জর্জিয়ার খবর

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় জর্জিয়ায় শ্যামা পুজা উদযাপিত
Published : 27.10.2014 09:27:26 am

গতকাল ২৫ অক্টোবর এবং এর আগের দিন ২৪ অক্টোবর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জর্জিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামা বা কালী পুজা উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্যামা বা কালীপূজা উৎসবের প্রথমে সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে প্রয়াত পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের আত্মার শান্তি কামনা করেন। স্বামী-সন্তান ও স্বজনরা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দর থাকতে পারে সেই কল্যাণ কামনায় শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের কাছে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এরপর ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে জর্জিয়া প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংগঠন জর্জিয়া বাংলাদেশ পুজা সমিতি ও বাংলাদেশ পুজা এ্যাসোসিয়েসন বিপিএ স্থানীয় জেসি ইভেন্ট হলে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । ২৪ অক্টোবর শুত্রবার সন্ধ্যায় জর্জিয়া বাংলাদেশ পুজা সমিতির সভাপতি রজত শুভ্র দে বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক রমেশ সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য যারা উপস্থিত ছিলেন মনশ্রী দে জবা, শ্রীমতি মৌ, নিশিকান্ত দাস, রনদা প্রসাদ চৌধুরি, ধ্রুব ধর, সজল মুনি দে, সুকুমার সরকার,শশাংক দাস প্রমুখ। পুরোহিতের কর্তব্য পালন করেন বাবু সুভাষ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে ভারতীয় আইডল রাকা দাস এবং স্থানীয়দের মধ্যে সোমা দাস, মনশ্রী দে, পুরবী সুত্রধর, সুমিতা দেসহ আরো অনেকে। ২৫ অক্টোবর শনিবার সিগ্ধা দে ও শ্যাম চন্দর পরিচালনায় বাংলাদেশ পুজা এ্যাসোসিয়েসন বিপিএ এর অনুষ্ঠান সঙ্গীত পরিবেশন করে তৃপ্তি চক্রবর্তী এবং স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। পুরোহিতের কর্তব্য পালন করেন শ্রী কাজল চত্রবর্তী। যদিও হিন্দুসম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান দেখা গেছে জর্জিয়া প্রবাসী প্রচুর সংখ্যক মুসলমান নর-নারি এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। দুর্গাপূজার বিজয়ার পরবর্তী অমাবস্যার রাতেই এ পুজার আয়োজন করা হয়। পৃথিবীর সকল অন্ধকারের অমানিশা দূর করতেই এই আয়োজন। কেউ কেউ এ উৎসবকে দেওয়ালী উৎসব বলে থাকেন বিশেষ করে ভারতীয়রা। ত্রেতা যুগে চৌদ্দ বছর বন বাস থাকারপর নবমীতে শ্রীরাম রাবণ বধের বিজয় আনন্দ নিয়ে দশমীতে অযোধ্যায় ফিরে আসেন। রামের আগমন বার্তা শুনে সমস্ত প্রজাকুল তাদের গৃহে প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উৎসব পালন করেন। এই উৎসবকে দীপাবলি উৎসবও বলা হয়।

বিস্তারিত
মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে পিতা-মাতা হারালেন শামীম

আটলান্টা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ও জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম শামীমের পিতা ও মাতা মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। পিতা অবসরপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল মারা যান ১৯ অক্টোবর রবিবার এবং মাতা বেগম মমতাজ মহল ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার।(ইন্নালিলাহে ..... রাজেউন)। এ সময়ে তাদের বয়স হয়েছিল যথাক্রমে ৯৩ ও ৭৩ বছর। এ প্রতিনিধির সাথে টেলিফোনে আলাপকালে জনাব শামীম জানান পিতা ও মাতার অসুস্থাতার খবর পেয়ে পেয়ে গত সপ্তায় তিনি দেশে যান। এ সময়ে পিতা-মাতা উভয়ে ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাতা ডায়াবেটিস ও কিডনী জনিত রোগে ও পিতা হঠাৎ স্টোক করে কিছুটা সুস্থ হলে সেখানে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ অক্টোবর পিতা হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পিতার মৃত্যুর পর তার শেষকৃর্ত্য শেষ করে ঢাকার উপকন্ঠে নিজগ্রাম নরসিংদীর জেলার আমিনপুরে সমাহিত করে পরের দিন আটলান্টায় চলে আসি। আটলান্টার পৌঁছার কয়েক ঘন্টার মধেই টেলিফোনে খবর পাই মা’ বাবার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে বাবার পথযাত্রী হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর দুইদিন পরে ২১ অক্টোবর তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃতদেহটিও বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম শামীমের পিতা ও মাতার মৃত্যতে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির বর্তমান সভাপতি সম্পাদক যথাক্রমে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহমাদুর রহমান পারভেজ, জর্জিয়া আওয়ামী লীগ আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব যথাক্রমে মোহাম্মদ আলী হোসেন ও শেখ জামাল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি মরহুমদের আত্নার শান্তি ও শোক সন্তর্প্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

জর্জিয়ায় ভ্রাম্যমান দূতাবাস ১ ও ২ নভেম্বর

জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আগামি ১ ও ২ নভেম্বর শনি ও রবিবার জর্জিয়ায় ভ্রাম্যমান দূতাবাস আসছে। নির্ধারিত দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে স্থানীয় সোনালী একচেঞ্জ কার্যালয়ে দূতাবাসের অফিস বসবে । বিস্তারিত জানতে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রবাস

বাহরাইনে ৫ মাস ধরে বেতন পান না ৬০ বাংলাদেশী শ্রমিক।
Published : 31.10.2014 01:03:00 am

দুঃভাগ্য পিছু ছাড়ছেনা বাংলাদেশের শ্রমিকদের । অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গেলেও নানা রকম নির্যাতনে স্বপ্ন পরিনত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। এমনটাই ঘটে চলেছে বাহরাইনে। বাহরাইনে ৫ মাস ধরে বেতন পান না ৬০ বাংলাদেশী শ্রমিক। নিয়োগকারীরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। সহিংস নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। অপমানিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে ওই শ্রমিকরা। তারা ঋণের ভারে জর্জরিত। বেতন চাইলেই তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়। এরই মধ্যে এ ‘অপরাধে’ দু’ শ্রমিককে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে দেশে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছেন বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ ডেইলি নিউজ। এতে আরও বলা হয়, শ্রমিকদেরকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা নিয়োগকারী ওই কোমপানির বিরুদ্ধে পুলিশ ও লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কেএম মমিনুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাদেরকে কাজে যেতে বলতে পারছেন না তিনি। তার ভাষায় পরিস্থিতি সমপূর্ণ অমানবিক। তাদের প্রতি সহিংস নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা আমাদের বলেছেন যে, মাসে ১২০ দিরহাম বেতন দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৯০ দিরহাম পরিশোধ করতো কোমপানিটি। এরপরও পাঁচ মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, পাঁচ মাস ধরে বেতন বাকি থাকার পর, কোন শ্রমিক যদি পাওনা বেতন চান, আপনি তাকে পেটাতে পারেন না। এ শ্রমিকরা ঋণে জর্জরিত। দেশে পাঠানোর মতো তাদের কাছে কোন অর্থ নেই। তাদের মধ্যে অনেকে এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কিনতে পারছেন না। রাষ্ট্রদূত আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি সমপর্কে এলএমআরএ’র প্রধান নির্বাহী অসামাহ আল আবসিকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন তিনি। অসামাহ আবসি বিষয়টি তদন্ত করে কোমপানিটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিস্তারিত
সৌদি আরবের শ্রমবাজার আরও কড়াকড়ি হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদ আর নিরাপত্তা নিয়ে উদিগ্ন মধ্য প্রাচ্য। তারই ধারা বাহিকতায় বিশেস আইন প্রনয়নে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ । সৌদি আরবের শ্রমবাজার আরও কড়াকড়ি হচ্ছে। সে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে আর কোন বিদেশী শ্রমিককে কাজ দিতে পারবে না। পারবে না ভিসার জন্য আবেদন করতে। স্পন্সর পরিবর্তন করাতে পারবে না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বিদেশী শ্রমিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমপক্ষে দু’বছর করে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিদেশী শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন। রয়েছেন ভারত, পাকিস্তান সহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক। এ নিয়ে সৌদি আরবের পত্রপত্রিকায় বড় বড় করে রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে- হলুদ (ইয়েলো) ও লাল (রেড) ক্যাটিগরিভুক্ত সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠানগুলো আর নতুন করে কোন বিদেশী শ্রমিককে ওয়ার্ক পারমিট দিতে পারবে না। এ দু’ক্যাটিগরির প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। স্পন্সর পরিবর্তন করতে পারবে না। তাদের শ্রমিক বা কর্মীদের পেশা পরিবর্তন করাতে পারবে না। সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় এসব বিধি-নিষেধ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে নিতাকাত নামে সৌদিকরণ কর্মসূচি চালু করা হয়। এর ডেডলাইন পেরিয়ে যায় ২০১৩ সালে। ওই সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশী শ্রমিকদের সঙ্গে সৌদি আরবের নাগরিকদের অনুপাত হিসাব করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মোট চারটি ক্যাটিগরিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- প্রিমিয়াম, গ্রিন, ইয়েলো ও রেড। যেসব প্রতিষ্ঠানে বা কোম্পানিতে সৌদি নাগরিকদের অনুপাত বেশি সেগুলোকে ফেলা হয়েছে প্রিমিয়াম ও গ্রিন ক্যাটিগরিতে। অন্যদিকে যেসব কোম্পানিতে সৌদি আরবের নাগরিকদের অনুপাত খুব কম সেগুলোকে ফেলা হয়েছে ইয়েলো ও রেড ক্যাটিগরিতে। ওদিকে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের নিতাকাতে যে সংস্কার করেছে সে অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি অবস্থান করছে গ্রিন জোনের অনেক নিচে তাদেরকে স্পন্সরশিপ পরিবর্তন ও ভিসা আবেদন করতে দেয়া হবে না। এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে গত শনিবার। তবে এসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের পেশা পরিবর্তন, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করাতে পারবে। যদি শ্রমিকের জাকাত ও আয়কর সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি ৬ মাস সময় দেয়া হবে। তবে ইয়েলো জোনে রয়েছে যেসব কোম্পানি তাতে কর্মরত বিদেশী শ্রমিকদের অবস্থানের মেয়াদ ৬ বছর থেকে কমিয়ে ৪ বছর করা হবে। এই সময় আগামী বছরের ২০শে এপ্রিল আরও দু’ বছর করে কমানো হতে পারে। ওদিকে সৌদি আরবে সৌদিকরণ নামে যে নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে তার ফল কি হয়েছে সেটা যাচাই করতে আগামী ২৩শে ডিসেম্বর থেকে বেসরকারি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে শতকরা কত ভাগ সৌদি নাগরিক রয়েছেন তা পরিমাপ শুরু করবে মন্ত্রণালয়।

দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ৩০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকের কান্না চলছে।

প্রবাস জীবনে মানুষ অনেক কষ্ট করে । তার পাশাপাশিমালিকের দেওয়া কষ্ট আর নানা কাগজ পত্রের ঝক্কি ঝামেলা তো আছেই । তেমনি একটি সংবাদ মানব জমিন হতে এমন একটি খবর তুলে ধরা হল। দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ৩০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকের কান্না চলছে। রাতে ইমিগ্রেশন পুলিশ, দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের যন্ত্রণায় কাটছে তাদের দিন। মালিকের সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করলে রক্ষা নেই। জেলখানায় বন্দি হতে হয়। ভিসার মেয়াদ না থাকায় নারী-পুরুষ কর্মীরা বাধ্য হয়ে কম বেতনেই বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন। এভাবে যারা কষ্ট মেনে নিয়ে কাজ করছেন, তারা বাসস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মুসলিম প্রধান দেশটিতে নারী শ্রমিকেরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশের রেড এলার্ট। গত বছরের ২৩শে ডিসেম্বরের পর পুলিশি আতঙ্কে কাটছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দিনকাল। ওই দিন মালদ্বীপ সরকার এক ঘোষণায় বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় নিজ খরচে দেশে ফেরত যেতে চায় তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সহজেই তারা নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন। এমন ঘোষণা যারা আমলে নেননি তাদের বিরুদ্ধেই চলছে অভিযান। মালদ্বীপের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করছে। দিন যত যাচ্ছে ক্রমেই এ সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের এক শ্রেণীর অসাধু রিক্রুটিং এজেন্ট ও তাদের মনোনীত দালালদের প্ররোচনায় এসব কর্মীরা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বা কেউ কেউ বেশি টাকা দিয়ে মালদ্বীপ যাচ্ছেন। মালদ্বীপে নিয়ে এদের মধ্যে অনেককে সুনির্দিষ্টভাবে চাকরি দেয়া হচ্ছে না। মালে ভাষা না জানা অনেক কর্মী নিজেদের মতো করে চাকরি খুঁজে নিয়েছেন। মালদ্বীপের হোলেমাল, হাডডু ও হিমাবুসি আইল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালদ্বীপে অদক্ষ শ্রমিকরা মাসিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ১৫০ ইউএস ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় সর্বোচ্চ ১৩-১৫ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়েই তাদের থাকা ও খাওয়া সামলাতে হচ্ছে। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন ফার্ম ছাড়া মালদ্বীপের কর্মসংস্থানের মান এখন সীমিত। ফলে কাজের ক্ষেত্র অনেক কমে এসেছে দেশটিতে। মালদ্বীপের হোলেমাল দ্বীপে কাজ করেন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জামাল মিয়া। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় মালদ্বীপে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়ে আসে এক শ্রেণীর দালালরা। এনেই হাডডু বা অন্য কোন দ্বীপে কাজ ছাড়া পাঠিয়ে দেন। এরপর বাধ্য হয়ে ভাষা না জানা বাংলাদেশীদের নিম্ন বেতনে অবরুদ্ধ অবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এ সময় বিভিন্নভাবে বাংলাদেশীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারা ঠিকভাবে বেতন-ভাতা, বাসস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মালদ্বীপে কর্মরত শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, হোলেমাল আইল্যান্ডের জেলখানায় বর্তমানে কয়েক শতাধিক বাংলাদেশী রয়েছেন। তাদেরকে বিভিন্ন হোটেল বা গেস্ট হাউজ থেকে কর্মরত অবস্থায় ধরে নিয়ে এসেছে। এরপর জেলখানায় পুরে রেখেছে। এ আইল্যান্ডের একটি থ্রি-স্টার হোটেলে কাজ করেন মুন্সীগঞ্জের কবির শেখ। তিনি জানান, বাঙালিদের গাদাগাদি করে থাকার চিত্র দেখে আসুন। আপনার নিজেরই চোখে পানি চলে আসবে। এক রুমে ২০ থেকে ২৫ জন থাকছেন। ফলে নানা রোগ শোকে তাদের আক্রমণ করেছে। অনেক শ্রমিকের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। শ্রমিকরা জানালেন, কয়েক মাস আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফর করে। ওই প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে সময় কাটানোতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। অথচ শুনেছি তারা মালদ্বীপের শ্রম বাজার সম্পর্কে একটি মজাদার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়নি। প্রবাসী শ্রমিকরা জানালেন, দূতাবাস কর্মকর্তাদের মন নেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেখভাল করতে। ভারতের একজন নাগরিক বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শারীরিকভাবে মালদ্বীপের কোন নাগরিক আঘাত করলেও সুষ্ঠু বিচারের জন্য চাপ দেন। কিন্তু ভিন্নচিত্র বাংলাদেশের কোন নাগরিকের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের কোন শ্রমিক বিপদে পড়লে তাদের সহায়তার জন্য দূতাবাসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর খোঁজ মেলে না। দূতাবাসের শীর্ষ পদটি কয়েক মাস ধরে খালি থাকলেও এনিয়ে সরকারের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। মালদ্বীপে বাংলাদেশী শ্রমিকদের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে ওই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে হেড অফ হাই কমিশন পদে নিযুক্ত মো. অহিদুজ্জামান লিটনকে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। দূতাবাসের নম্বরে ফোন করা হলে বলা হয়, স্যার এখন অনেক ব্যস্ত। এই মুহূর্তে কোন কথা বলতে পারছেন না।

বাংলাদেশ

আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর বিএনপি’র নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার পুত্র আবদুল্লাাহিল আমান আযমী।
Published : 31.10.2014 01:53:38 am

বিএন পির ঘাড়ে পা দিয়ে যারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এল আর গাড়িতে রাজাকার হয়েও পতাকা উড়াল তাদের মুখেই বি এন পির নিন্দা। গোলাম আজম মারা যাবার পর বি এন পি নেতা গরেশ্বর চন্দ্র রায় গোলাম আজমের ভাষা সৈনিক নামটি সামনে আনেন । তারপর ও খুশি নন তার পরিবার ।১৯৯৬ সালে নির্বাচনে ৩ আসন পাওয়া জামায়াত বি এন পির হাত ধরে ২০০১ সালে অনেক বেশি আসন আর ২টি মন্ত্রী পদ পায় রাজাকার খ্যাতদল জামায়াত । জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর বিএনপি’র নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার পুত্র আবদুল্লাাহিল আমান আযমী। এটাকে ‘অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একটি অনলাইনে ‘তারেকের নির্দেশে আযমের জানাযা বর্জন করলো বিএনপি’-শিরোনামে প্রকাশিত এক রিপোর্ট নিজের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করে তাতে এ মন্তব্য করেন আযমী। তিনি লিখেছেন, ‘অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর পুরো বিশ্ব শোক প্রকাশ করলেও বিএনপি’র নীরবতায় পুরো জাতি হতাশ। আমি জানি না কেন! আমার এটা বলতে কোন দ্বিধা নেই যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কখনওই সরকার গঠন করতে পারতো না। দুঃখের বিষয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা আমীর এবং আমৃত্যু আধ্যাত্মিক গুরুর মৃত্যুতে তাদের নীরবতা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য!’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা কখনও ক্ষমতায় যেতে পারবে না- এটা মাথায় রাখলে বিএনপি ভাল করবে। এটা আমার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। তারা কত অকৃতজ্ঞ হতে পারে!!! এ ব্যাপারে আবদুল্লাহিল আমান আযমী গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন, এটা আমার একান্ত অভিমত। আমার ফেসবুক থেকে এটা আমি দিয়েছি সত্য, তবে এটা নিয়ে এতটা বিতর্ক হবে জানলে দিতাম না। বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন একটি মতামত দেবেন বলে জানান তিনি। গত ২৩শে অক্টোবর অধ্যাপক গোলাম আযম ইন্তিকাল করেন। তার মৃত্যুতে জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোন শোক জানানো হয়নি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়া গোলাম আযমের শোক মিছিল কিংবা জানাজায় দলটির নীতিনির্ধারকদের অন্য কাউকে দেখা যায়নি। জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া মৃত্যুদ-ের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা দেশব্যাপী প্রথম দফার হরতাল শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত হরতাল চলবে। রাজধানীর বিভিন্ এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিলের করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাস, অটোরিক্সা, হিউম্যান হলারসহ বিভিন্ন গণপরিবহন কম চলাচল করছে। ভোরে গণপরিবহন কম থাকায় কমর্স্থলগামী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূর পাল্লার বাস ছেড়ে যায় নি । ইউনিক পরিবহনের ব্যবস্থাপক আবদুল হক জানান, তারা নিরাপত্তার কথা ভেবে সকাল থেকে দূর পাল্লার রুটে কোনো বাস ছাড়েননি। রাতে খুলনা থেকে রওনা দিয়ে তার দুটি বাস সকাল ৭টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি জানিয়ে হক বলেন, “পথে কোনো সমস্যার খবর পাইনি।” বিআইডব্লিউটিএর টাইম কিপার আলমগীর হোসেন জানান, সদরঘাটে সকাল থেকে সব লঞ্চ সময়মতো ছেড়ে গেছে। কমলাপুরে ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক বলে ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান। হরতালে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে সারাদেশেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে সকাল থেকে। মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদ-ের প্রতিবাদে বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার তিন দিন হরতালের ঘোষণা দেন। এছাড়াও শুক্রবার দেশব্যাপী দোয়া দিবস ও শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াত। ফকিরাপুলে অটোরিকশা ভাঙচুর,ককটেল বিস্ফোরণ ফকিরাপুলে দু’টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা ৩-৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পল্টন থানা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য ড. হেলালউদ্দিন। আরো উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা আমির মোকাররম হোসেন, শিবিরের পূর্ব শাখার অফিস সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, পল্টন থানা শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুসহ আরো অনেকে। হরতাল সমর্থনে জামায়াত-শিবির কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা দু’টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে ও ৩-৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে পুলিশ আসার আগেই তারা দ্রুত সটকে পড়ে।

বিস্তারিত
এক মুক্তি যোদ্ধা কাদা ছুড়ছেন আরেক জনকে

আমাদের মুক্তি যুদ্ধ ১৯৭১ আমরা কি ভুলতে পারি। আমাদের মুক্তির জন্য যারা নিজের জীবনকে বিপন্ন করল আমাদের আরও সুন্দর ভবিসতের জন্য যারা বর্তমানকে বিসর্জন দিল তারা সব সময় সম্মানীয় । দেশের অসুস্থ্য রাজনীতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেনীর লোক মুক্তি যুদ্ধকে মার্কেটিং করল নিজেদের দলীয় যুদ্ধ হিসাবে। দেশের ভিতর যারা সত্য বললেন তারা হলে নিন্দনীয়। এক মুক্তি যোদ্ধা কাদা ছুড়ছেন আরেক জনকে। তেমনই বক্তব্য দিলেন কে এম শফি উল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকারকে এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কে এম সফিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, একে খন্দকার ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বই লিখে মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনা করতে পারেন তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন না। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম ঢাকা বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ কে খন্দকারের সমালোচনা করে কে এম সফিউল্লাহ বলেন, এ কে খন্দকার স্বাধীনতাযুদ্ধে যাননি। তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতায় যান। আমরা যুদ্ধে গেছি মার্চ মাসে। আর উনি গেলেন মে মাসে। গিয়ে সোজা উঠলেন হেডকোয়ার্টারে। বাকি সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। তাহলে তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন? আবার ইতিহাস বিকৃতি করে বইও লিখেছেন। এখন তাকে আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন বই ও দলিলপত্র তুলে ধরে কেএম সফিউল্লাহ বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে জয় পাকিস্তান বলেছেন- এমন কখনও শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন ঘাঁপটি মেরে থাকা পাকিস্তানের এজেন্ট। যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনা করতে পারেন তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন না। এমন মন্তব্য করেছেন সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের বর্তমান সভাপতি কে এম সফিউল্লাহ। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগের সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সফিউল্লার মতে, এ কে খন্দকার ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বই লিখে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃতি করেছেন। এ কারণে এ কে খন্দকারকে এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। এ কে খন্দকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে জয় পাকিস্তান বলেছেন এটা কখনো শুনিনি। উনি কীভাবে জানলেন? আমার জীবদ্দশায় কখনো ‘জয় পাকিস্তান’ শুনিনি। হয়তো ‘জয় জিন্দাবাদ’ও বলতে পারতেন। কিন্তু সেটা তো এ কে খন্দকার সাহেব লেখেননি।’ এরপর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রমাণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন বই ও দলিলপত্র তুলে ধরেন। সফিউল্লাহ বলেন, ‘এ কে খন্দকার বলেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের নাকি কোনো রাজনৈতিক প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইয়ের ৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন ২৫ মার্চের রাতে ফার্মগেটে পাকিস্তানি বাহিনী বাধার সম্মুখীন হন।’ তিনি বলেন, ‘এ কে খন্দকার স্বাধীনতাযুদ্ধে যাননি। তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতায় যান। আমরা যুদ্ধে গেছি মার্চ মাসে। আর উনি গেলেন মে মাসে। গিয়ে সোজা উঠলেন হেডকোয়ার্টারে। বাকি সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন? আবার ইতিহাস বিকৃতি করে বই লিখেছেন। এখন তাকে আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না।’ সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতি করেন তাদের প্রতিরোধ করতে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস শেখাতে হবে। সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন হাবীব বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন আর আওয়ামী লীগ আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন। বর্তমান অবস্থায় কারও আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সেক্টরস কমান্ডার চিত্তরঞ্জন দত্ত ও জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ। যিনি মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক তিনি কি পাকিস্তানের এজেন্ট হতে পারেন?

লাশে জুতা নিক্ষেপ হয়েছে, এটার প্রমাণ কি?

আসলে কি ঘটেছিল গোলাম আজমের জানাজায় । একদিকে বিশাল জন সমুদ্র আর অন্যদিকে গুটি কয়েক জন লোকের বাধা। এর মাঝে খবর পেলাম জুতা ছোড়ার কথা। গোলাম আযমের লাশে একব্যক্তি জুতা নিক্ষেপ করেছেন । এটি হচ্ছে কথিত প্রধান প্রধান "মিডিয়ার" গতকাল ও আজকের বড় নিউজ, যা কিনা গোলাম আযমের জানাজার নিউজটার চেয়েও বড় করে স্থান পেয়েছে । লাশে জুতা নিক্ষেপ হয়েছে, এটার প্রমাণ কি? প্রমাণ একটা ঝাপসা ছবি । ছবিটির বিশ্লেষণ করা যায় এভাবে, ১। বিডিনিউজ২৪ ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছে, ছবি ঃ জনৈক ব্লগার । ছবি দেখে বুঝার উপায় নেই, আসলে এটা কিসের ছবি । তারা সাথে অন্য একটি ছবিও দিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জুতা হাতে একজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন । ব্যস এই টুকুই। ২। বাংলানিউজ২৪ একটু পিছিয়েছে। তাদের ছবির নিচে লেখা, ছবিঃ সংগৃহীত । একই ছবি। লে হালয়া, এতো বড় মিডিয়া। এতো বড় ঘটনা, এতো গুলো তাদের ফটোগ্রাফার তাও ছবি সংগ্রহীত (মানে নেট থেকে কপি করা )। হয়তোবা সোর্স একই, জন্মযুদ্ধ গবেষক। ৩। একই ছবি আজকে বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ কয়েকটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ৪। ঐ ব্লগার ( যিনি বিডিনিউজ২৪ এর ছবির মুল সূত্র) তার ফেসবুকে যেটা দিয়েছেন, সেটা আরও অস্পষ্ট । এটা আইফোনের যুগ। সোশাল মিডিয়ার যুগ। এতো বড় একটা ঘটনা। তার কোন স্পষ্ট ছবি নাই, ভিডিও তো নাইই । কেমনে হয় ? এমন একটা অস্পষ্ট ছবিকে মিডিয়ায় এতো হাইলাইটস করার কারণ কি? কারনটা তারা বলেই দিয়েছেন। বাংলানিউজ২৪ এর হেড অফ নিউজ মাহমুদ মেনন লিখেছেন, এখানে তারা একটা দারুণ কাজ করেছেন, তাহচ্ছে এই ঘটনাপুঞ্জের ঐতিহাসিক মূল্য আছে । আজ থেকে বিশ বছর পর জামাত-শিবির যখন গোলাম আযমের জানাজার ছবি দেখিয়ে তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চাইবে এখন এই জুতা নিক্ষেপের ছবি তাতে ছাই ঢেলে দিবে" গতবছর বিডিনিউজ২৪ তাদের বর্ষপূর্তিতে একটা শ্লোগান নির্ধারন করেছিল, ‘ড্রাফটিং হিসস্ট্রি’। মানে তারা ইতিহাসের উপাদান তৈরি করছেন। বাংলানিউজের মাহমুদ মেনন ও বিডিনিউজ২৪ হয়তো ঠিকই বলেছেন। তারা ইতিহাসের উপাদান তৈরী করছেন। কিন্তু এই উপাদান সত্য ইতিহাসের নয়, মিথ্যার। যা জাতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। এভাবে তারা গোলাম আযমের মুখে জুতা নিক্ষেপ করছেন কিনা জানি না, কিন্তু সেই ছাই আর জুতা যে পুরো জাতির মুখে পড়ছে এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। গোলাম আযমের জানাজা ঠেকাতে বায়তুল মোকাররমের আশেপাশের এলাকায় জঙ্গি কায়দায় লাঠি মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে জানাজা শুরুর আগে সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় ছাত্রলীগ মহড়া দেয়। জানাজা শুরুর আগে থেকেই বায়তুল মোকাররমের তিনটি প্রবেশ গেট ও আশপাশের এলাকার সড়কগুলো জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ লাখো মুসল্লির জমায়েতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় লাখো জনতার জমায়েতের এ জানাজা ঠেকাতে ছাত্রলীগের ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসীর লাঠি মিছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মাঝে সামান্য উত্তেজনা তৈরি করলেও হাস্যরসের সৃষ্টি করে বেশি। মিছিলটি মুসল্লিদের জমায়েতের মুখোমুখি না হয়ে পুরানা পল্টন মোড় থেকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট, দৈনিক বাংলার মোড়, রাজউক অ্যাভিনিউ হয়ে আবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দিকে চলে যায়। তবে ছাত্রলীগের মিছিল শুরুর আগে বায়তুল মোকাররম এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের মাঝে সামান্য আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ককটেল বিস্ফোরণের জন্য জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। জানাজা পণ্ড করতে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মুসল্লিদের অনেকেই এ সময় অভিযোগ করেন। অতবড় জন সমুদ্র যদি এই ছোট মিছিল কে ধাওয়া করত তবে হয়ত আইনশৃংক্ষলা রক্ষাকারী সংস্থাও কিছু করতে পারতনা। যাই হোক সত্যের চিৎকার ছোট হলে পৈাছে যায় অনেকদুর।

ভিডিও