রা হু (আমি সমাধানের পথ খুঁজছি)।”শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) ‘ইকোনমিক করিডোরের’ ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থল যোগাযোগের অন্তরায়গুলো তুলে নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে মোদী ইতিবাচক সাড়া দেন।মোদী আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেন বৈঠকে উপস্থিত শহীদুল হক জানান। “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাউথ এশিয়া সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর কথা বললে তিনি (মোদী) বলেন, ‘সাবকো সাথ লেকে উন্নায়ন করানা হোগা (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে)। ওনার যে ‘লুক ইস্ট পলিসি’, তার মধ্যে এই জিনিসটা খুব প্রোমিনেন্টলি আসে।” “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে যোগাযোগগত যে সমস্যা আছে, সেটা তুলে ধরেছেন। সেটার আশু সমাধানের অনুরোধ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই তিন দেশ বা চার দেশের মধ্যে চলাচলের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা দরকার। উনি সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এ ব্যাপারে একটা নির্দেশও দিয়েছেন।”মঙ্গলে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোয় সম্প্রতি সফল হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইটের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সার্কের সদস্যভুক্ত সব দেশই এর সুবিধা নিতে পারবে।মোদীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি শিগগিরই শেখ হাসিনার এই আমন্ত্রণ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বগুণেরও প্রশংসা করেন। “তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া (বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু, আর তার কন্যা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন),” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নয়া দিল্লি সফরে গেলে তাকেও একই কথা বলেছিলেন চার মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মোদী।হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির কট্টর নেতা হিসেবে পরিচিত মোদী ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাই দিচ্ছেন।কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ভারতে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে তা নাকচ হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে থাকায় সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিতে পারেননি হাসিনা।শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সফরে এই হোটেলেই থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন গ্র্যান্ড হায়াৎ হোটেলে।শহীদুল হক বলেন, অত্যন্ত ‘আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ পরিবেশে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। উন্নয়নের শত্রু হিসেবে সন্ত্রাসকে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন। ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য নিয়ে যেতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মোদী। অটিজম নিয়ে কাজের জন্য শেখ হাসিনাকন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের প্রশংসাও করেন তিনি।বহুল আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “না, হয়নি। দুজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যখন আলোচনা হয়, তখন পলিসি লেভেলে হয়।”বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারও ছিলেন।মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা নেবেন শেখ হাসিনা।রোববার শেখ হাসিনার জন্মদিন। এদিন ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের সময় দেবেন তিনি।জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়বেন শেখ হাসিনা। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে ২ অক্টোবর ঢাকায় রওনা হবেন তিনি।

বিস্তারিত
শিকাগোতে জিয়ার নামে রাস্তা উদ্বোধন

আমেরিকার শিকাগোতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তা উদ্বোধন হয়েছে। আওয়ামী লীগের আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও ইলনয় স্টেটের শিকাগো শহরে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসেননি। রাস্তা উদ্বোধনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ অনুষ্ঠান করেন। সিটির ৬৮০০ নর্থ ক্লার্কের ওয়েস্ট প্রাট ব্লুভারের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৬৭৫০ নর্থ ক্লার্কের পশ্চিম কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ সড়কের উদ্বোধন করেন সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর পরিচালনায় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলডারমেন জোসেফ ম্যুর বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান।” জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেয়া শোক বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিশ্ব নেতা। শিকাগো শহরে বহু বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত নেতৃত্বের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক ছিল, যার ধারাবাহিকতা তার সহধর্মীনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অত্যন্ত খুশি। এর মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “আজকের এই দিনটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে আরেকবার স্বীকৃতি দিয়েছে গণতন্ত্রের চারণভূমি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আমরা গর্ববোধ করছি। এমন একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান একজন বিশ্ব নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সড়কের নামকরণ বাস্তবায়নে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিত তদারকি করেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেট থেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এসেছেন। শিকাগো শহরের বরেণ্য রাজনীতিকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সবার প্রতি আজকের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।” শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “ইতিপূর্বে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ ব্যক্তির নাম ফলক উন্মোচনে এত মানুষের সমাগম ঘটেনি। মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে ‘জিয়া মরে নাই’।” বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তার নামকরণ করায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও শিকাগো সিটি নেতৃত্বকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই শ্রদ্ধা জানানোয় বিএনপি নেতাকর্মী নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।” বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র একজন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এতে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত।” উদ্বোধনের পর শিকাগো শহরের নর্থ শোর ব্যাংকুয়েট হলে বিএনপি এক আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, শিকাগো বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শিকাগো সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম মনা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আবদুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসাইন বাবু, বাবর উদ্দিন, জাকির হোসেন হাওলাদার, শাহ মোসাদ্দেক মিন্টু, একে আজাদ, মো. আবদুল বাসিত, জসীম উদ্দীন ভুইয়া, কাজী আজম, আতিকুল হক আহাদ, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন, গিয়াস উদ্দিন, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাইদ আহমেদ, এবাদ চৌধুরী, রেজাউল আজাদ, আবদুস সবুর, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, শেখ হায়দার আলী, শাহাদত হোসাইন রাজু, হাদী, শাহ মোশাররফ, মো. ডুলো মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিকাগো বিএনপির নেতা জসীম উদ্দীন। শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বেবী নাজনিন। প্রসঙ্গত, শিকাগো সিটি কাউন্সিলে অনুমোদিত রাস্তার নামকরণের উদ্যোগ নিলে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা করা হয় তা ফেরানোর জন্য। এমনকি এর বিরুদ্ধে শিকাগোতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করলো। উল্লেখ্য, শিকাগোতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শেখ মুজিব ওয়ে, বিশ্ববিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ারের ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খানের নামে এফ আর খান ওয়ে ভারতের মহাত্মা গান্ধীসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুনিজনের নামে সড়ক রয়েছে।

আজ সেই ভয়াল ৯/১১

আরো দু’ দশটা দিনের মতই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের দিনটি শুরু হয়েছিল। ১৩ বছর আগের দিনটি ছিল মঙ্গলবার।দিনটিতে ঘঠে যাওয়া ঘঠনায় শুধূ আমেরিকাই নয় ,যেন পাল্টে গেছে পুরো বিশ্ব। ২০০১ সালের এ দিনটিতে জঙ্গী হামলায় মাটিতে মিশে যায় নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র।বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে পেন্টাগন পর্যন্ত জঙ্গীদের শাড়াশী বিমান হামলা। নিহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশী মানুষ।বিশ্বের সেরা দেশের কর্ম পাগল মানুষেরা দিনটি শুরু করেছিল নিত্যদিনের মত।টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্থাপনার উপর ছিনতাই করা যাত্রিবাহী বিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাতকরা।পর পর দুটি বিমানের ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।হলিউডের চিত্র নির্মতারাও এমন ধ্বংশ যজ্ঞের সিনেমা নির্মান করতে পারেননি।বাংলাদেশী শাকিলা-নুরুল দম্পতি নিহত হন বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের উপর জঙ্গী হামলায়।অভিবাসনের নগরী নিউইয়র্কে এ দিনটিতে নিহত হন ৬০টি দেশের লোকজন।অন্যান্যের মধ্যে নিহত হন বাংলাদেশী মুহাম্মদ সাদেক আলী,মোহাম্মদ শাহাজাহান,সাব্বির হোসেন,সালাউদ্দিন আহমেদ , আবুল কে চৌধূরী,নাভিদ হোসেন,ওসমান গণি এবং আশফাক আহমেদ। ঘঠনার তের বছর পর চলে গেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর বড় হওয়া প্রজন্মের কাছে এক ভিন্ন বিশ্ব বাস্তবতা।নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের ফিফ্থ এভিন্যু সংলগ্ন ’’ সাকিলা ইয়াসমিন এন্ড নুরুল হক মিয়া ৯১১ মেমোরিয়েল ” সড়ক পথে কেউ হয়ত থমকে দাঁড়ায়।জানতে চায় বাংলাদেশী এ দম্পতির কথা।২০০৫ সালে নিউইয়র্ক নগরীর পক্ষ থেকে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে নিহত হওয়া এ বাংলাদেশী দম্পতির নামে সড়কটির নামকরন করা হয়। টুইন টাওয়ারে,পেন্টাগনে হামলাকারীদের পরিচয় জানতে সেদিন বিলম্ব হয়নি।মাত্র ঊনিশ জনের একটি দল পরিকল্পনা করে এ হামলা চালায়।তিনটি বিমানই লক্ষ্যস্থলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।নিপুন পরিকল্পনার এ হামলার কথা আগাম ধারনাও করতে পারেনি বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা গোয়েন্দারা।মুসলমান পরিচয়ে এ আত্মঘাতী হামলাকারীদের ধংশজজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে আমেরিকার জঙ্গীবাদ বিরোধি যুদ্ধযাত্রার শুরু।আফগান, ইরাক হয়ে এ যুদ্ধ যাত্রা এখনো চলমান।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিহত হওয়া তিন হাজারের সংখ্যাটি এখন হতাহত মিলে লাখের সীমানা পেরিয়েছে।হামলার মূল পরিকল্পনার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছে।১৩ বছর পরও শেষ হচ্ছে না আমেরিকার যুদ্ধ যাত্রা। রাত ১০টার আগে ফিরতে পারবেন না বলে পুত্র কন্যার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কাজে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহাজাহান।আদরের কন্যা শিরিনকে কিন্টারগার্টেনে নামিয়ে দিয়ে গুডবাই বলেছিলেন।শেষ বারের মত বাবার বলে যাওয়া গুডবাই-এর স্মৃতি নিয়ে শিরিন বেড়ে উঠেছেন ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তি আমেরিকায়।ধংশ হয়ে যাওয়া বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে আবার । নির্মিত হয়েছে ফ্রিডম টাওয়ার।শাহাজাহান কন্যার মত মানুষের কাছে ফ্রিডম টাওয়ার ভিন্ন অর্থ বহন করে।টুইন টাওয়ারের ধংশস্তুপ থেকে সংগ্রহ করা পোড়া মাটি সংগ্রহ করে নিজের কাছে রেখেছেন শিরিন। এ মাটির দিকে তাঁকিয়ে শুধূ ১১ সেপ্টেম্বর নয়,গত ১৩টি বছর জনকের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে ম্যরিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের কিছু আগে আবার কোন কারন ছাড়াই নিউইয়র্কে ফিরে আসেন।কাজে যোগ দেন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উইন্ডোজ অব দ্যা ওয়ার্ল হোটেলে।ঘটনার দিন তাঁর নির্ধারিত কাজও ছিল না।সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে চিকিতসকের কাছে নেয়ার জন্য কাজ বদল করেছিলেন অন্য সহকর্মির সাথে।বিমান হামলার ধংশস্তুপে প্রাণ দেয়া সালাউদ্দিন দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেন নি।১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া ফারাকাত এখন ১৩ বছরের কিশোর।আমেরিকায় প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় নানাসব আনুষ্টানিকতার মধ্য দিয়ে।কিশোর ফারাকাতের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর, আর না দেখা বাবার নাম অনেকটাই সমার্থক।নিহত সালাউদ্দিনের বাল্যবন্ধু মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন,ম্যারিল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে ফিরে আসাটা সালাউদ্দিনের জন্য ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলতে হবে।

বাংলাদেশ

থামছেনা বি এস এফ এর আগ্রাসন।
Published : 20.10.2014 06:09:09 am

থামছেনা বি এস এফ এর আগ্রাসন। ধারবাহিক ভাবে বাড়ছে বাংলাদেশী নির্যাতন। হয়ত পত্রিকায় এ নিয়ে আরেক টি শাখা খোলা যাবে। তেমনি N‡U‡‰Q ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাবরী সীমান্ত থেকে এনামুল হক (২৫) ও হাসান আলী (১৮) নামে দুই বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ডাবরী সীমান্তের ৩৬৭ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতে থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোববার রাত ৯টার দিকে ফুলবাড়ি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায় বলে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে। এনামুল ওই উপজেলার কাঁঠালডাঙ্গী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে ও হাসান একই গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে। ঠাকুরগাঁও ৩০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তৌহিদ-বিন-ইসহাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের ফেরত চেয়ে বিএসএফের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত
সদ্য প্রয়াত রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

এক গ্রামের সকল লোক খারাপ হয়না। আনেকে সত্য বলতে পিছ পা হন না। তেমনই একজন বর্তমান আইন মন্ত্রী যিনি সময়ে সত্য বলতে একটুও ছাড় দেননি। সদ্য প্রয়াত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি রবিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জুডিশিয়াল মেডিয়েশন স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাক্টিভ জাজেস’ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘পিয়াস করিমের বাবা মারা গেছেন ২০/২১ বছর আগে। পিয়াস করিমও এখন মৃত। মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কথা শুনলে আমার খুব কষ্ট লাগে।’ তিনি বলেন, পিয়াস করিম সম্পর্কে আমি যা বলেছি, তা সত্য। আমার জানামতে, পিয়াস করিমের বাবা কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। আনিসুল হক বলেন, পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট আটকে রেখেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। তিনি জানান, পরে পিয়াস করিমের বাবা অ্যাডভোকেট এমএ করিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শর্ত মেনে বন্ড সই দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। মন্ত্রী বলেন, পাক বাহিনীর শর্ত ছিল তারা পিয়াস করিমকে মুক্ত করে দিবে, তবে সে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারবে না। কোনো বৈঠক করতে পারবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে এসে পিয়াস করিমের বাবা পাক বাহিনীর শর্ত মেনে শান্তি কমিটির সভাপতি হন। তখন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মরক্ষার্থে ডান্ডিকার্ড (পরিচয়পত্র) প্রদান করেছেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হত্যার বিষয়ে পিয়াস করিমের বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০/২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তির বিষয়ে না জেনে শুনে এসব কথা বলা ঠিক না। আনিসুল হক বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে চূড়ান্ত রায়ের পর রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে ক্ষমা না পেতে আইন তৈরি করা হতে পারে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে এমন আইন পাস করা হবে যাতে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, সংবিধানের ‘আর্টিকেল ৪৯’র মাধ্যমে যুদ্ধপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে দুঃখজনক। কোনো রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করে দেন, তবে সেটাও দুঃখজনক বিষয় হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে (দল ও সংগঠন) হিসেবে জামায়াত ইসলামীর বিচারের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবরের পরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পরে। অথাৎ আগামী মাসের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করব। কটি ভূইফোঁড় সংগঠনের গুটি কয়েক কর্মী দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শহীদ মিনারে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ও পরবর্তীতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দ্বিধা ভিবক্ত করার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, কলামনিস্ট, আইনজীবীসহ নয় বুদ্ধিজীবীকে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। যেখানে তাদের অনেকেই পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্র মুক্তি সংগ্রাম, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ গণ মানুষের পক্ষে স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখেছেন। ভাবতে অবাক লাগে যাদের হাত ধরে সেই ১৯৬৮ সালে আমার ছাত্রলীগের রাজনীতির হাতেখড়ি তাদের মধ্যে অন্যতম, সময়ের সাহসী সৈনিক দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান চৌধুরী যিনি মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ২৬শে মার্চ ৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে সিলেটে কারাগার ভেঙ্গে তাকে নিয়ে আসে মুক্তিকামী জনতা। যে মতিউর রহমান চৌধুরী স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে মৌলভীবাজার মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন এবং আজকের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন ছাত্রলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির তিনি তখন সহ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারি শেখ ফজলুল হক মনির সম্পাদিত বাংলার বাণীর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনকারি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক কে অসম্মান করা বিগত ৪৫ বছরের ইতিহাস সম্পর্কে এ সরল প্রাণ প্রজন্মের কয়েক জনের অজ্ঞতা ও দৈন্যতা ছাড়া আর কিছু নয় বলে আমার বিশ্বাস। যে চক্রটি পিছন থেকে শহীদ মিনার,স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃত অবস্থান নিয়ে খেলছেন তারা প্রকৃত পক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই সময়ের প্রধান দাবি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে আড়াল করার পাশাপাশি এই নয় ব্যক্তিত্ব কে যারা কিনা স্ব স্ব ক্ষেত্রে বাংলার গণ মানুষের পক্ষে নানা সময়ে ভুমিকা রেখেছেন তাদের কে কৃত্রিমভাবে ইস্যু বানিয়ে জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তাদেরকে আগামীতে ইতিহাসের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। পরিশেষে আমি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সুস্থ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষে সকলকে সহনশীল ও দেশপ্রেমিক ভূমিকা রাখার আহবান জানাচ্ছি। আইন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে ছাত্রলীগ আর ভুই ফোড় অখুশি হলে তিনি শ্রদ্ধায় থাকবেন বাংলাদেশের সাধারন মানুষের।

একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে র্যাব-১২ ।

বিভিন্ন চোরাচালানের সাথে থেমে নেই কষ্ঠি পাথর ও পুরাকৃত্তি ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ভাবে তা আইন শৃংক্ষলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে। র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার আমড়া গোহাইল গ্রামের হাটকড়ই সোহেলের ঘরের ভিতর থেকে কালো রঙের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে। এসময় ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো ওই এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (৩০) ও একই এলাকার নিপেন চন্দ্র মোহন্তের ছেলে খোকন চন্দ্র মোহন্ত (৩২)। উদ্ধারকৃত কালো রঙের কষ্টি পাথরের মূর্তির ওজন ১৪ কেজি প্রায়। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা। ধৃতরা দীর্ঘদিন যাবত মূর্তি কালোবাজারীর মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।

ভিডিও