জর্জিয়ার খবর

জর্জিয়ায় ভাষা শহীদদের স্মরনে একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপন
Published : 22.02.2015 05:28:15 pm

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্টের আটলান্টায় অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১২টায় প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে জর্জিয়া সমিতি আয়োজিত জেসি ইভেন্ট হলের অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন জর্জিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, সংগঠনের নেতারা । ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বরণে প্রবাসী বাংলাদেশীগণ সন্ধা থেকেই উপস্থিত হতে শুরু করেন একুশের অনুষ্ঠানস্থলে । "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি "সকলের মুখে এই কালজয়ী গানে মুখরিত ছিল অনুষ্ঠানস্থল । জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি আয়োজিত সার্বজনীন একুশ উদযাপনের সার্বিক দায়িত্ব পালিন করেন জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি ও তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করেন বাংলাদেশ ফাউন্ডেসন অফ জর্জিয়ার কর্মকর্তাগণ যা একুশের এই আয়োজনকে সার্থক করে তুলে । রাত ১২ টার পূর্বক্ষন অবধী একুশের গান ও বিভিন্ন সংগঠনের একুশ নিয়ে আলোচনা ,বক্তব্য অনুষ্ঠানকে প্রানবন্ত করে তুলে । আগত সংগঠক দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জর্জিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রহমান ,জর্জিয়া বি ,এন,পির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসির কাজেমী, সাধারণ সম্পাদক মামুন শরিফ , বাংলাদেশ ফাউন্ডেসন অফ জর্জির্য়ায় সভাপতি ডা : মুহাম্মদ আলী মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোহন জব্বার,বাংলা ধারার বিশিষ্ট সংগঠক মাহবুব ভুইয়া ,জর্জিয়া পূজা সমিতির সভাপতি অসীম সাহা, জর্জিয়া জালালাবাদ সমিতি, স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়া, জর্জিয়া বেঙ্গলী বয়েস ক্লাব, প্রবাসে বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষার দাবি আদায়ের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন । একুশ নিয়ে কবিতা আবৃতি করেন মাহবুবর রহমান ভূইয়া ও ভাস্কর চন্দ এছাড়া হুসনে আরা বিন্দুর পরিচালনায় সমবেত স্বদেশের গান ও পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জর্জিয়া সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সজল ও দেবযানী সাহা। জর্জিয়া সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আহমাদুর রহমান পারভেজ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন ।

বিস্তারিত
বাংলাদেশি ছাত্রী তানজিলা আলমের আকস্মিক মৃত্যু।। কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আদর্শ সুনাগরিক হওয়ার সুন্দর স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায় আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির মেধাবী কিশোরী তানজিলা আলম সন্ধি ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছিলো নব উদ্যমে। অথচ কে জানত, সুদুর বাংলাদেশ থেকে বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে রেখে এই প্রবাসে এসে অধ্যয়নের প্রথম যাত্রার শুরুতেই সকল পাট চুকিয়ে এভাবে জীবনের অবসান ঘটবে আকস্মিকভাবে! গত কয়েকদিনের অস্বাভাবিক জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর সবাইকে কাঁদিয়ে কৈশোরের প্রাণচাঞ্চল্যের হাসি-খুশি এই তরুণী হঠাৎ করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো আজ সোমবার আনুমানিক সকাল আটটার দিকে এথেন্স রিজিওনাল মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালে (ইন্নালি…রাজেউন)। জানা গেছে, সন্ধি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অস্বাভাবিক জ্বরে ভুগছিল। প্রয়াত সন্ধি আটলান্টার পরচিত মুখ হান্নান চৌধুরীর ভগ্নিপতি কামরুলের বোনের মেয়ে ছিল। সন্ধির বাবা মা বাংলাদেশে বসবাস করলেও সে মামা-মামী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন হান্নান চৌধুরী, ইমরান চৌধুরী পরিবারের সাথে একাত্ম হয়ে সবার স্নেহাদরে জীবনের আগামীদিনের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং ইউনিভার্সটি অব জর্জিয়াতে সেলুলার বাইওলজি বিভাগের প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছিলো। জানা যায়, সন্ধির জ্বরের মাত্রা এতটাই খারাপ ছিল যে, একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। সেসময় পেটে ব্যথা সহ বমি হতে থাকে এবং তখন তাকে ক্লাসের অন্যান্য বন্ধুদের সহযোগিতায় ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। গত শুক্রবার থেকে সন্ধির অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। ডাক্তারগণ জ্বরের ধরণকে ব্যাকটেরিয়াল মেনেনজাইটিস বলে ধারনা করলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন নি এখনও। এদিকে তানজিলা আলম সন্ধির এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। গত শুক্রবারেও হান্নান চৌধুরীর ফেস বুকের tanzilla alomস্ট্যাটাসে সন্ধির অসুস্থতার খবর জানিয়ে সকলের কাছে দোওয়া চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কে জানত, এইভাবে অকালেই একটি সদ্য বিকশিত ফুলের পরিসমাপ্তি ঘটবে সবাইকে কাঁদিয়ে ? মরহুমা সন্ধির মা ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে আটলান্টার পথে বিমানে উঠেছেন বলে জানা গেছে এবং তার পরের ফ্লাইটে তার বাবাও রওনা দিয়েছেন বলে একটি পারিবারিক সুত্রে বলা হয়েছে। বাবা মা আটলান্টায় এসে পৌঁছলেই মরহুমার জানাজাসহ দাফনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সুত্র: জর্জিয়াবাংলা

জর্জিয়া আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমির সভা সম্পন্ন

গত ৮ই ফেব্রুয়ারী রোববার আটলান্টার বিউফোর্ড হাইওয়ের মাইক্রটেল হোটেলে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সভা সম্পন্ন হয় কমিটির সর্বস্তরের সদস্যদের উপস্থিতিতে । জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রহমানের পরিচালনায় কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্দান্ত গৃহীত হয় । প্রথমে সদ্য প্রয়াত দুইজন জর্জিয়া আওয়ামীলীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন মৃধা ও মেহেদী সাদেকের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় । এছাড়া সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্দান্তের মধ্যে রয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী রাতে একুশের বেধীতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হবে জর্জিয়া সমিতি আয়োজিত একুশ উদযাপন স্থানে । জর্জিয়া সমিতি আয়োজিত একুশ উদযাপন স্থান হলো নরক্রসের জেসি ইভেন্ট হলে । অন্যান্য সিদ্দান্তের মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া আওয়ামীলীগের একটি পদের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির কারণ ছাড়া পর পর তিন টি সভায় উপস্থিত হলে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হইবে এছাড়া জর্জিয়া আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সকলকে অতি শীগ্রই দলের একটি ফর্ম পূরণ করিতে হইবে । সর্বশেষ সিদ্দানের মধ্যে রয়েছে ২৬ মার্চ উদযাপন আয়োজনের লক্ষ্যে দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক স্থান নির্ধাঁরন করে সকলকে অবহিত করিবেন । দলের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে বিবিধ বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয় ।

প্রবাস

নিউ জার্সিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনারের উদ্বোধন
Published : 17.02.2015 04:19:47 pm

নিউ জার্সিঃ প্রথমবারের মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নিউ জার্সির পিটারসনে নির্মিত শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হল গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যূল জেনারেল মো. শামীম আহসান প্রধান অতিথি হিসেবে ঐদিন ফিতা কেটে শহীদ মিনারটির অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিটারসনের ডেপুটি মেয়র পেড্রো রোদ্রিগেজ, কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রুবি কটন, স্থানীয় কাউন্সিলম্যান, পেসিস কাউন্টি কার্যালয়ের প্রতিনিধিগণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক সদস্য। উদ্বোধনকালে বক্তাগণ বলেন, এই শহীদ মিনার নির্মাণ বাংলাদেশ ও স্বাগতিক কাউন্টিসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে পিটারসনের মেয়র অফিস যুক্ত ছিল বলে ডেপুটি মেয়র পেড্রো রোদ্রিগেজ তার বক্তৃতায় নির্মাণ সময়কালের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পিটারসনে বসবাসকারি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে তাদের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বদেশ প্রেমের আবেগ ও ভালোবাসার জন্য প্রসংসা করেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যূল জেনারেল মো. শামীম আহসান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের মহৎ উদ্যোগ ও অবদানের জন্য পিটারসনের মেয়র, পেসিস কাউন্টি বোর্ড, প্রকল্পের অংশীদার এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য,শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে প্রাইম ওয়েস্টসাইড পার্কে ভূমি নির্বাচন করার পর ২০১৩ সালে পিটারসন সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। নিউ জার্সির পিটারসনের সদ্য নির্মিত এই শহীদ মিনারটিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম, যার ভূমি প্রদানসহ সম্পুর্ণ অর্থায়ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ । সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, হিউস্টন ও টেক্সাসে দুটি শহীদ মিনার থাকলেও ঐ দুটির নির্মাণে সম্পুর্ণ অর্থায়ন করেছিল সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে নিউ জার্সির এই শহীদ মিনারটি দৃশ্যত মূলধারার সাথে বাংলাদেশি তথা মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিই ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি অভাবনীয় অধ্যায় হিসেবে নতুন দিগন্তের সূচনা করলো।

বিস্তারিত
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেনে প্রবাসীরা আমরা বাংলাদেশে শান্তি চাই

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা থেকে: সহিংসতার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে চলমান সংকটের সমাধান করতে দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রবাসীরা। ঢাকায় অবস্থানরত প্রবাসীদের এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান প্রবাসীরা। এসময় তারা বলেন, দুনিয়ার কোনো সমাজে এরকম নিকৃষ্ট রাজনৈতিক অনাচার আছে বলে আমাদের মনে হয়না।আমরা কোনো দেশে এরকম দেখিও নাই।প্রবাসী বাঙ্গালী কল্যাণ সমিতি (প্রবাকস) নামের প্রবাসীদের একটি সংগঠন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দেওয়ান বজলু চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পর্তুগাল প্রবাসী রানা তাসলিম উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে আমরা প্রবাসী হয়েছি। স্বজনহীন প্রবাস জীবন মোটেই আনন্দের নয়। তবুও আমরা প্রবাসী। আয়-রোজগার যা করি বেশীর ভাগ টাকাই দেশে পাঠাই। প্রবাসীদের রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। বিশ্বজুড়ে মন্দা চললেও বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকেন তারা বেশ গর্ব করে বলেন- ‘প্রবাসীদের টাকায় বাংলাদেশ চলে’। বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কখনো এ বিষয়ে দ্বিমত করেননি। অর্থনীতিবিদ, এনজিও, ব্যবসায়ী সমাজ, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক সমাজ, সাধারণ মানুষ সবাই স্বীকার করেন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের রেমিটেন্স অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রবাসে যে যত দূরেই থাকি না কেন মনটা সব সময় পড়ে থাকে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা এই বাংলাদেশে। সাত সমূদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে সব সময় প্রার্থনা করি আত্মীয় স্বজন ভাল থাকুক,দেশটা ভালো থাকুক, দেশের মানুষ ভালো থাকুক,দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক। কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় দেশ ভালো নেই। স্বাধীতার পর ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের পর অন্যান্য স্বাধীন দেশের মতো উন্নত জীবন পাইনি। স্বাধীনতার পর থেকেই নানান ইস্যুতে একের পর এক অশান্তি লেগেই আছে। হরতাল,অবরোধ,সহিংসতায় গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে যে তান্ডব চলছে তা নিয়ে আমরা প্রবাসীরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, ইউরোপ,মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা নাশকতার প্রতিবাদ শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে। দুনিয়ার কোনো সমাজে এরকম নিকৃষ্ট রাজনৈতিক অনাচার আছে বলে আমাদের মনে হয়না এবং আমরা কোনো দেশে দেখিও নাই। প্রবাসীরা বলেন,বাংলাদেশ নানান কারণে এখন বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান পায়। টেস্ট,ওয়ানডে,টিটুয়েন্টি তিন ফরমেটেই বিশ্বেরএক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনিসহপুরোবাংলাদেশক্রিকেটদলএখন বিশ্বকাপ মিশনে অষ্ট্রেলিয়া। তাদেরকে যদি কেউপ্রশ্ন করে তোমাদের দেশে এতো হরতাল কেন হয়, গাড়িতে পেট্রোল বোমা কেন মারে তিনি কী জবাবদেবেন? তিনি বলেন, বিদেশে আমরাও ভীষণ বিব্রত হই। এখানে আমরা দু’জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছি। আমি পর্তুগাল প্রবাসী লিজবনের নির্বাচিত কাউন্সিলর রানা তাসলিম উদ্দিন আমার পাশে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজারসির হেলডন সিটির কমিশনার দেওয়ান বজলু চৌধুরী । শুধু আমরা দুজনই নয়। ইউরোপ-আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়ায় আরো কমপক্ষে দুই ডজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছেন। আপনারা জানেন যুক্তরাজ্যে রুশনারা আলী নামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আমাদের এক বোন গত নির্বাচনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে তিনিসহ আরো অন্তত সাতজন বাংলাদেশি প্রার্থী আছেন। এবারের যুক্তরাজ্যের সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩/৪জনের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, সারা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে আমরা সবাই কাজ করছি। আমাদের প্রাইভেট সেক্টরকে সেই পরিবেশ দিতে হবে। আমরা প্রবাসীরা অনেকে দেশে বিনিয়োগ করেছি। আরো অনেকে বিনিয়োগ করতে চান। বিদেশিদেরকেও নিয়ে আসতে চাই। কিন্তু দেশে যদি শান্তি না থাকে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না থাকে, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ না থাকে, তাহলে বিনিয়োগের টাকা ব্যাংক লোনের কিস্তি শোধের উপায় কী? দেশে যে অবস্থা চলছে তা এখনি থামাতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই। কীভাবে শান্তি ফিরে আসবে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এদেশের রাজনীতিবিদদের। আমাদের পোশাক শিল্প, পর্যটন শিল্প, আবাসন শিল্প, শেয়ার বাজার, প্রাইভেট ইউনিভারসিটি, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, ব্যাংকিং খাত, পরিবহন খাতসহ ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এসব সেক্টরে প্রবাসীদের কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। আমাদের বিনিয়োগের টাকার গ্যারান্টি না দিলে আমরা কেন বিনিয়োগ করবো? এই হরতাল-অবরোধের মধ্যেও আমাদের প্রবাসী বাঙ্গালি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দেওয়ান বজলু চৌধুরী দুদিনের জন্য বিমানে কক্সবাজার গেছেন। সেখানে শত শত হোটেল, কিন্তু কোন পযর্টক নেই। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসার কোনো গ্যারান্টি না থাকলে মানুষ বেরোবে কেন? এই বছর শীতের সময়ে আমাদের যে সমস্ত প্রবাসীরা দেশে এসেছেন তারা অনেকে নিরাপত্তার অভাবের কারণে গ্রামে আত্মীয় স্বজনকে না দেখেই আবার বিদেশে ফিরে গেছেন। পরিস্থিতি এতো জঘন্য যে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি তো দূরের কথা নিজের বাড়ি যাওয়াও কঠিন। আজ আমরা যখন কথা বলছি- লাগাতার অবরোধের মধ্যেই কথা বলছি, তার ওপর আজ থেকে আবারো টানা ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে সারাদেশে। আমাদের পর্যটন খাতে এবার মারাত্মক রকমের ধ্বস নেমেছে। আমাদের দেশে হাজারো পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটক আসার সময় এখনই। টুরিজমের মৌসুমে ট্যুরিস্ট না আসায় দেশের যে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হলো তা পুষিয়ে নেয়া অসম্ভব। গত ৪০দিনে নাশকতায় যাদের প্রাণহানি হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয়াও অসম্ভব। যারা অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তারাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেননা। কিন্তু যারা সুস্থ-অক্ষত আছেন তাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার উপায় আছে। তাদের বাঁচাতে রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার। সরকারি দল, বিরোধীদল এবং অন্যসব দলের প্রতি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমাদের আহবান-আমরা শান্তি চাই।আপনারা জনগনের জন্য দয়া করে সেই ব্যবস্থা করুন। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর তিনি ভোটাধিকার বাস্তবায়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের টাকায় দেশ চলে কথাটা বলা হলেও কার্যত আমরা বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে যুক্ত থাকতে পারিনা। প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে আন্দোলনের পর বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস করেছে। প্রবাসীরা ভোটার হতে পারবেন এবং ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কীভাবে ভোটার হবে? ভোটার হতে হলে ঢাকায় আসতে হবে। তাও কোনো ওয়ান ষ্টপ ব্যবস্থা নেই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এক মাসেও ভোটার আইডি কার্ড হাতে পাওয়া যায়না। যারা অনেক দৌড়ঝাঁপ করে ভোটার হয়েছেন বা জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছেন তারা কেউ বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেননা। ভোট দিতে হলে বাংলাদেশে আসতে হবে কেন? বাংলাদেশে যেসব বিদেশি বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেন তারা দূতাবাসের মাধ্যমে ভোট দিতে পারেন। বিশ্বের সব দেশে এই ব্যবস্থায় ভোট নেয়া হয়। বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনলাইনেও ভোট গ্রহন করা সম্ভব। প্রবাসীদের ভোটার করা ও ভোট গ্রহনের বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাজ। তারা কয়েকটি দেশ সফর করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন মাত্র। প্রবাসীদের ভোটার করার জন্য আউটসোরসিং পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করে দূতাবাসে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়া যেতে পারে। প্রবাসীদের ভোটার করা কোনো কঠিন বা অসম্ভব কাজ নয়।দূতাবাসের মাধ্যমে সকল দেশে প্রবাসীদের নিবন্ধন এবং শিগগির প্রবাসীদের ভোটার করার কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী বাঙ্গালি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দেওয়ান বজলু চৌধুরী, প্রবাকাসের অন্যতম উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বুস্তান চৌধুরী ও কানাডা প্রবাসী আহসান হাবিব সুমন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনআরবি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের সম্পাদক অটোয়া প্রবাসী ফারুক সৈয়দ, ওমর আলী, অধ্যাপক ডা: মো: শেখ শহীদ উল্লাহ, পলাশ সরকার প্রমুখ।

ফেব্রুয়ারী মাসের স্বরণে : একুশের সৈনিক ডঃ রবিন উপটন

১৯৫২ সালে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল ইতিহাসে তাদের নাম স্বরনীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল আর বাংলা ভাষার মানুষের হৃদয়ে বেচে থাকবেন প্রতিটি মুহূর্ত । সফল ভাষা আন্দোলনের অনেক বছর পর আবার সেই বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেন দুই জন কানাডা প্রবাসী । তাদের সফল প্রচেষ্টা ও তখনকার বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবে উইনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্বের ছয় হাজার ভাষা ভাষী মানুষের কাছে । ১৯৫২ সালের পর আজ অবধি বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দেশ প্রবাসের বাঙালীরা । সবচেয়ে আনন্দের খবর বাংলা ভাষার প্রেমে অনুপ্রানিত ইংল্যান্ডের ড : রবিন প্রায় দেড় যুগ আগে একুশ নামের বাংলা ইউনিকোড ফন্ট তৈরী করেছেন, এছাড়া বিভিন্ন ফন্ট নিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশীর অবদানও স্বরনীয় হয়ে থাকবে । যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমরা অতি সহজে বাংলা টাইপ করে চলছি তাদের কয়েকজনকে স্বরণ করে আমেরিকার সর্ববৃহৎ সংগঠন ফোবানার কার্যকরি কমিটির সদস্য সচিব জনাব আজাদুল হক সম্প্রতি তার ফেস বুকে ইউনিকোড বাংলা ফন্ট আবিস্কারে তার জানা ও দেখা নিজ অভিজ্ঞতা ও কয়েকজন ভাষা প্রেমীদের নি:স্বার্থ কর্মযজ্ঞ নিয়ে লিখেছেন । এই সকল ব্যক্তিবর্গ হয়ত সব সময় ইতিহাসের আড়ালেই থেকে যাবেন, রাষ্ট্র হয়ত কোনো দিন সম্মান দেখানো তো দুরের কথা খুজেও বের করবেনা কিন্তু তাদের এই নি:স্বার্থ কাজ থেকে যাবে বাংলা ভাষার লেখকদের লেখনীতে । রবিনের সাথে আমার যোগাযোগ ১৯৯৯ সালের দিকে। তখন হিউস্টনের নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে কাজ করি দিনে আর রাতে বনের মহিষ তাড়িয়ে বেড়াই, মানে বিভিন্ন রকম বায়বীয় কাজ করে বেড়াই। বায়বীয় বলছি দুটো কারণে, এক এই কাজের সবটুকুই করতাম ইন্টারনেটে আর দুই, আমি তখন উদ্দেশ্য বিহীনভাবে খুঁজে বেড়াচ্ছি দেশের জন্য কি করব। আমার কোন ধারনা নেই কি করতে পারবো, কিভাবে করতে পারবো কিন্তু কিছু একটা করতে হবে ব্যাস। আমি, অপু, আনির, ডঃ মিজান তখন দিনরাত এমেইল চালাচালি করি টেক ট্রান্সফার নিয়ে। আমি বুঝি কম আবার অভিজ্ঞতাও নেই। আমি ছাড়া সবাই সিরিয়াস এবং আমাদের ভাবখানা এমন যেন আমরাই উদ্ধার করে ফেলবো পুরো দেশটা। অপু, আনির পরবর্তীতে অবশ্য অনেকখানই এগিয়েছে সে ব্যাপারে। আনির পড়ে চলে গেলো দেশে। এখন সে এক্সেস টু ইনফরমেশন বা এ-টু-আই-এর প্রধান এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং এর পলিসি সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপারে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অন্যতম উপদেষ্টা। অপু বছরে তিনচার বার দেশে যায় নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে বিনামূল্যে ক্লাউড ক্যাম্প করার জন্য। আমিই শুধু কিছু করতে পারিনি দেশের জন্য। তখন কিভাবে যেন আমি মাইক্রোসফটের সাথে জড়িয়ে গেলাম। ওদের ইউনিকোড আর বাংলায় লোকালাইজেশন প্রজেক্টের একজন বেটা টেস্টার হয়ে গেলাম। নিয়মিত লিখি ফোরামে। কিছু বুঝি আর না বুঝি সবাইকে তখন টালায়ে বেড়াচ্ছি প্রশ্ন করে। ইতোমধ্যে ইউনিকোডের ওপর কিছু বই কিনে, দু’ পাতা পড়ে অল্প সল্প বিদ্যা অর্জন করে আমি মোটামুটি ভয়ংকর হয়ে উঠেছি। যে কোন লোকের সাথে এমন ভাবে কথা বলি ভাবখানা যেন বাংলা ফন্টগুলোকে কিভাবে ইউনিকোডে রূপান্তরিত করতে হবে সে ব্যাপারে আমি এক দিগগজ পণ্ডিত। তখন মাইক্রোসফটের সাথে আমার তুলুম ঝগড়া কারণ ওরা সব জায়গায় লিখে বেড়াচ্ছে বেঙ্গালী, আমি বলছি ওদের লিখতে হবে বাংলা, বেঙ্গালী নয়। কে শোনে কার কথা? এক সময় মাইক্রোসফট বললো বাংলাদেশকে ইউনিকোডের সদস্য হতে, তাতে করে ইউনিকোডে বাংলা ফন্ট লেখার ব্যাপারে বাংলাদেশের একটা মতামত দেবার ক্ষমতা থাকবে, ভোটও দিতে পারবে। সেটাও আমি অক্ষম হলাম বাংলাদেশ কম্পিউটার কাইন্সিলকে রাজী করাতে, কারণ মাসে দিতে হবে দু হাজার ডলার! আর তা ছাড়া বাংলাদেশে তখন মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের জয় জয় কার। বিজয় যে ASCII কী বোর্ডের ওপর বেআইনি এবং অন্যায্যভাবে তেরি করা সে কি আর আমার মতন কারো মুখ থেকে কেউ শুনবে? ইউনিকোডের কথা তো পাত্তাই দেয় না কেউ! একুশের মাসে শ্রদ্ধেয় ডঃ জাফর ইকবাল ভাই একটা লেখা লিখলেন পেপারে খন্ড ৎ নিয়ে। তিনি লিখলেন যে খন্ড ৎ-এর জন্য আলাদা জায়গা থাকতেই হবে ইউনিকোডে। আমি ভয়ে ভয়ে তাঁর সাথে দ্মিমত পোষণ করে ইমেইল করলাম।, কথাও বললাম। আমি বললাম যে খন্ড ৎ মানেই এটা খন্ড বা ত এর এক ভিন্ন রূপ। তাই ইউনিকোডের নিয়ম অনুযায়ী ত এর জন্য শুধু একটি নিদৃষ্ট স্থান থাকতে হবে, এর আর কোন রূপের জন্য নয়। এর যে কোন অন্য রূপ বা যুক্তাক্ষর বানাতে হবে ইউনিকোডে প্রোগ্রাম করে। তখনো ইউনিকোডের ওপর তেমন কোন বিশেষজ্ঞ ছিলেন না, ছিলাম শুধু আমার মতন বিশেষ ভাবে অজ্ঞ কিছু লোক। এখন বাংলা লিখতে গেলেই দেখা যায় ো এর মতন অক্ষর, মানে ডট ডট দেয়া একটি বৃত্ত। এভাবে ইউনিকোডে যুক্তাক্ষর লিখতে হয়। বিশাল মনের মানুষ জাফর ভাই আমার মতন নাম না জানা অচেনা চুনোপুটিকেও উত্তর দিলেন, মেনে নিলেন আমার মতামত। তো সেই সময় আমার রবিনের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই পরিচয়। ও একজন গনিতজ্ঞ এবং তখন ইংল্যান্ডের ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটি থেকে পি,এইচ,ডি, শেষ করে বাংলাদেশের এক এতিমখানায় পড়াতে এসেছে। এ কথাটা শুনতেই কেমন লাগে তাই না? ও আসলেই এমন। নিখাদ, নিঃস্বার্থ এক আলোকিত জীবন্ত মানুষ। ও তখন ‘একুশ’ নামে ওর নিজের একটি ফন্ট তৈরি করতে ব্যস্ত। ও বলল এটা সে জি,এন,ইউ, বা ওপেন সোর্স হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করবে। শুধু তাই নয়, সে বাংলাদেশকে বেঁছে নিয়েছে তাঁর দেশ হিসেবে এবং এখানেই সে আজীবন থাকতে চায়! ওর এসব কথা শুনে ওকে পছন্দ না করে উপায় আছে? সেভাবেই ওর সাথে আমার যোগাযোগ। অহরহ ইউনিকোড, ফন্ট হিন্টিং, লিগাচোর, কারনিং, গ্লীফ নিয়ে আলোচনা। বললাম না অল্প বিদ্যায় আমি তখন ভয়ংকর! তখন ওর সাথে পরিচয় হয়েছে আমার মতন আরো অনেকের সাথে। আমি ওর সাথে দিনাজপুরের ওমিক্রনের ছেলেদের নিয়ে আলাপ করতাম পরবর্তীতে যারা লিখেছে অভ্র। পোর্টল্যান্ডের ডঃ শাকীলের সাথে আমার তখন খুবই ভালো সম্পর্ক। ডঃ শাকীল কাজ করছিলেন বর্ন্সফট নিয়ে এবং কিভাবে ফোনেটিক উপায়ে বাংলা লেখা যায় তা নিয়ে। আমরা ফন্টোগ্রাফার নিয়ে আলাপ করি। আমাকে একগাদা বর্নসফটের সিডি পাঠিয়ে দিলেন উনি। কত যে হাজার হাজার ইমেইল আমাদের তার ইয়ত্তা নেই। শাকিল ভাইও আরেক একুশের সৈনিক। তাকে নিয়ে আরেকদিন লেখা যাবে। শাকিল ভাইও তাঁর বর্ণসফট এখন বিনা মূল্যে বিতরন করেন জা বানাতে তাঁর খরচ হয়েছে হাজার হাজার ডলার। পড়ে রবিনের সাথে দেখা ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং তাও ফেব্রুয়ারী মাসে। ততদিনে ও অন্য প্রজেক্টে চলে গেছে। আমিও সরে গেছি ভিন্ন জগতে। ততদিনে কম্পুইটারে বাংলা লেখার মোটামুটি একটা স্থির সমাধানে এসে পৌঁছেছে। ইউনিকোড আর অজানা কিছু নয়। বেশ কয়েকটা ইউনিকোড ফন্ট তখন বাজারে কেনাও যাচ্ছে আবার বিনা মূল্যেও পাওয়া যাচ্ছে। জব্বার ভাইও নিজে বিজয়ের ইউনিকোড ভার্সন বের করেছেন বা করবেন। সব মিলিয়ে কম্পুউটারে বাংলা লেখা নিয়ে তখন আর অসাধ্য কোন ব্যাপার নয়। আর আমিও দেখলাম আমার বনে এই সংক্রান্ত আর কোন মোষ নেই, তাই ঘরের খেয়ে আমি চললাম আরেক বনে মোষ তাড়াতে। রবিনের মতন এমন নিঃস্বার্থ, আলোকিত মানুষ আমি কম দেখেছি। বাংলা ভাষা ও এতো ভালোবাসে যে ওর সাথে কথা বলতে গেলে সংকুচিত হয় যায় মনটা। বাংলাকে আমরা কত অবহেলা করি। অথচ ভিনদেশী এই একুশের সৈনিক – কি আপন করে বাংলাকে বুকে টেনে নিয়েছে। রবিন, তুমি সত্যই একজন একুশের সৈনিক। এই মহান একুশের মাসে তোমায় বিনম্র অভিবাদন।

বাংলাদেশ

নিহতদের তালিকা নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে পীযূষ-তারানা
Published : 22.02.2015 05:02:04 pm

২০ দলীয় জোটের ডাকা অনিদিষ্টকালের হরতাল-অবরোধে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের একটি তালিকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে টানিয়ে দিয়েছে চলচিত্রকার পীযূষ বন্দোপাধ্যায় ও সংসদ সদস্য তারানা হালিম। রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ের সামনে তারা হরতাল-অবরোধে নিহতদের তালিকা টানিয়ে দেন। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৫৪ জন নিহতদের পরিচয় লেখা আছে। তালিকার উপরে লেখা আছে (খালেদা জিয়া) আপনি আর কত লাশ চান? এদিকে তালিকা টানানোর সময় খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান চলচিত্রকার পীযূষ বন্দোপাধ্যায়কে বলেন, আপনারা এখানে নিহতদের তালিকা নিয়ে এসেছেন। আন্দোলনরত অনেক মানুষকে সরকার তো গুলি করে হত্যা করছে। এছাড়া সারাদেশ থেকে অনেক নীরিহ মানুষকে গ্রেফতার করছে। এছাড়া অসংখ্য মানুষকে আহত করেছে। তাদের একটি তালিকা করেও প্রধানমন্ত্রীর নিকট নিয়ে যান। এ সময় চলচিত্রকার পীযূষ বন্দোপাধ্যায় শায়রুল কবির খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো। এ সময় সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছে, আমরা সাধারণ মানুষ। সহিংসতার বিপক্ষে।তিনি আরো বলেন, আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। এ থেকে মুক্তি চাই। সহিংসতা করুক তা আমরা চাই না। এটা বন্ধ করতে হবে। এমনকি তার এই মানুষ হত্যার কর্মসূচিতে জনগণের কোন অংশগ্রহণ নেই।

বিস্তারিত
ঢাকায় মুগ্ধ প্রসেনজিৎ-দেব

বাংলাদেশের আতিথেয়তায় বরাবরই মুগ্ধ হওয়ার মতো, এবারও সেই অনুভূতিতে আচ্ছন্ন ওপার বাংলার অভিনেতা প্রসেনজিৎ ও দেব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন আসেন তারা। সেখান থেকে সরাসরি রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওঠেন প্রসেনজিৎ ও দেব। এই দলে আরও আছেন নির্মাতা গৌতম ঘোষ, অভিনেত্রী মুনমুন সেন ও সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। হোটেলে পৌঁছে দেব ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মাত্রই ঢাকায় পা রাখলাম। আহ্, কী উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা! এর তুলনা হয় না। সত্যিই এখানকার মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় নতজানু হয়ে যেতে চাইছে মন!’ অভিনেতা পরিচয়ের গন্ডি ছাপিয়ে দেব এখন একজন সাংসদও। ভারত-বাংলাদেশের পতাকাসংবলিত একটি স্মারক উপহার হিসেবে পেয়েছেন তিনি। সেটাও ফেসবুক পেজে দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। আজ শুক্রবার প্রসেনজিৎ ও দেব বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তারা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

বেবী নাজনীন খালেদা জিয়াকে খাবার দিতে এসে আটক , পরে মুক্ত

খাবার নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের বাধায় বিফল হয়েছেন বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস নেত্রী কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। রোববার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বেবী নাজনীন হটপটে খাবার, সুপ ও টক দই নিয়ে গুলশানের ওই কার্যালয়ের সামনে নামেন, ফটকে তখন পুলিশের এসবির সদস্যরা ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমার মা। আমি বিদেশে ছিলাম, তার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমি শুনেছি, তিনি অভূক্ত হয়ে আছেন। সেজন্য নিজে স্যুপ তৈরি করে তার জন্য নিয়ে এসেছি। তাকে খাইয়ে আমি চলে যাব। প্লিজ আমাকে যেতে দিন। ফটকের সামনে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তখন বলেন, কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। যেতে দেয়া যাবে না। পুলিশের বাধা পেয়ে বেবী নাজনীন কার্যালয়ের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর একটি মাইক্রোবাস কার্যালয়ের সামনে আসে। দুজন মহিলা পুলিশ সদস্য নেমে বেবী নাজনীনকে টেনে গাড়িতে তুলে নেন। পরে তাকে নিয়ে মাইক্রোবাসটি গুলশান থানার দিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর যোগাযোগ করা হলে গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বেবী নাজনীনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উনি বাসায় চলে গেছেন।

ভিডিও