জর্জিয়ার খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় আটলান্টায় ভার্সিটি ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু
Published : 21.10.2014 01:08:08 pm

রাউট থ্রী সিক্সটিন ইউনিভার্সিটি পার্কওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় জাকি দোস্ত মোহাম্মদ (১৮) নামে এক ভার্সিটি ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ( ইন্নালিল্লাহে .... রাজেউন) । ১৬ অক্টোবর বৃস্পতিবার রাতের যেকোন সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাকি দোস্ত মোহাম্মদ বৃহত্তর আটলান্টার লিলবার্ণ সিটির কেনিয়ান বংশদ্ভূত সামি দোস্ত মোহাম্মদের একমাত্র পূত্র এবং ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া (ইউজিএ)র ছাত্র। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার আবাসিক ছাত্র জাকি মোহাম্মদ দূর্ঘটনার দিন তাদের লিলবার্ণস্থ বাসায় ফেরার কথা ছিল। বাসায় ফিরতে দেরী হলে তার বাবা সামি দোস্ত মোহাম্মদ বার বার তার মুঠোফোনে কল করে কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না । মনে করছিলেন হয়ত কোন কারণে তার মুঠোফোন বন্দ থাকতে পারে । তবুও উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন।পরে রাত তিনটে নাগাদ স্থানীয় গূইনেট কাউন্টি পুলিশ তাদের বাসায় এ দূর্ঘটনার খবর দেয়। সে কিভাবে যে দূর্ঘটনায় পতিত হলো তার সঠিক কোন তথ্য জানা যায়নি। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া ডাউন টাউন আটলান্টা থেকে প্রায় ৮০/ ৯০ মাইল উত্তরে এথেন্স শহরে অবস্থিত। রাউট থ্রী সিক্সটিন ইউনিভার্সিটি পার্কওয়ে গভীর জঙ্গল ভেদ করে এথেন্স শহরে পৌঁছতে হয়। এই মহাসড়কে রাত-বিরাত দ্রুত গতিতে বড় বড় ট্রাক-লরী চলাচল করে। ধারণা করা হচ্ছে জাকি মোহাম্মদ কোন ট্রাক বা লরীকে সামাল দিতে গিয়ে রাস্তার খাদে পড়ে গাড়ি দূর্ঘটনায় পতিত হয়। কেননা রাস্তার খাদে তার গাড়িটি দলানো মোচরানো পাওয়া গেছে। এই গভীর জঙ্গলে প্রচুর হরিণ বাস করে এবং রাতের আঁধারে তারা দলে দলে এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে ছুটাছুটি করে ।অনেক সময় তারা মহাসড়কেও এসে পড়ে । এই হরিণ ছুটাছুটিতেও তার গাড়ি দূর্ঘটনায় পড়তে পারে। তবে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে পুলিশী তদন্ত অব্যহত রয়েছে। একমাত্র সন্তান ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে সামি দোস্ত মোহাম্মদের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তাদের পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার যেন কেহ নাই। ১৯ অক্টোবর জাকি মোহাম্মদের দাফন-কাফন সম্পন্ন হয়।

বিস্তারিত
বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত

রক্ত দিন, জীবন বাঁচান” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এবং আটলান্টাস্থ লাইফ সাউথ কমিউনিটি ব্লাড সেন্টারের সহায়তায় সেচ্ছায় এক রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা অব্দি সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিকের লিলবাণস্থ নিজস্ব ক্লিনিকে এ রক্তদান কর্মসূচীতে সর্বোমোট ২৯ ব্যক্তি রক্তদান করে। রক্তদানকারীরা হলো মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ইলিয়াস হাসান, আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুর আহমেদ, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী খান সজল, মিনহাজুল ইসলাম বাদল, মোহাম্মদ ইনামুল হক,নেহাল মাহমুদ, অভিষেক শ্যাম, অসিম সাহা, মোহাম্মদ হোসেন, ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিক, মোহাম্মদ আলী হোসেন, মোহন জব্বার, সৈয়দ মুরাদ, শেখ জামাল, হুমায়ূন কবির কাউসার, মোহাম্মদ হাসেম প্রমুখ। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী প্রত্যেককে লাইফ সাউথ কমিউনিটি ব্লাড সেন্টারের সৌজন্যে বিনা মুল্যে ব্লাড কোলেস্ট্রেরেল চেক আপসহ লাইফ সাউথ কমিউনিটি একটি করে টি-শার্ট প্রদান করা হয়। রক্তদান কর্মসূচীতে সেচ্ছাসেবক ও অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোহন জব্বার, ইলিয়াস হাসান, অভিষেক শ্যাম, অসীম সাহা, দেবযানী সাহা, শাকিরা আলি বাচ্চিসহ আরো অনেকে। এছাড়া বাঙালি কম্যুনিটিরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ যোগ্যদের মধ্যে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার স্ত্রী নাজনিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহমাদুর রহমান পারভেজ প্রমুখ।

ডালাসে আক্রান্ত ইবোলা রোগী এখন আটলান্টায়ঃ জনমনে আতংঙ্ক

মরণঘাতক ইবোলা আক্রান্ত আরো এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য আনা হলো আটলান্টায়। যার নাম অ্যাম্বার ভিনসন। সে হলো চতুর্থ ইবোলা রোগী আটলান্টায়। তাকে ছাড়া আরো তিনজনকে আটলান্টায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। টেক্সাসের ডালাস স্বাস্থ্য কর্মী অ্যাম্বার ভিনসনকে গতকাল আটলান্টার ইমোরী মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। আটলান্টার স্থানীয় কেউ এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। বার বার অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে ইবোলা রোগী আটলান্টায় আনায় মেডিক্যাল স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্থানীয় জনমনে এক আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইবোলায় আক্রান্ত ডালাসের এক হাসপাতালে যারা মারা যান লাইবেরিয়ার টমাস এরিক ডানকান। অ্যাম্বার ভিনসন ছিলেন তার স্বাস্থ্যসেবা কর্মী। স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা যায়, অ্যাম্বার ভিনসনকে ডালাস থেকে এক বিশেষ বিমানে করে আটলান্টাস্থা ডিকাব-পিচট্রি এয়ারপোর্টে অবতরণ করান হয় এবং সেখান থেকে তাকে পুলিশ প্রহরায় বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সে ইমোরী মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বার ভিনসনকে ইমোরীতে ভর্তি করার পর পরই ডিকাব কাউন্টি স্কুল বোর্ড গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া, গিনিসহ আফ্রিকার অন্যান্য ইবোলা আক্রান্ত দেশ থেকে নতুন ছাত্র বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত কোন স্কুল শিক্ষার্থীকে চিকিৎসকের উপযুক্ত ডকুমেন্টেশন এবং অনুমোদন ছাড়া স্কুলে প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ছাড়া স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে । হঠাৎ কেউ জ্বর বা মাথা ধরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক তাকে চিকিৎসা দেওয়া এবং ইবোলা সংক্রমক সিমটমে আক্রান্ত হলো কিনা তাও পর্যাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রবাস

সৌদি আরবের মক্কায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে
Published : 23.10.2014 07:14:42 am

অনেক আশা নিয়ে আর স্বপ্ন নিয়ে মানুষ পরবাসী হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে অনাকাংক্ষিত ভাবে চলে যায় না ফেরার দেশে। তেমনি একটি ঘটনা ঘঠেছে মুসলিজাহানের পবিত্র স্থান সৈাদি আরবে। সৌদি আরবের মক্কায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো দুইজন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে মক্কার জাবেল নূরে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানা গেলেও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। নিহতরা হলেন গাড়িচালক আইয়ুব, নাজির হোসেন, ফরিদ, মো. আলম ও মনছুর আলম। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজার ঈদগাহ এলাকার বলে জানা গেছে। তারা সে সময় কাজে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় জয়নাল ও ইসলাম নামে আরও দুই বাংলাদেশী আহত হয়েছেন।

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া’ || মোদি শেখ হাসিনা বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে থাকা দুই সরকার প্রধান শনিবার প্রথম বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে ভারত সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তিসহ দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলোর কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তিনি (মোদী) বলেছেন, ম্যায় রাস্তা নিকাল রা হু (আমি সমাধানের পথ খুঁজছি)।”শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) ‘ইকোনমিক করিডোরের’ ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থল যোগাযোগের অন্তরায়গুলো তুলে নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে মোদী ইতিবাচক সাড়া দেন।মোদী আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেন বৈঠকে উপস্থিত শহীদুল হক জানান। “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাউথ এশিয়া সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর কথা বললে তিনি (মোদী) বলেন, ‘সাবকো সাথ লেকে উন্নায়ন করানা হোগা (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে)। ওনার যে ‘লুক ইস্ট পলিসি’, তার মধ্যে এই জিনিসটা খুব প্রোমিনেন্টলি আসে।” “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে যোগাযোগগত যে সমস্যা আছে, সেটা তুলে ধরেছেন। সেটার আশু সমাধানের অনুরোধ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই তিন দেশ বা চার দেশের মধ্যে চলাচলের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা দরকার। উনি সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এ ব্যাপারে একটা নির্দেশও দিয়েছেন।”মঙ্গলে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোয় সম্প্রতি সফল হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইটের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সার্কের সদস্যভুক্ত সব দেশই এর সুবিধা নিতে পারবে।মোদীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি শিগগিরই শেখ হাসিনার এই আমন্ত্রণ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বগুণেরও প্রশংসা করেন। “তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া (বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু, আর তার কন্যা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন),” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নয়া দিল্লি সফরে গেলে তাকেও একই কথা বলেছিলেন চার মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মোদী।হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির কট্টর নেতা হিসেবে পরিচিত মোদী ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাই দিচ্ছেন।কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ভারতে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে তা নাকচ হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে থাকায় সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিতে পারেননি হাসিনা।শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সফরে এই হোটেলেই থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন গ্র্যান্ড হায়াৎ হোটেলে।শহীদুল হক বলেন, অত্যন্ত ‘আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ পরিবেশে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। উন্নয়নের শত্রু হিসেবে সন্ত্রাসকে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন। ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য নিয়ে যেতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মোদী। অটিজম নিয়ে কাজের জন্য শেখ হাসিনাকন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের প্রশংসাও করেন তিনি।বহুল আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “না, হয়নি। দুজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যখন আলোচনা হয়, তখন পলিসি লেভেলে হয়।”বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারও ছিলেন।মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা নেবেন শেখ হাসিনা।রোববার শেখ হাসিনার জন্মদিন। এদিন ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের সময় দেবেন তিনি।জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়বেন শেখ হাসিনা। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে ২ অক্টোবর ঢাকায় রওনা হবেন তিনি।

শিকাগোতে জিয়ার নামে রাস্তা উদ্বোধন

আমেরিকার শিকাগোতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তা উদ্বোধন হয়েছে। আওয়ামী লীগের আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও ইলনয় স্টেটের শিকাগো শহরে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসেননি। রাস্তা উদ্বোধনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ অনুষ্ঠান করেন। সিটির ৬৮০০ নর্থ ক্লার্কের ওয়েস্ট প্রাট ব্লুভারের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৬৭৫০ নর্থ ক্লার্কের পশ্চিম কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ সড়কের উদ্বোধন করেন সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর পরিচালনায় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলডারমেন জোসেফ ম্যুর বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান।” জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেয়া শোক বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিশ্ব নেতা। শিকাগো শহরে বহু বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত নেতৃত্বের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক ছিল, যার ধারাবাহিকতা তার সহধর্মীনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অত্যন্ত খুশি। এর মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “আজকের এই দিনটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে আরেকবার স্বীকৃতি দিয়েছে গণতন্ত্রের চারণভূমি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আমরা গর্ববোধ করছি। এমন একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান একজন বিশ্ব নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সড়কের নামকরণ বাস্তবায়নে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিত তদারকি করেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেট থেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এসেছেন। শিকাগো শহরের বরেণ্য রাজনীতিকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সবার প্রতি আজকের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।” শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “ইতিপূর্বে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ ব্যক্তির নাম ফলক উন্মোচনে এত মানুষের সমাগম ঘটেনি। মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে ‘জিয়া মরে নাই’।” বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তার নামকরণ করায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও শিকাগো সিটি নেতৃত্বকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই শ্রদ্ধা জানানোয় বিএনপি নেতাকর্মী নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।” বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র একজন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এতে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত।” উদ্বোধনের পর শিকাগো শহরের নর্থ শোর ব্যাংকুয়েট হলে বিএনপি এক আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, শিকাগো বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শিকাগো সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম মনা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আবদুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসাইন বাবু, বাবর উদ্দিন, জাকির হোসেন হাওলাদার, শাহ মোসাদ্দেক মিন্টু, একে আজাদ, মো. আবদুল বাসিত, জসীম উদ্দীন ভুইয়া, কাজী আজম, আতিকুল হক আহাদ, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন, গিয়াস উদ্দিন, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাইদ আহমেদ, এবাদ চৌধুরী, রেজাউল আজাদ, আবদুস সবুর, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, শেখ হায়দার আলী, শাহাদত হোসাইন রাজু, হাদী, শাহ মোশাররফ, মো. ডুলো মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিকাগো বিএনপির নেতা জসীম উদ্দীন। শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বেবী নাজনিন। প্রসঙ্গত, শিকাগো সিটি কাউন্সিলে অনুমোদিত রাস্তার নামকরণের উদ্যোগ নিলে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা করা হয় তা ফেরানোর জন্য। এমনকি এর বিরুদ্ধে শিকাগোতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করলো। উল্লেখ্য, শিকাগোতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শেখ মুজিব ওয়ে, বিশ্ববিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ারের ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খানের নামে এফ আর খান ওয়ে ভারতের মহাত্মা গান্ধীসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুনিজনের নামে সড়ক রয়েছে।

বাংলাদেশ

অস্ত্র প্রশিক্ষক ছাত্রলীগ নেতা সজিবুল ইসলাম সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আইন বিভাগে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তার কিছু নেতাকর্মী
Published : 23.10.2014 07:06:01 am

বাংলাদেশ ধুকছে নীতি হীনতায় আর সন্ত্রাসে। পবিত্র শিখাঙ্গনের গায়ে পড়ছে সন্ত্রাসের কালিমা। শিক্ষক আর ছাত্র গহন করেছে সন্ত্রাসের যুগলবন্দী। তাদেরকে যখন দমনের চেষ্টা করা হল তখন এল আওে বিপত্তি। তারপরেও মোটামুটি নির্বিকার সরকার। সব কিছুতেই দোষ অন্যের আর মিডিয়ার কাধে চাপানো হীন প্রবনতা। উপরন্তু সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিখাঙ্গন। অস্ত্র প্রশিক্ষক ছাত্রলীগ নেতা সজিবুল ইসলাম সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের (ইবি) আইন বিভাগে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তার কিছু নেতাকর্মী। তালা দেয়ায় ওই বিভাগে দুদিন ধরে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ইবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজিবুল ইসলাম সজিব নির্জন স্থানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন। ওই ছবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দেয়ার কারণে সজিবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজও উদ্ধার করতে পারেনি তার অবৈধ অস্ত্র। এমনকী তাকে গ্রেফতার করাও হয়নি। এদিকে তাকে গ্রেফতারের পরিবর্তে ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে এবং তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক জোর তত্পরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় সজিবের সমর্থক নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার থেকে আইন বিভাগের বিভাগীয় অফিসসহ সকল ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করছেন। শিক্ষকরা এ কারেণে মঙ্গলবার থেকে ওই বিভাগে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারছেন না। এমনকী শিক্ষকরাও তাদের অফিসে বসতে পারছেন না। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহায়তায় আইন বিভাগের সভাপতির অফিস খুলে বিভাগীয় শিক্ষকরা একটি জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ভিসির কাছে একটি সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রনজু বলেন, ‘সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলবে।’ ইবির আইন বিভাগের সভাপতি পফেসর ড. শাহজাহান মণ্ডল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সজিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমার বিভাগের একদল ছাত্র তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা বিভাগের একটি জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে তার ব্যাপারে ভিসির কাছে একটি সুপারিশ করেছি। আশা করছি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।’ কী সুপারিশ করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সুপারিশ করেছি, তোমরা এ বিষয়ে পরে জানতে পারবা।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. তালুকদার মো. লোকমান হাকিম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনে ভিসির মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষকদের এ বিষয়ে বসতে বলেছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।’ সজিবের ওই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতেই তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিস্তারিত
সন্ত্রাসী সাজিয়ে গাড়িচালকের পায়ে গুলি করার ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানার এসআই আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

সন্ত্রাসী সাজিয়ে গাড়িচালকের পায়ে গুলি করার ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানার এসআই আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে। দেশে বাড়ছে পুলিশের দ্বারা সংগঠিত বেআইনী কর্মকান্ড। প্রকৃত আইনের শাষন না থাকায় ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেয়েছে পুলিশের পেশাদারী মনোভাব। পুলিশ জড়িয়ে আছে নানা অপরাধমূলক কাজে। এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটে চলেছে খুব সামান্য সময়ের ব্যবধানে তারপরে অনেকটা নির্বিকার স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়।সন্ত্রাসী সাজিয়ে গাড়িচালকের পায়ে গুলি করার ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানার এসআই আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার রাতে এসআই আনোয়ার গাড়িচালক শাহ আলমকে ধরে নিয়ে তার দুই পায়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ শাহ আলমকে (২৬) পঙ্গু হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। পুরো ঘটনাটি সাজানো বলে আজ দুপুরে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও জোনের ডিসি। গাড়িচালক শাহ আলমের স্ত্রী শান্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিল শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আনোয়ার। শান্তাকে দিয়ে স্বামী শাহ আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একটি মামলাও করিয়েছিল বছর খানেক আগে। স্বামীর কাছ থেকে ভাগিয়ে তাকে নিজের রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিল কেরানীগঞ্জের একটি ফ্ল্যাটে। নাছোড়বান্দা শাহ আলম মাস দেড়েক আগে স্ত্রী শান্তার খোঁজ পায়। চেষ্টা করে স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যা আফরীনকে ফিরিয়ে আনার। এ নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠকও হয়। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এসআই আনোয়ার। উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে জানানোর পরিকল্পনা করে শাহ আলম। এই তথ্য জানতে পেরে এসআই আনোয়ার গত রোববার রাত ৯টার দিকে কৌশলে শাহ আলমকে ডেকে নেয় মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায়। সেখান থেকে চোখ বেঁধে ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় তাকে। মধ্যরাতে আগারগাঁওয়ের তালতলায় শাহ আলমের দুই পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানায় শাহ আলম একজন ছিনতাইকারী। বন্দুকযুদ্ধের সময় শাহ আলম গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধারেরও মিথ্যা গল্প সাজায় এসআই আনোয়ার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোপনে তদন্ত করে জানতে পারেন পুরো বিষয়টি সাজানো। এ কারণে গতকাল এসআই আনোয়ারকে শেরেবাংলানগর থানা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এস আইয়ের পক্ষ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রত্যাহার করা হয় ওসি আবদুল মমিনকে। এর আগে গুলিবিদ্ধ শাহ আলমের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা (নং ২০) দায়ের করেছেন। গতকালই মামলাটি থানা পুলিশের কাছ থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের (পঙ্গু হাসপাতাল) ওটি অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শাহ আলম জানান, বছর দেড়েক আগে তিনি মোহাম্মদপুর থানার সিভিল টিমের গাড়ি চালাতেন। এসআই আনোয়ার ছিল সিভিল টিমের দায়িত্বে। সেই সুবাদে এসআই আনোয়ার তার বাঁশবাড়ির বাসায় যাতায়াত করতো। সে সময় তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রীর সঙ্গে এসআই আনোয়ারের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্ত্রী তার কাছ থেকে চলে যায়। এমনকি মোহাম্মদপুর থানায় একটি নারী নির্যাতনের মামলাও করে। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠালে শান্তা তার একটি সিএনজি অটোরিকশা তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে ও বাসার জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। কয়েকদিন পর সে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ করে। কিন্তু তারা খোঁজ দেয়নি। শাহ আলম জানান, মাস দেড়েক আগে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের একটি বাসায় থাকে। সে খোঁজ করে ওই বাসাটি বের করে। কয়েকদিন ঘুরে জানতে পারে ওই বাসায় প্রতিদিন এস আই আনোয়ার যাতায়াত করে। ওই বাসার পাশেই তার শ্বশুর-শাশুড়িও থাকে। পরে সে স্থানীয় মাতব্বরদের তার স্ত্রীর পালিয়ে থাকা ও পুলিশ কর্মকর্তার যাতায়াতের বিষয়টি জানায়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠকও হয়। কিন্তু প্রথম দিকে শাহ আলমের শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে মেয়ের জামাই বলে অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে সালিশে কোরান ছুঁয়ে বলতে বলা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করে। গত ১৭ই অক্টোবর আবারও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এদিন আলমের শ্বশুর-শাশুড়ি সালিশে হাজির হয়নি। শাহ আলম জানতে পারে এস আই আনোয়ার তার শ্বশুর-শাশুড়িকে বৈঠকে বসতে বাধা দিচ্ছে। পরে সে সিরাজ নামে এসআই আনোয়ারের এক পরিচিতকে বিষয়টি খুলে বলে। সে বিষয়টি এসআই আনোয়ারের স্ত্রীকে জানানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু সিরাজ তাকে আনোয়ারের বাসা দেখিয়ে দেয়ার কথা বললেও বিষয়টি আনোয়ারের কাছে ফাঁস করে দেয়। এতে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার রাতে সিরাজের মাধ্যমে শাহ আলমকে কৃষি মার্কেটের সামনে ডেকে নেয়। শাহ আলম জানায় কৃষি মার্কেটের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিভিল পোশাকে কয়েকজন তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ফেলে। তার হাতে হাতকড়া ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। তাকে নিয়ে গাড়িতে ঘণ্টা খানেক ঘোরানো হয়। রাত ১২টার দিকে তালতলা এলাকায় জোর করে মাটিতে শুইয়ে রেখে প্রথমে ডান পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। পরে গুলি করে বাম পায়ে। তারপর তাকে ভর্তি করা হয় পঙ্গু হাসপাতালে। চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর বংশাল থানার এক উপপরিদর্শকসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। বংশালের হাজি আবদুল সরকার লেনের ব্যবসায়ী মো. মকবুল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন। বংশাল থানার এসআই মুরসিদ এবং কনস্টেবল মোয়াজ্জেম ও প্রদীপের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন তিনি। আর্জিতে বলা হয়, এসআই মুরসিদসহ তিন পুলিশ সদস্য গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় মকবুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ইয়াবা রাখার মামলা করাসহ পুরনো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে মকবুল ওই তিন পুলিশকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন বলে আর্জিতে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় আসামিরা তার কাছ থেকে জোর করে একটি সাদা কাগজে সই নিয়ে যায় বলেও মকবুল জানান। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা ও ঘটনা অফিসের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়েছে জানিয়ে প্রমাণ হিসেবে এসব ভিডিও টেপও আদালতে দাখিল করেছেন বাদী।

ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়ায় আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হককে ‘নব্য রাজাকার’ আখ্যায়িত

নিজের সুবিধা মত বক্তব্য না হলে সেই ব্যাটা রাজাকার। এমন ফাদেই পড়েছেন আইন মন্ত্রী ।বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম ও তার পরিবার নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দেওয়ায় আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হককে ‘নব্য রাজাকার’ আখ্যায়িত করেছে সরকার সমর্থিত চারটি সংগঠন। চারটি সংগঠন হলো- গণতান্ত্রিক লীগ, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশন, কৃষক শ্রমিক পার্টি ও বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতারা মন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানান। এ সময় চারটি সংগঠনের মোট ২৮ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন- গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এমএ জলিল, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ আহম্মেদ, কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি লায়ন সালাম মাহমুদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভপাতি ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক কবির চৌধুরী তন্ময়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে চারটি সংগঠনের সম্মিলিত একটি ব্যানার নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী মানববন্ধন শুরু করে। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য শেষে বেলা সাড়ে ১১টার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় পর্যন্ত সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীকে গণনা করে দেখা যায়, মাত্র ২৮ উপস্থিত রয়েছেন। সমাবেশে বক্তারা আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ ও পিয়াস করিমের বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান। একই সময় তারা আইনমন্ত্রীকে ‘নব্য রাজাকার’ উপাধি দেন। তারা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনমন্ত্রীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বাদ দিতে হবে। সরকার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী পিয়াস করিমের ইতিহাস কারো অজানা নয়। শহীদ মিনারে তাকে ঠেকানোর সময় সরকারের আইনমন্ত্রী চুপচাপ ছিলেন। কিন্তু তাকে দাফনের পরই তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তারা বলেন, আইনমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে পিয়াস করিমের ব্যাপারে সাফাই দিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষদের মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনায় আঘাত করেছেন। নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত কার্যকর, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও দেশবিরোধী চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- বোয়াফে সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক হাবিবুল্লাহ মিছবাহ, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি কবি আবদুল খালেক, বোয়াফের প্রচার সম্পাদক ব্লগার রফিকুল ইসলাম রাকিব, জাসদ নেতা হুমায়ূন কবির, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মো. ইমরান খান শ্রাবণ প্রমুখ। এমএ জলিল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পিয়াস করিম কুমিল্লার কোথাও লিফলেট বিলি করে নাই। আমরা যেহেতু কেউ দেখিও নাই এমনকি এর আগে কখনও শুনিও নাই যে, পিয়াস করিম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করেছেন। কেবলমাত্র আইনমন্ত্রী আনিসুল হকই ওই ঘটনা জানেন। তিনি মন্ত্রীর এমন গর্হিত কাজের জন্য অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি করে আনিসুল হকের অতীত খুঁজে দেখার দাবি করেন। কবির চৌধুরী তন্ময় বলেন, স্বাধীনতাকামী লক্ষ কোটি মানুষ শাহবাগের আন্দোলনকে সাধুবাদ জানালেও রাজাকার পিয়াস করিম এর সমালোচনা করেছেন। তিনি এ আন্দোলনকে তখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সর্বদা চেষ্টা করেছেন। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সেই নব্য রাজাকার পিয়াস করিমের পক্ষ অবলম্বন করে মুক্তিযুদ্ধের সময় লিফলেট বিতরণ করেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য আমাদেরকে নতুন করে আইনমন্ত্রীর সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে যে, তিনিও নব্য রাজাকার দলের কেউ কিনা। তাই অনতিবিলম্বে মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যদি তিনি তা না করেন তবে তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন। কবি মো. আবদুল খালেক বলেন, আইনমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জাতির কাছে এক নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যেমন বিরোধী দলের আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল- তেমনি আইনমন্ত্রী নিজে এমন কিছু করতে চাইছেন কিনা তা এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভাবতে হবে। তা নাহলে এ কে খন্দকারের মতো দুষ্কৃতকারীরা ঘাপটি মেরে থাকার পর সময় সুযোগ বুঝে জাতিকে বিভ্রান্ত করবে। লায়ন সালাম মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে আইনমন্ত্রীকে অপসারণের নোটিশ দেন। তা নাহলে আপনার নির্বাচনী ওয়াদা রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। একসময় এসব জ্ঞানপাপী আপনার বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মানববন্ধন শেষে আইনমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করা হয়। এ সময় ‘‘নব্য রাজাকার, নব্য রাজাকার, আনিসুল হক আনিসুল হক, অপসারণ চাই, অপসারণ চাই, আইনমন্ত্রীর অপসারণ চাই” বলে নানা স্লোগান দিতে থাকে নেতাকর্মীরা।

ভিডিও