জর্জিয়ার খবর

জর্জিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী রকিব মাহমুদ মারা গেছেন
Published : 25.08.2014 10:13:39 pm

সাংবাদিক সিকদার মনজিলুর রহমানের এক সময়ের সহকর্মী জর্জিয়া প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রকিব মাহমুদ ফিরোজ আজ বেলা পৌনে দুইটায় মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে ...।। রাজেউন) । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর । জর্জিয়ার শ্যাম্বলির বাসিন্দা রকিবের শরীরে মাত্র কয়েক মাস আগে ক্যানসারের জীবাণু ধরা পড়ে। এর পর পরই তিনি স্থানীয় গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটে যান। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকগণ তার প্রাণের আশা ছেড়ে দিলে শ্যাম্বলিতে তার নিজ বাসা বাড়িতে নিয়ে আসা হয় । আজ ২৫ আগষ্ট বেলা বেলা পৌনে দু'টোয় সেখানেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলেসহ বহুগুণগ্রাহী রেখে গেছেন । মরহুমের অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে বলে পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালির চাটখিল উপজেলায় । মরহুমের মরদেহ আটলান্টাস্থ নক্স মরচুয়ারীতে রাখা হয়েছে। আগামিকাল ২৬ আগষ্ট স্থানীয় আত্তাকোয়া মসজিদে যোহরের নামাজের পর তার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে । জর্জিয়াবাসী সকল বাংলাদেশিকে নামাযে জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। মরহুমের মৃত্যুতে মানচিত্র নিউজ ডট কমের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোক সন্ত্রপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। এছাড়াও অন্যন্য যারা সমবেদনা জানিয়েছেন, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী হোসেন, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহমাদুর রহমান পারভেজ,সাবেক সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম গাজী, সাংবাদিক রুমী কবির, সাংবাদিক এ এইচ রাসেল, সাংবাদিক সিকদার মনজিলুর রহমান প্রমুখ।

বিস্তারিত
আটলান্টা প্রবাসী রাকিব মাহমুদ (ফিরোজ) আর নেই

আটলান্টা বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাকিব মাহমুদ (ফিরোজ) আজ সোমবার দুপুরে নিজ বাস ভবনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । ইন্না লিল্লাহে.......রাজিউন । মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর । গত কয়েক মাস যাবত তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন । আটলান্টা গ্রেডী মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি চিকিত্সারত ছিলেন তবে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় নার্সিং হোমে পাঠানো হয় সেখান থেকে তাকে বাসায় আনা হয় । আটলান্টায় তার স্ত্রী, এক কন্যা (১২) দুই পুত্র (১০, ৪ ) রয়েছেন । রাকিব মাহমুদ বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার চাটখিলের বাসিন্দা । জানা গেছে তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সকলের ছোট ছিলেন । ১৯৯৬ সালে তিনি আটলান্টায় আসেন এরপর পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি শ্যামলি সিটির নর্থ শ্যালোফোর্ড রোডস্থ এপার্টমেনটে বসবাস করতেন ।

আটলান্টায় প্রেসিডেন্ট কাপ ক্রিকেট রোববার এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান

উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত ১৭ আগস্ট রোববার বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল প্রেসিডেন্ট কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১৪। আর এটির মূল স্পনসর হিসেবে সম্পৃক্ত হয়ে সারাদিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রাণশক্তি জুগিয়েছে আটলান্টার পরিচিত নব প্রতিষ্ঠিত রেসিডেনশিয়াল ও কমার্শিয়াল মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ও লোন অরিজিনেটর একুরিয়ান এজেন্সী এলএলসি। টান টান উত্তেজনা আর ক্রিকেট প্রেমিক সমর্থকদের মুহুর্মুহ করতালি ও হৈ চৈ মুখর পরিবেশে আটলান্টার লাকী সলস পার্কের ক্রিকেট মাঠে মোট আটটি দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করার পর দিনের শেষে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি দলে নয় জন করে খেলোয়াড় ও নয় ওভারের এই খেলায় নক আউট সিস্টেমে বাছাইয়ের পর দিনের শেষে সেরা দুই দল বেঙ্গলী বয়েজ ও প্যান্থারসের মধ্যে উত্তেজনাকর ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শক্তিশালী বেঙ্গলী বয়েজ দল চ্যাম্পিয়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্যান্থারস দল রানার আপ হবার গৌরব অর্জন করে। টুর্নামেন্টে যে আটটি দল অংশ নেয়, সেগুলি হলঃ বি ডি ইয়ং স্টারস, বি ডি ব্লুজ, জাগরণ, ইউনাইটেড টাইগার্স, প্যান্থারস, টীম সিলেট, বেঙ্গলী বয়েজ ও আটলান্টা কাশ্মীর। এছাড়া টুর্নামেন্টে বিশেষ দক্ষতার ক্যাটাগরিতে এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ম্যান অব ফাইনাল টি মরগান (বেঙ্গলী বয়েজ), সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী পলাশ (প্যান্থারস), সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী টি মরগান (বেঙ্গলী বয়েজ) ও ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট টি মরগান (বেঙ্গলী বয়েজ)। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আগা জামিল এবং পরবর্তী দুই মেয়াদের দুই সভাপতি যথাক্রমে হালিম ইউসুফ ও খন্দকার আসাদুর রহমান ও বর্তমান মেয়াদের সভাপতি গাইডেন হকিন্স এই চার সভাপতির সম্মানে আটলান্টায় এটি ছিল দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট কাপ টুর্নামেন্ট। এদিকে ঐদিন ফাইনাল খেলাটি সম্পন্ন করার পর সূর্যাস্তের কারণে আর সময় সংকুলান না হওয়ায় এ্যাওয়ার্ড প্রদানের আনুষ্ঠানিক পর্বটি আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত অনুষ্ঠানটি আগামী ২৪ আগস্ট রোববার সকাল এগারটায় একই পার্কে অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি গাইডেন হকিন্স, সহ সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ বিজয়ীদেরকে উৎসাহিত করার জন্যে সকল ক্রিকেট প্রেমিকদের অংশগ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

প্রবাস

ঢাকা এয়ারপোর্টের কাউন্টারে আটলান্টার যাত্রী হয়রানি || কুয়েত এয়ারওয়েজের যাত্রীরা সাবধান!
Published : 25.08.2014 11:34:18 pm

প্রতি যাত্রীর জন্যে টিকেটে দুইটি করে লাগেজ নেয়ার বিধিবিধান উল্লেখ করে দেয়ার পরও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে একটি লাগেজের নিয়ম দেখিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজ কর্মীদের বাড়তি ক্যাশ অর্থ আদায়ের অভিযোগ এসেছে সম্প্রতি।ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে যাওয়া বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক রাসেল ভুঁইয়া পরিবারের ক্ষেত্রে ঢাকা এয়ারপোর্টের টিকেট কাউণ্টারে। আটলান্টার টাকার অটো বডি শপ এর স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রাসেল ভুঁইয়া গত সামারে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সাথে উপভোগ করতে স্ত্রী সন্তান ও এক বন্ধুসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। নিউ ইয়র্ক থেকে নামীদামী প্রতিষ্ঠিত ট্র্যাভেল এজেন্সী এয়ার সেভিংসএর কাছ থেকে ই টিকেট ক্রয় করে বহাল তবিয়তেই আটলান্টা থেকে কানেটিং ফ্লাইট হয়ে পরে নিউইয়র্ক থেকে কুয়েত এয়ারওয়েজ যোগে ঢাকা পৌঁছেছিলেন তিনি। সামারের ছুটি ও ঈদের আনন্দ স্বদেশের সকল আত্মীয় স্বজনদের সাথে উপভোগ করার পর বিধি বাম হল যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে গত ৩ আগস্ট ঢাকা এয়ারপোর্টে। রাসেল ভুঁইয়া তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আটলান্টায় প্রত্যাবর্তনের পর তীব্র হতাশা ও ক্ষুব্ধ চিত্তে এই প্রতিবেদককে জানান, ই টিকেটে পরিস্কার ইংরেজী হরফে প্রতি যাত্রীর জন্যে দুইটি করে লাগেজ বহনের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা এয়ারপোর্টের টিকেট কাউণ্টারের কর্তব্যরত কুয়েত এয়ারওয়েজের বাংলাদেশী কর্মচারী প্রতি যাত্রীর জন্যে মাত্র একটি করে লাগেজ বহনের বিধানের উল্লেখ করে বাড়তি দ্বিতীয় কাগেজের জন্যে একশত চল্লিশ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় এগার হাজার তিন শত টাকা হিসেবে পাঁচজনের পাঁচটি লাগেজের জন্যে মোট ছাপ্পান্ন হাজার পাঁচশত টাকা অর্থাৎ সাত শত ডলার ক্যাশ মুদ্রা পরিশোধের জন্যে চাপ দিয়েছিলেন। রাসেল ভুঁইয়া আকস্মিকভাবে এধরনের আচরণের হতবাক ও একটি লাগেজের বিধানটি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করলেও জনৈক কুয়েত বিমানের ঐ কর্মচারী উক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে অটল থাকেন এবং ক্যাশ অর্থ পরিশোধ না করলে একটি করেই লাগেজ নিয়ে যেতে হবে বলে পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দেন।রাসেল বলেন, সে সময় ভাগ্য কিছুটা আমার পক্ষে ছিল বলে প্লেনটা ছাড়তে প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছিল। ফলে আমি ওদের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারের সাথে কথা বলার জন্যে অনুরোধ জানালাম। কিন্তু তাতেও কাজ হল না, কাউন্টারের কর্মচারীটি বললেন, সুপারভাইজার এখন অফ ডিউটিতে আছেন, কারো সাথেই কথা হবেনা। এরপর রাসেল তাঁর স্মার্ট ফোন থেকে ই-টিকেটের কপিতে যে দুইটি করে লাগেজ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে এবং আটলান্টা থেকে তাঁরা দুইটি করেই লাগেজ নিয়ে এসেছেন, সেটি সচক্ষে দেখানোর প্রাণপন চেষ্টা চালালেন। কিন্তু তাতেও কাজ হল না। উত্তরে কর্মচারী জানালেন, আপনার টিকেটে কি লেখা আছে, সেটা আমার জানার জানার বিষয় না, আমার কম্পিউটারে যা লেখা আছে, সেইটাই আমি ফলো করবো।রাসেল ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি এবারে সরাসরি কুয়েত এয়ার ওয়েজের হেড অফিসে ফোন লাগালেন, কিন্তু দুভাগ্য, কেউ ফোন ধরছিল না। পরে তিনি কুয়েত এয়ারওয়েজের নিজস্ব ওয়েব সাইট থেকে তাঁদের পুরো টিকেটের সমস্ত তথ্যাবলি বের করে সেখান থেকে আবারও দুইটি লাগেজ বহনের নির্দেশনাটি কর্মচারীর চোখের সামনে তুলে ধরলেন। রাসেল বললেন, আল্লাহর অশেষ রহমত নাজিল হল মনে হয় শেষ মেশ, কিন্তু কর্মচারীটির ক্যাশ অর্থ আদায়ের আকাংখাটি সফল না হাওয়ায় তার ক্ষমতাকে কিছুটা ঘুরিয়ে নিম রাজী হলেন এই সর্তে যে, আটলান্টা পর্যন্ত দেয়া যাবেনা, নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত দেয়া যাবে। রাসেল বললেন, শেষে মন্দের ভালো হিসেবে নিউ ইয়র্ক পর্যন্তই দুইটি করে লাগেজ নিয়ে এলাম । তাঁর ভাষায়, ছেড়ে দ্যা মা কেঁদে বাঁচি। ফলে সেই যাত্রায় রাসেল ভুঁইয়া নিউ ইয়র্ক থেকে বাকী পাঁচটি লাগেজ বিধি থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ফী পরিশোধ করে আটলান্টায় ফিরে এসেছেন।রাসেলের মতে, কুয়েত এয়ারওয়েজের ঢাকা এয়ারপোর্টের কাউণ্টারে এভাবেই অসংখ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে বাড়তি অর্থ কামিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশি কুয়েত এয়ারওয়েজ কর্মচারীরা। আর রাসেলের মত যারা এইভাবে প্রতিবাদী হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই কোনরকমে পরিত্রান পেয়ে যাচ্ছেন।রাসেল ভুঁইয়া এই প্রতিবেদকে পরে জানালেন যে, তিনি আটলান্টা ফিরেই কুয়েত এয়ারওয়েজ প্রধান অফিসে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং কর্তৃপক্ষ রাসেলকে এই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁর প্রতিকার করবে বলে আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কোন আপ ডেট পান নি বলে জানান। পরিশেষে রাসেল এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রবাসীদেরকে কুয়েত এয়ারওয়েজে ভ্রমণের ব্যাপারে বিশেষ করে ঢাকা এয়ারপোর্টের সেইসব কর্মচারীদের হয়রানি থেকে নিরাপদ থাকতে সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাসেল ভুঁইয়া ফেরার পথের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ৩ আগস্ট তারিখেও ইমিগ্রেশন পার হবার পর পরই তাঁর ফেস বুক স্ট্যাটাসে পোস্টিং দিয়েছিলেন।

বিস্তারিত
সৌদি আরবে আটক আছেন দুই শতাধিক বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন থানায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি আটক আছেন। এসব বাংলাদেশিদের অনেকেই চলমান অভিবাসীবিরোধী অভিযানে সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে রিয়াদের মানফুহা, হারা (হাই আল ওজারাত), বাথা, গেদিম সানাইয়াসহ (পুরাতন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আটককৃতদের কফিল (স্পন্সর) চাইলে জেল থেকে বের করে আনতে পারবেন। এছাড়া অতিবাহিত হওয়া সময়ের জরিমানা দিয়ে নতুন করে ইকামা বানিয়ে তারা বৈধ হতে পারবেন বলেও জানান তিনি।তিনি আরও জানান, বর্তমানে রিয়াদ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন থানায় প্রায় দুইশতাধিক বাংলাদেশি আটক আছেন। এর মধ্যে শুধু রিয়াদেই আছেন ১২০ জন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে অবৈধ অভিবাসী ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে আটক হওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। রিয়াদের গভর্নর যুবরাজ তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক অভিযান। আটক অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। এছাড়া আটকের তালিকায় ভারত,পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলংকার নাগরিকও রয়েছেন। অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ পুলিশ বিভাগ।এর আগে গত নভেম্বরে সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদি আরবে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে বৈধ না হওয়া শ্রমিকদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো সৌদি সরকার। এ সময়ের মধ্যে যে সকল প্রবাসী শ্রমিক বৈধ হননি বা সৌদি আরব ছেড়ে যাননি ওই সকল শ্রমিককে আইনের আওতায় আনতেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিশ্রুতিশীল ছড়াকার ও সাংবাদিক ওবায়দুল গনি চন্দন আর নেই

তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল ছড়াকার, দৈনিক মানব কণ্ঠের সাংবাদিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ওবায়দুল গনি চন্দন আর নেই (ইন্নালিল্লাহে… রাজেউন)। আকস্মিকভাবে সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন জীবন উত্তরণের মাঝ পথে ছন্দ পতন ঘটিয়ে। মাত্র বেয়াল্লিশ বছরের এই সম্ভাবনাময়ী ছড়াকার-সাংবাদিককে শনিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন। প্রয়াত ওবায়দুল গণি চন্দন দৈনিক মানবকণ্ঠের ফিচার এডিটর ছিলেন । ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়ে উঠা চন্দনের পৈত্রিক বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। জানা যায়, সকালে এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। তিনি চলে গেলেন সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে।জানা গেছে, তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন, সম্প্রতি ফুসফুসে পানি জমার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। জোহরের নামাজের পর চন্দনের জানাজা হয় পর্যায়ক্রমে তাঁর কর্মস্থল মানব কণ্ঠ অফিসে এবং প্রেস ক্লাবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হয়।ওবায়দুল গণি একাধারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, বাংলাভিশন, বৈশাখী টেলিভিশনে কাজ করেছেন। এছাড়া কিশোর তারকা লোক ও রম্য সাময়িকী কার্টুনেও কাজ করতেন।তার প্রকাশিত ছড়ার বইয়ের সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কান নিয়েছে চিলে’, ‘আমার মানুষ গান করে’, ‘থাকছি ঢাকায় সবাই ফাইন চারশো বছর চারশো’, ‘আঙুল ফুটে বটগাছ’, ‘লেবেন ডিশের লেবেনচুষ’, ‘ভ্যাবলা ছেলে ক্যাবলাকান্ত’, ‘সবুজ সবুজ মনটা অবুঝ’। ছড়ার পাশাপাশি তিনি ছোটগল্প, গান ও টিভি নাটকও লিখতেন। ছড়া সাহিত্যে ২০০০ সালে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান ওবায়দুল গনি চন্দন।ওবায়দুল গণি চন্দনের স্ত্রী রুবিনা মোস্তফা এসএ টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তাদের একটি ছেলে রয়েছে। মৃত্যুর তিন দিন আগে তিনি তাঁর ফেস বুকের নিজের প্রোফাইল ছবি সরিয়ে শিশু সন্তানের ছবি স্থাপন করে দিয়েছিলেন। তাঁর কানাডা প্রবাসী অপর ছড়াকার বন্ধুর প্রদত্ত পাঞ্জাবী উপহার সম্পর্কে ফেস বুকের এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘পাঞ্জাবী জিনিসটা পরলে কেমন যেনো লাগে আমার। নিচে ল্যার ল্যার করে। আলমারিতে ১১টা পাঞ্জাবী আছে পরা হয়না। আজ হঠাৎ পাঞ্জাবী পরে অফিস করলাম। এই পাঞ্জাবীটা দিয়েছেন কানাডা প্রবাসী প্রখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন’।প্রয়াত চন্দনকে নিয়ে লিখতে গিয়ে ছড়াকার লুতফর রহমান রিটনের লেখা থেকে এই তথ্য জানা যায়। চন্দনের মৃত্যুর খবরে তাঁকে নিয়ে কবি ও সাংবাদিক কানাডা প্রবাসী অপর বন্ধু সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল লিখেছেন, চন্দনের বাড়ি নান্দাইল আর আমার হচ্ছে- নান্দিনা। আমরা মৈমন্সিঙ্গ্যা। মানে বৃহত্তর ময়মনসিংহ। এলাকা নিয়ে কথা হচ্ছে। বললাম, ময়মনসিংহের অনুবাদ করলে কি হয়, জানো। চন্দন দ্রুত বল্ল, ‘My men sing, আমার মানুষ গান করে’। উত্তরটা তার জানাই ছিলো। বলল, আমার একটা ছড়ার বইয়ের নাম রাখবো- ‘আমার মানুষ গান করে। হা হা হা… তার এই হাসি এখনো কানে বাজে! চন্দনের অগ্রজ বন্ধু বৈশাখী টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বার্তা প্রধান মনজুরুল আহসান বুলবুল মৃত্যুর খবর পেয়ে ফেস বুকের স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমার জন্মদিনের তারিখ ৫। সেই তারিখে সন্ধ্যায় চন্দন, ওবায়দুল গণি চন্দন- ফুলের পাঁচটি স্টিক নিয়ে হাজির। ময়মনসিংহের ভাষার টানে বলছে:,’বুলবুল ভাই, জন্মদিনডা যদি ১৫২০//৩০ তারিখ হইত, তাইলে এই স্টিক দিতে পারতাম না। কারণ এগুলার যা দাম, তাতে আমি পাঁচটার বেশি কিনবারই পাইতাম না , হা হা হা । আমিতো গুলশান থাইক্যা হাইট্টাই আসি, কিন্তু এই দামি ফুল নিয়া হাইট্টা আসার সাহস পাই নাই, যদি ছিনতাই হয়– হা হা হা। আইছি সিএনজি-তে , সিএনজি’র ভাড়াডা দেওন লাগবো- হা হা হা । ’ ওকে শেষ বিদায় জানিয়ে আজ জলভরা চোখে তাকিয়ে দেখি সেই স্টিকগুলো আমার রূম জুড়ে চন্দনের সুবাস ছড়াচ্ছে। বিদায় চন্দন। ভালো থাকো।এদিকে ঢাকায় ওবায়দুল গনি চন্দনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শোক প্রকাশ করেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনও শোক জানিয়েছে ইতোমধ্যে। অন্যদিকে এই তরুণ ছড়াকার ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খবর ডট কমের সম্পাদক সম্পাদক শিব্বির আহমেদ, সহযোগী সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, নিউ ইয়র্কের সাংবাদিক ও লেখক আকবর হায়দার কিরণ, কবি ও সাংবাদিক ফকির ইলিয়াস, সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান টনি, মুক্তধারার প্রধান বিশ্বজিত সাহা, জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টার প্রবীন কবি গোলাম রহমান, কবি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক রুমী কবির, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বাংলাধারার নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, কবি, লেখক ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার সভাপতি ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক, সাংবাদিক শামসুল আলম, সাংবাদিক এ এইচ রাসেল, সাংবাদিক মনজিলুর রহমান, আটলান্টা কালচারাল সোসাইটির সভাপতি এম মওলা দিলু, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যথাক্রমে জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহমাদুর রহমান পারভেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠক মাইসুন মালিহা, সেবা লাইব্রেরীর পক্ষে হারুন রশীদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ

নিজের বাসা ঘুরে গেলেন প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিব
Published : 24.08.2014 11:18:14 pm

নগরীর কানিশাইলস্থ বাসা ঘুরে গেলেন অপহরণকারীদের হাত থেকে সাড়ে তিনমাস পর মুক্ত হওয়া প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব। শনিবার বিকেলে পুলিশী প্রহরায় তাকে সিলেট নগরীতে নিয়ে আসা হয়। প্রায় দেড়ঘন্টা বাসায় অবস্থানের পর তাকে পুণরায় সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। মুজিব রবিবার আদালতে অপহরণের পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে পারেন। আদালত বক্তব্য রেকর্ডের পর পুলিশী প্রহরা থেকে তিনি মুক্ত হয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ থানার এসআই বদরুজ্জামান। উপ পরিদর্শক (এসআই) বদরুজ্জামান কে জানান- সকাল সাড়ে ১২টায় সুনামগঞ্জ থেকে পুলিশ প্রহরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে মুজিবকে নিয়ে রওয়ানা হন তিনি। সিলেটে এসে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। এরপর বিকেল পৌনে ৫টায় তাকে কানিশাইলস্থ বাসা ‘মুজিব ভিলা’য় নিয়ে যাওয়া হয়। বাসা থেকে মুজিব তার কাপড়, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন। বিকেল সোয়া ৬টায় তিনি বাসা থেকে বের হন। এসআই বদরুজ্জামান জানান- সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট আনার সময় মুজিবের নিরাপত্তায় তিনিসহ দুইজন এসআই, একজন এএসআই ও ৯ জন কনস্টেবল ছিলেন। বিকেলে মুজিবের চিকিৎসক শাহবুদ্দীনের সাথে দেখা করিয়ে তাকে পুণরায় সুনামগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হবে। মুজিব ‘নিখোঁজ’ ঘটনাটি ঢাকা সিআইডি তদন্ত করবে বলে জানান তিনি। মুজিবের বেয়াই রফিক মিয়া জানান- সিলেট এসে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মুজিব জল্লারপাড়স্থ হোটেল পানসীতে দুপুরের খাবার খান।

বিস্তারিত
৭১ টেলিভিশনে কোনো ভদ্রলোক আসতে পারে না : অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী

রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ হবে? এমন প্রশ্ন নিয়ে ৭১ সংযোগ লাইভ অনুষ্ঠান শুরু হবার পর সেখান থেকে উঠে চলে গেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। যাবার আগে তিনি বলেন, উপস্থাপকের ভূমিকা অনুষ্ঠান মডারেট করা.. অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ২১’শে আগষ্টের ঘটনায় প্রকাশ্যে জনসভায় আপনি ১৬টি গ্রেনেড মারলেন, তারমধ্যে দুটি ফোটে নাই। সে দুটি গ্রেনেড নষ্ট করে ফেললেন। জেলখানার ভেতরে গ্রেনেড পাওয়া গেল। আপনার ওসমানি উদ্যানের ভেতর গ্রেনেড পাওয়া গেল। এ সবকটি গ্রেনেডকে আপনি নষ্ট করে ফেলা হল। এ পর্যায়ে দিলারা চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। শ্যামল দত্ত, দিলারা চৌধুরীর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তদন্ত হওয়া দরকার, আনফরচুনেটলি তদন্ত হয়নি। আপনি জজ মিয়া বের করলেন। ৭৫’এর খুনিদের চাকরি দিলেন বিভিন্ন মিশনে। এ পর্যায়ে দিলারা বলেন, কে দিয়েছে মোশতাক, শ্যামল দত্ত বলেন, মোশতাক দিয়েছে। দিলারা প্রশ্ন তোলেন, মোশতাক আওয়ামী লীগ না? শ্যামল দত্ত বলেন, এবং এই চাকরি কন্টিনিউ করেছেন বেগম জিয়া পর্যন্ত। মোশতাক মীরজাফর বেঈমান। এ পর্যায়ে দিলারা জামান, শ্যামল দত্তকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এমন এক সময়ে এ কথা তুললেন যারা এখনো ক্ষমতায় আছেন এবং তারা মোশতাকের ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলেন। তাদের কথা বলেন, যে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, পারবেন তাদের নাম বলতে? শ্যামল বলেন, অবশ্যই আছে। দিলারা ফের তাকে তাদের নাম বলতে বললে শ্যামল দত্ত হেসে বলেন, আমিতো ইয়াহিয়া ক্যাবিনেটে যারা ছিলেন তাদেরো নাম বলব আপা.. দিলারা জামান বলেন, হ্যা নাম বলেন। ওই ক্যাবিনেটে আমার হাজবেন্ট ছিল। শ্যামল এপর্যায়ে বলেন, ইয়েস। দিলারা বলেন, যদি ইতিহাস ঘাটতে হয় তাহলে আমার হাজবেন্ডের বই পড়ে দেখবেন। আপনার হাজবেন্ড’এর বই পড়ে দেখেছি ম্যাডাম। দিলারা বলেন, আমি এখানে আমার হাজবেন্ডকে রিপ্রেজেন্ট করতে আসিনি। আমিতো বলিনি যে আমার হাজবেন্ডের কাসুন্দি ঘাটেন। আমি বলেছি মোশতাকের ক্যাবিনেটে যারা ছিল তাদের নাম বলেন। তার সঙ্গে ইয়াহিয়া ক্যাবিনেটের সদস্যদের নাম বলার কি যোগাযোগ আছে। আপনি কি বলেন, এটা বলে পারসোনালি হিউমিলেট করতে পারবেন আমাকে ? এসময় তুমুল বিতর্ক শুরু হয় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে। শ্যামল দত্ত এক পর্যায়ে বলেন, ইয়াহিয়া ক্যাবিনেটে আপনার হাজবেন্ড ছিল একথা তো বলিনি আমি। দিলারা বলেন, তাহলে আপনি হাসি দিয়ে কেন বললেন যে তাহলে আমাকে ইয়াহিয়া ক্যাবিনেট মেম্বারদের নাম বলতে হবে। শ্যামল দত্ত বলেন, যুগে যুগে বিভিন্ন ক্যাবিনেটে বেঈমানরা ছিল। ইয়াহিয়ার ক্যাবিনেটেও ছিল, মুজিবের ক্যাবিনেটেও ছিল। দিলারা এ সময় শ্যামল দত্তকে বলেন, তাহলে সেই বেঈমানরা যারা এখন পাওয়ারে চলে আসছে তাদের নাম বলেন। কোনো সদুত্তর না পেয়ে দিলারা চৌধুরী এসময় বলেন, আমার বক্তব্য শেষ হয়নি। আমি বলতে চাচ্ছি অন রেকর্ড ৭১ টেলিভিশনে কোনো ভদ্রলোক, কোনো একাডেমিশিয়ান এখানে কোনো আলোচনায় অংশ নিতে আসতে পারে না। এ পর্যায়ে অনএয়ারে দিলারা চৌধুরী উঠে দাঁড়ান এবং স্টুডিও ত্যাগ করতে উদ্যত হন। এ পর্যায়ে অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে অনুষ্ঠান আমাদের শুরু করতে হচ্ছে। যাবার আগে উপস্থাপক শাকিল আহমেদ, দিলারা চৌধুরীকে বসতে বললে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ভাবে কথা উঠালে আমি বসব না। শাকিল আহমেদ জানান, সে দায় ৭১ টেলিভিশন কিভাবে নেবে? জবাবে দিলারা চৌধুরী বলেন, ৭১ টেলিভিশনের উপস্থাপকের যে রোল, সে রোলটা হবে মডারেট করা। মডারেট করতে যেয়ে অনেককে অনেক কিছু চান্স দিয়ে ফেলছেন। অনুষ্ঠানে শ্যামল চৌধুরী ও অধ্যাপক মেজবাহ কামালকে লক্ষ্য করে দিলারা বলেন, আমি এখানে বসে বসে অতীতে আপনার কোথায় ছিলেন, কোনখান থেকে জাম্প করে এখানে এসেছেন এগুলো বের করি? এ পর্যায়ে স্টুডিও থেকে দিলারা চৌধুরী বের হয়ে গেলে উপস্থাপক শাকিল আহমেদ বলেন, আমার মনে হয় বিরতিতে যাওয়া ছাড়া .. ধন্যবাদ আমরা একটা বিরতির পর ফিরে আসছি। বিরতির পর উপস্থাপক শাকিল আহমেদ দিলারা চৌধুরীকে ছাড়াই বাকি দুই অতিথি শ্যামল দত্ত ও অধ্যাপক মেজবাহ কামালকে নিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, শুধু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নয় এর পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়ে যে ভূমিকা নিয়েছে তাতে আমি লজ্জিত হয়েছি। ৪২ টি দলের মধ্যে ৮/৯টি দলের অংশ গ্রহণে যে নির্বাচন হয়েছে তা অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, যেখানে সাংবিধানিক পথ বন্ধ হয়ে যায় সেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা হবে এটাই স্বাভাবিক। দাবি না মানলে সহিংসতা হবেই। সহিংসতা শুধু একটি দলই করে না, সহিংসতা আওয়ামী লীগও করে। কিন্তু সহিংসতা কারোই কাম্য নয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত ও হেফাজতের সহিংসতার কথা বললে তার নিন্দা করবো। কিন্তু সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে আন্দোলন হয়েছে তার নিন্দা করবো না। দুই পক্ষই একে অপরের প্রতি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

খুলনায় ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে ব্যবসায়ীর ৬০ লাখ টাকা ছিনতাই

খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিনেদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে ব্যবসায়ীর ৬০ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকাল ৩ টায় রূপসা উপজেলার ইলাইপুর এলাকার লামিয়া সী ফুডের স্বত্ত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম (৪২) এবং তার ক্যাশিয়ার আমিনুল শেখ (২৫) খুলনার স্যার ইকবাল রোড শাখা ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৬০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা উত্তোলন করে রূপসা ব্রীজ হয়ে মোটর সাইকেলযোগে (খুলনা মেট্রো-ল-১১-৫৫১৯) ইলাইপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মটরসাইকেলটি জাবুসার চৌরাস্তা পার হয়ে ইলাইপুর শীল বাড়ির কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে একটি মোটর সাইকেলে ৩জন ছিনতাইকারীর একটি দল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই আশরাফুলকে লক্ষ্য করে ২ ছিনতাইকারী রিভলবার দিয়ে গুলি ছোঁড়ে। একটি গুলি আশরাফুলের দুই হাতের কবজিতে লাগে এবং অপরগুলিটি মোটর সাইকেলের ট্যাংকি ভেদ হয়ে যায়। তারা ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে ছিনতাইকারীরা আমিনুল শেখকে ছুরিকাঘাত করে তার কাছে থাকা ব্যাগে রক্ষিত ৬০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মুহূর্তের মধ্যে তারা মোটর সাইকেল যোগে জাবুসা চৌরাস্তা পার হয়ে তিলক কুদির বটতলার দিকে চলে যায়। আহতদের প্রথমে রেভাঃ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। লামিয়া ফিসের অপর অংশীদার রবিউল ইসলাম জানান, বিভিন্ন ডিপো মালিকদের টাকা পরিশোধ করার কথা থাকায় তারা খুলনা থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানালে রূপসা থানার ওসি মেজবা উদ্দীন বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালান। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার বা ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়নি। ঘটনার পর এসপি মো: হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, এ এসপি সার্কেল আ: রাজ্জাক, ডিবি পুলিশের ওসি ত ম রোকনুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। খুলনা জেলা ডিবির ওসি ত ম রোকনুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম ৬০লাখ টাকা খুলনা মহানগরীর ব্র্যাক ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পূর্ব রূপসার লামিয়া ফিস-এ মটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন। এসময় পথিমধ্যে জাবুসা এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তাদের গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্রাঘাতে আহত করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। রূপসা থানার ওসি মেজবা উদ্দীন জানান, ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের জন্য ঘটনার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। তবে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার বা টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বিশাল অংকের এ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রথমত, ৬০লাখ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ছিনতাইকারীরা কিভাবে নিশ্চিত হলো। কোনো না কোনোভাবে ছিনতাইকারীরা আগেভাগেই নিশ্চিত হয় যে ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম টাকা উত্তোলন করে ফিরছেন। টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ব্যবাসায়ী আশরাফুল ও তার ক্যাশিয়ারসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ এবং ব্যাংক জানতে পারে। ছিনতাইকারীরা জানলো কেমন করে। কে তাদের সংবাদ দিলো। পুলিশ এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। দ্বিতীয়ত এত বড় অংকের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী আশরাফুল পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারতেন। তিনি আগেভাগে পুলিশকে জানালে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারতো। তৃতীয়ত জাবুসার ওই রাস্তাটি অনেক আগে থেকেই ঝূঁকিপূর্ণ, তাহলে ওই রাস্তায় কেন পুলিশের নিয়মিত টহল থাকে না। ঘটনা দিনের বেলায় যেভাবে ঘটেছে তাতে ওই এলাকা বা আশেপাশের এলাকার কোন না কোন লোক এ ছিনতাইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে পুলিশের কাছে মনে হচ্ছে। সবমিলিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ভিডিও