জর্জিয়ার খবর

মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে পিতা-মাতা হারালেন শামীম
Published : 24.10.2014 06:23:16 am

আটলান্টা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ও জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম শামীমের পিতা ও মাতা মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। পিতা অবসরপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল মারা যান ১৯ অক্টোবর রবিবার এবং মাতা বেগম মমতাজ মহল ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার।(ইন্নালিলাহে ..... রাজেউন)। এ সময়ে তাদের বয়স হয়েছিল যথাক্রমে ৯৩ ও ৭৩ বছর। এ প্রতিনিধির সাথে টেলিফোনে আলাপকালে জনাব শামীম জানান পিতা ও মাতার অসুস্থাতার খবর পেয়ে পেয়ে গত সপ্তায় তিনি দেশে যান। এ সময়ে পিতা-মাতা উভয়ে ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাতা ডায়াবেটিস ও কিডনী জনিত রোগে ও পিতা হঠাৎ স্টোক করে কিছুটা সুস্থ হলে সেখানে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ অক্টোবর পিতা হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পিতার মৃত্যুর পর তার শেষকৃর্ত্য শেষ করে ঢাকার উপকন্ঠে নিজগ্রাম নরসিংদীর জেলার আমিনপুরে সমাহিত করে পরের দিন আটলান্টায় চলে আসি। আটলান্টার পৌঁছার কয়েক ঘন্টার মধেই টেলিফোনে খবর পাই মা’ বাবার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে বাবার পথযাত্রী হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর দুইদিন পরে ২১ অক্টোবর তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃতদেহটিও বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম শামীমের পিতা ও মাতার মৃত্যতে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির বর্তমান সভাপতি সম্পাদক যথাক্রমে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহমাদুর রহমান পারভেজ, জর্জিয়া আওয়ামী লীগ আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব যথাক্রমে মোহাম্মদ আলী হোসেন ও শেখ জামাল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি মরহুমদের আত্নার শান্তি ও শোক সন্তর্প্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিস্তারিত
জর্জিয়ায় ভ্রাম্যমান দূতাবাস ১ ও ২ নভেম্বর

জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আগামি ১ ও ২ নভেম্বর শনি ও রবিবার জর্জিয়ায় ভ্রাম্যমান দূতাবাস আসছে। নির্ধারিত দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে স্থানীয় সোনালী একচেঞ্জ কার্যালয়ে দূতাবাসের অফিস বসবে । বিস্তারিত জানতে জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আটলান্টায় ভার্সিটি ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

রাউট থ্রী সিক্সটিন ইউনিভার্সিটি পার্কওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় জাকি দোস্ত মোহাম্মদ (১৮) নামে এক ভার্সিটি ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ( ইন্নালিল্লাহে .... রাজেউন) । ১৬ অক্টোবর বৃস্পতিবার রাতের যেকোন সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাকি দোস্ত মোহাম্মদ বৃহত্তর আটলান্টার লিলবার্ণ সিটির কেনিয়ান বংশদ্ভূত সামি দোস্ত মোহাম্মদের একমাত্র পূত্র এবং ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া (ইউজিএ)র ছাত্র। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার আবাসিক ছাত্র জাকি মোহাম্মদ দূর্ঘটনার দিন তাদের লিলবার্ণস্থ বাসায় ফেরার কথা ছিল। বাসায় ফিরতে দেরী হলে তার বাবা সামি দোস্ত মোহাম্মদ বার বার তার মুঠোফোনে কল করে কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না । মনে করছিলেন হয়ত কোন কারণে তার মুঠোফোন বন্দ থাকতে পারে । তবুও উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন।পরে রাত তিনটে নাগাদ স্থানীয় গূইনেট কাউন্টি পুলিশ তাদের বাসায় এ দূর্ঘটনার খবর দেয়। সে কিভাবে যে দূর্ঘটনায় পতিত হলো তার সঠিক কোন তথ্য জানা যায়নি। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া ডাউন টাউন আটলান্টা থেকে প্রায় ৮০/ ৯০ মাইল উত্তরে এথেন্স শহরে অবস্থিত। রাউট থ্রী সিক্সটিন ইউনিভার্সিটি পার্কওয়ে গভীর জঙ্গল ভেদ করে এথেন্স শহরে পৌঁছতে হয়। এই মহাসড়কে রাত-বিরাত দ্রুত গতিতে বড় বড় ট্রাক-লরী চলাচল করে। ধারণা করা হচ্ছে জাকি মোহাম্মদ কোন ট্রাক বা লরীকে সামাল দিতে গিয়ে রাস্তার খাদে পড়ে গাড়ি দূর্ঘটনায় পতিত হয়। কেননা রাস্তার খাদে তার গাড়িটি দলানো মোচরানো পাওয়া গেছে। এই গভীর জঙ্গলে প্রচুর হরিণ বাস করে এবং রাতের আঁধারে তারা দলে দলে এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে ছুটাছুটি করে ।অনেক সময় তারা মহাসড়কেও এসে পড়ে । এই হরিণ ছুটাছুটিতেও তার গাড়ি দূর্ঘটনায় পড়তে পারে। তবে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে পুলিশী তদন্ত অব্যহত রয়েছে। একমাত্র সন্তান ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে সামি দোস্ত মোহাম্মদের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তাদের পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার যেন কেহ নাই। ১৯ অক্টোবর জাকি মোহাম্মদের দাফন-কাফন সম্পন্ন হয়।

প্রবাস

দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ৩০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকের কান্না চলছে।
Published : 24.10.2014 01:39:43 am

প্রবাস জীবনে মানুষ অনেক কষ্ট করে । তার পাশাপাশিমালিকের দেওয়া কষ্ট আর নানা কাগজ পত্রের ঝক্কি ঝামেলা তো আছেই । তেমনি একটি সংবাদ মানব জমিন হতে এমন একটি খবর তুলে ধরা হল। দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ৩০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকের কান্না চলছে। রাতে ইমিগ্রেশন পুলিশ, দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের যন্ত্রণায় কাটছে তাদের দিন। মালিকের সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করলে রক্ষা নেই। জেলখানায় বন্দি হতে হয়। ভিসার মেয়াদ না থাকায় নারী-পুরুষ কর্মীরা বাধ্য হয়ে কম বেতনেই বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন। এভাবে যারা কষ্ট মেনে নিয়ে কাজ করছেন, তারা বাসস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মুসলিম প্রধান দেশটিতে নারী শ্রমিকেরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশের রেড এলার্ট। গত বছরের ২৩শে ডিসেম্বরের পর পুলিশি আতঙ্কে কাটছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দিনকাল। ওই দিন মালদ্বীপ সরকার এক ঘোষণায় বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় নিজ খরচে দেশে ফেরত যেতে চায় তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সহজেই তারা নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন। এমন ঘোষণা যারা আমলে নেননি তাদের বিরুদ্ধেই চলছে অভিযান। মালদ্বীপের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করছে। দিন যত যাচ্ছে ক্রমেই এ সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের এক শ্রেণীর অসাধু রিক্রুটিং এজেন্ট ও তাদের মনোনীত দালালদের প্ররোচনায় এসব কর্মীরা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বা কেউ কেউ বেশি টাকা দিয়ে মালদ্বীপ যাচ্ছেন। মালদ্বীপে নিয়ে এদের মধ্যে অনেককে সুনির্দিষ্টভাবে চাকরি দেয়া হচ্ছে না। মালে ভাষা না জানা অনেক কর্মী নিজেদের মতো করে চাকরি খুঁজে নিয়েছেন। মালদ্বীপের হোলেমাল, হাডডু ও হিমাবুসি আইল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালদ্বীপে অদক্ষ শ্রমিকরা মাসিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ১৫০ ইউএস ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় সর্বোচ্চ ১৩-১৫ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়েই তাদের থাকা ও খাওয়া সামলাতে হচ্ছে। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন ফার্ম ছাড়া মালদ্বীপের কর্মসংস্থানের মান এখন সীমিত। ফলে কাজের ক্ষেত্র অনেক কমে এসেছে দেশটিতে। মালদ্বীপের হোলেমাল দ্বীপে কাজ করেন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জামাল মিয়া। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় মালদ্বীপে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়ে আসে এক শ্রেণীর দালালরা। এনেই হাডডু বা অন্য কোন দ্বীপে কাজ ছাড়া পাঠিয়ে দেন। এরপর বাধ্য হয়ে ভাষা না জানা বাংলাদেশীদের নিম্ন বেতনে অবরুদ্ধ অবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এ সময় বিভিন্নভাবে বাংলাদেশীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারা ঠিকভাবে বেতন-ভাতা, বাসস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মালদ্বীপে কর্মরত শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, হোলেমাল আইল্যান্ডের জেলখানায় বর্তমানে কয়েক শতাধিক বাংলাদেশী রয়েছেন। তাদেরকে বিভিন্ন হোটেল বা গেস্ট হাউজ থেকে কর্মরত অবস্থায় ধরে নিয়ে এসেছে। এরপর জেলখানায় পুরে রেখেছে। এ আইল্যান্ডের একটি থ্রি-স্টার হোটেলে কাজ করেন মুন্সীগঞ্জের কবির শেখ। তিনি জানান, বাঙালিদের গাদাগাদি করে থাকার চিত্র দেখে আসুন। আপনার নিজেরই চোখে পানি চলে আসবে। এক রুমে ২০ থেকে ২৫ জন থাকছেন। ফলে নানা রোগ শোকে তাদের আক্রমণ করেছে। অনেক শ্রমিকের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। শ্রমিকরা জানালেন, কয়েক মাস আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফর করে। ওই প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে সময় কাটানোতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। অথচ শুনেছি তারা মালদ্বীপের শ্রম বাজার সম্পর্কে একটি মজাদার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়নি। প্রবাসী শ্রমিকরা জানালেন, দূতাবাস কর্মকর্তাদের মন নেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেখভাল করতে। ভারতের একজন নাগরিক বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শারীরিকভাবে মালদ্বীপের কোন নাগরিক আঘাত করলেও সুষ্ঠু বিচারের জন্য চাপ দেন। কিন্তু ভিন্নচিত্র বাংলাদেশের কোন নাগরিকের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের কোন শ্রমিক বিপদে পড়লে তাদের সহায়তার জন্য দূতাবাসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর খোঁজ মেলে না। দূতাবাসের শীর্ষ পদটি কয়েক মাস ধরে খালি থাকলেও এনিয়ে সরকারের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। মালদ্বীপে বাংলাদেশী শ্রমিকদের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে ওই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে হেড অফ হাই কমিশন পদে নিযুক্ত মো. অহিদুজ্জামান লিটনকে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। দূতাবাসের নম্বরে ফোন করা হলে বলা হয়, স্যার এখন অনেক ব্যস্ত। এই মুহূর্তে কোন কথা বলতে পারছেন না।

বিস্তারিত
সৌদি আরবের মক্কায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে

অনেক আশা নিয়ে আর স্বপ্ন নিয়ে মানুষ পরবাসী হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে অনাকাংক্ষিত ভাবে চলে যায় না ফেরার দেশে। তেমনি একটি ঘটনা ঘঠেছে মুসলিজাহানের পবিত্র স্থান সৈাদি আরবে। সৌদি আরবের মক্কায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো দুইজন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে মক্কার জাবেল নূরে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানা গেলেও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। নিহতরা হলেন গাড়িচালক আইয়ুব, নাজির হোসেন, ফরিদ, মো. আলম ও মনছুর আলম। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজার ঈদগাহ এলাকার বলে জানা গেছে। তারা সে সময় কাজে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় জয়নাল ও ইসলাম নামে আরও দুই বাংলাদেশী আহত হয়েছেন।

‘বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া’ || মোদি শেখ হাসিনা বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে থাকা দুই সরকার প্রধান শনিবার প্রথম বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে ভারত সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তিসহ দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলোর কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তিনি (মোদী) বলেছেন, ম্যায় রাস্তা নিকাল রা হু (আমি সমাধানের পথ খুঁজছি)।”শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) ‘ইকোনমিক করিডোরের’ ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থল যোগাযোগের অন্তরায়গুলো তুলে নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে মোদী ইতিবাচক সাড়া দেন।মোদী আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেন বৈঠকে উপস্থিত শহীদুল হক জানান। “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাউথ এশিয়া সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর কথা বললে তিনি (মোদী) বলেন, ‘সাবকো সাথ লেকে উন্নায়ন করানা হোগা (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে)। ওনার যে ‘লুক ইস্ট পলিসি’, তার মধ্যে এই জিনিসটা খুব প্রোমিনেন্টলি আসে।” “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে যোগাযোগগত যে সমস্যা আছে, সেটা তুলে ধরেছেন। সেটার আশু সমাধানের অনুরোধ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই তিন দেশ বা চার দেশের মধ্যে চলাচলের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা দরকার। উনি সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এ ব্যাপারে একটা নির্দেশও দিয়েছেন।”মঙ্গলে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোয় সম্প্রতি সফল হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইটের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে সার্কের সদস্যভুক্ত সব দেশই এর সুবিধা নিতে পারবে।মোদীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি শিগগিরই শেখ হাসিনার এই আমন্ত্রণ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বগুণেরও প্রশংসা করেন। “তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশ বানায়া, উস কি লেড়কি দেশ বাঁচায়া (বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু, আর তার কন্যা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন),” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নয়া দিল্লি সফরে গেলে তাকেও একই কথা বলেছিলেন চার মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মোদী।হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির কট্টর নেতা হিসেবে পরিচিত মোদী ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তাই দিচ্ছেন।কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ভারতে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে তা নাকচ হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে থাকায় সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিতে পারেননি হাসিনা।শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সফরে এই হোটেলেই থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন গ্র্যান্ড হায়াৎ হোটেলে।শহীদুল হক বলেন, অত্যন্ত ‘আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ পরিবেশে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। উন্নয়নের শত্রু হিসেবে সন্ত্রাসকে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন। ত্রিপুরায় ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য নিয়ে যেতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মোদী। অটিজম নিয়ে কাজের জন্য শেখ হাসিনাকন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের প্রশংসাও করেন তিনি।বহুল আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এক সাংবাদিকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “না, হয়নি। দুজন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যখন আলোচনা হয়, তখন পলিসি লেভেলে হয়।”বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারও ছিলেন।মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা নেবেন শেখ হাসিনা।রোববার শেখ হাসিনার জন্মদিন। এদিন ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের সময় দেবেন তিনি।জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়বেন শেখ হাসিনা। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে ২ অক্টোবর ঢাকায় রওনা হবেন তিনি।

বাংলাদেশ

গরম হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। খালেদা জিয়া ও হাসিনার পাল্টা পাল্টি বক্তব্য
Published : 24.10.2014 05:25:38 am

উত্তর অঞ্চলের জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন:এই সরকারকে পৃথিবীর কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ফটোসেশন করে স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না। ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হয়’-এমন মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই এই সরকার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন করে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। সারাদেশের মতো এবার ঢাকায়ও আন্দোলন হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। গতকাল নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে জেলা ২০-দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিকেল সোয়া ৩টায় খালেদা জিয়া জনসভাস্থলে আসেন। এর আগেই মাঠ পেরিয়ে আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও বগুড়াসহ আশপাশের এলাকা থেকেও হাজার হাজার নেতা-কর্মী জনসভায় আসেন। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার ঘুরে ঘুরে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র না থাকলে কেউ কোনোদিন স্বীকৃতি দেবে না। তারা (বিদেশি) দেখেছে, এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনও নিরপেক্ষ হতে হবে। এরা নিরপেক্ষ না হলে ভোটাধিকার ফিরে আসবে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করে জনমত সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আগে জনগণের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত্ করব। তারপর সময় হলে আন্দোলনের ডাক দেব। তখন মাঠে নেবে পড়বেন। এবার আওয়ামী লীগকে বিদায় করেই ঘরে ফিরব। স্বৈরাচার এরশাদকে হটিয়েছি। এবার শেখ হাসিনাকেও হটাব। খালেদা জিয়ার বক্তব্যে শেখ হাসিনা আর ও কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন | বিরোধী জোটের আন্দোলন-হুমকির বিষয়ে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময় তারা যা করেছিল এখন তা করতে পারবে না। তখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে। তারা আন্দোলনের নামে দেশের একটি মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখুক না কি হয়! দু’ চারটা মানুষ হত্যা করা তো আন্দোলন নয়। সরকারের বৈধতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক দু’টি ফোরামে গণতান্ত্রিক দেশের ভোটে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের যে প্রশ্ন নেই এর মাধ্যমে তা-ই প্রমাণ হয়েছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে সংলাপ প্রশ্নে আগের অবস্থান ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, খুনিদের সঙ্গে কেউ কি আপস করতে পারে? তারপরও তাদের সঙ্গে বসার জন্য এত আকুলি-বিকুলি কেন? বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। সাম্প্রতিক ইতালি সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হলেও রাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা ইতালি সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বিস্তারিত
দেশে বর্তমানে পুরোপুরি অসুস্থ রাজনীতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।

দেশের সব সময় সংকটের মুহূর্তে ভাল ভূমিকা রাখেন নন্দিত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তারই ধার বাহিকতায় গতকাল বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক দের সাথে কথা বলেন তিনি। দেশে বর্তমানে পুরোপুরি অসুস্থ রাজনীতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, গুম-হত্যার ভয়ে ভীত হলে চলবে না। এসবের প্রতিবাদে সংগঠিত হতে হবে, জনগণ এসব প্রতিরোধে যেন সাহসী ও সংগঠিত হয়, সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দেশে পুরোপুরি অসুস্থ রাজনীতি বিরাজ করছে। জনগণের মধ্যে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণকে শুধু একটি দিনের জন্য সম্মানিত করা হয়, তা হলো নির্বাচন। নির্বাচনের সময়ে তাদের তথাকথিত মূল্যবান ভাবা হয়। দেশের জনগণকে এমন ক্ষমতার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ড. কামাল বলেন, কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল সূত্র হলো জনগণের ক্ষমতায়ন। সংবিধানের এই ঘোষণা আজ বাস্তবিকই প্রহসনে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সাংবিধানিক শাসন আমরা সবাই চাই। ৪ মিনিটে কোনো আইন হয় না। সংবিধান সংশোধন করতে হলে ভালোভাবে পক্ষে-বিপক্ষে যাচাই করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা সর্বস্তরে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা একান্ত অপরিহার্য। বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথা নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয়করণ মুক্ত রেখে সব কর্মকা-ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার প্রাধান্য দিতে হবে। ড. কামাল বলেন, দেশের এখন প্রয়োজন সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক ধারার প্রত্যাবর্তন। অথচ আজ সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কালো টাকা, লুটপাট, বিভেদ ও প্রতিহিংসা জাতীয় রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য, যা আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। তিনি বলেন, সমগ্র জাতির মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন ঐক্য এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে। এখন প্রয়োজন এ ঐক্যকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় এনে ব্যাপকভাবে সংগঠিত করা। মতবিনিময়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে মতিউর রহমান চৌধুরী, নুরুল কবির, আবু সাঈদ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, মিজানুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না, আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মোশতাক আহমেদ। বিএনপির বিরুদ্ধে ১৪ দলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে অর্জিত বিজয় হাতছাড়া হওয়ায় ভীষণ অনুতপ্ত ড. কামাল হোসেন। এজন্য তিনি তার নিজের ফাঁসি চেয়েছেন। গতকাল তিনি একটি মতবিনিময় সভা আহ্বান করেছিলেন তার বেইলি রোডের বাসভবনে। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত গড়ালো এক অন্তরঙ্গ আলোচনায়। শুরুতেই তিনি প্রথা ভাঙতে চাইলেন। বাসভবনে আয়োজন হলেও তার জন্য একটি বিশেষ চেয়ার রাখা হয়েছিল। তিনি তাতে বসতে অস্বীকৃতি জানালেন। বললেন, আমরা এভাবে সিংহাসন সৃষ্টি করে গণতন্ত্র নষ্ট করেছি। মানুষের চেয়ে নেতা অনেক বেশি বড় হয়ে গেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর জন্য রাখা মাইক্রোফোনগুলো তার জন্য সংরক্ষিত চেয়ারের সামনে রাখা হয়েছিল। তিনি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনুরোধ জানালেন তার আসনের পাশে বসতে। মিডিয়া কর্মীদের জন্য সেটা অসুবিধাজনক বিবেচনায় তারা সেখানে বসতে চাইলেন না। এরপর ড. কামাল নিজেই এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে তার সূচনা বক্তব্য দেয়া শুরু করলেন। তিনি ৬ দফা দিলেন। বললেন- ১. কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল সূত্র হলো জনগণের ক্ষমতায়ন। কিন্তু সংবিধানের এই ঘোষণা আজ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ তার হারানো অধিকার ফিরে পেতে পারে। ২. সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের বিকল্প নেই। ৩. বিচারবিভাগ জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সকল সাংবিধানিক সংস্থায় নিয়োগে দলীয়করণ বাদ দিয়ে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার প্রাধান্য দিতে হবে। ৪. সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা ৫. শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করা। ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেয়া। ৬. সমগ্র জাতির মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন ঐক্য গড়ে উঠেছে। এখন দরকার এই ঐক্যকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় এনে ব্যাপকভাবে সংগঠিত করা। বিভক্তকরণের যে যুক্তি অনেকেই দিচ্ছে তার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। তার মতে, সমাজ এখনও ঐক্যবদ্ধ আছে। এখন যদি ভোটাভুটি হয় যে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। এটা আপনারা বদলাতে চান কিনা? তাহলে কিন্তু তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এর পক্ষে ভোট দেবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে যা হারিয়েছিলাম, ৩রা নভেম্বরে যা হারিয়েছিলাম তা ২০০৮ সালের ২৯শে নভেম্বরে জনগণ ১৪ দলকে তা ফিরিয়ে দিয়েছিল। ভেবেছিলাম আমরা আইনের শাসন পাবো। কিন্তু তারপর কি হয়েছে সে আলোচনায় আর যেতে চাই না। কারণ আমার ভীষণ দুঃখ। এত বড় অর্জনকে আমরা বিসর্জন দিলাম। সবকিছু ফেলে দিলাম। ১৫৩ আসনে বিনা ভোটে যেটা করা হলো সেটা কিন্তু দুনিয়ার কেউ খাচ্ছে না। আপনারা তো বাইরে যান। বলেন, কেউ কি এটা খাচ্ছে? সাবের চৌধুরীর বিলবোর্ড উঠেছে। তাকে একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক বলেই জানতাম। এখন লজ্জা পাচ্ছি। কারণ তিনি তো ভালই জানেন আইপিইউ কি জিনিস। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী কেম্যান আইল্যান্ডের দলকে হারিয়ে এসেছেন। তবু তিনি বিল বোর্ড তোলেননি। কারণ তার বাবা এত টাকা রেখে যাননি। সাবের চৌধুরীর বাবা অগাধ টাকা রেখে যাওয়ার কারণে শান্তিনগরে বিরাট বিলবোর্ড উঠেছে। যেন তিনি সারা পৃথিবী জয় করে এসেছেন। জোহরা তাজউদ্দিন কি মন ভেঙে মারা যাননি? কারণ অসুস্থ অবস্থায় তাকে কেউ দেখতে যাননি। এর কারণ হলো আমাদের যে আওয়ামী লীগ ছিল সেটা হাইজ্যাকড হয়েছে। এই দলের প্রতি আমাদের দুর্বলতা সকলেরই আছে। এখনও অনেক মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখেন। কারণ, এ ছাড়া তারা অন্য কিছু দেখেন না। ভেবেছিলাম আওয়ামী লীগ তার ভেতর থেকে কি করে রিফর্ম হয়ে আসতে পারে। সবার সমর্থনযোগ্য হতে পারে। আমাকে অনেকে বলেছেন, আপনারা ভেতর থেকে তো এটা করতে পারতেন। সেটা আমরা অনেকটাই বুঝলাম যে এটা সম্ভব নয়। তবে আওয়ামী লীগের আজও অনেকে সেই ৫০ বছরের রাজনীতির ঐতিহ্য ধরে আছেন। আমরা কোথায় যাচ্ছি? নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যে র্যাব, ছয় কোটি টাকা দিয়ে মানুষ খুন করা যায় সেটা দেখালো। মাথাপিছু এক কোটি টাকা। চার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে বলা হয় এটা কোন টাকাই না। এই বাস্তবতা তো ভয়াবহ বাস্তবতা। বাংলাদেশের কয়েক জন খ্যাতনামা ব্যক্তি আছেন যাদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার মত কিছু নেই।তেমনি একজন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’-এ ভূষিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্পেনের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লুইস তেজাদা চাকোন স্যার ফজলে হাসান আবেদের কাছে সম্মাননার মেডেল ও সনদ তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণ করে ফজলে হাসান আবেদ বলেন, এ অর্জন আমার একার নয়, ব্র্যাকের এক লাখ ১০ হাজার কর্মী এর অংশীদার। বেসরকারি খাতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেন তার দেশের কিংবা বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’ নামের এ সম্মাননা দিয়ে থাকে। অনুষ্ঠানে স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুইস তেজাদা চাকোন বলেন, আমি মনে করি, ব্র্যাক যা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তো বটেই, এমনকি পৃথিবীর কম ব্যক্তিত্বই তা অর্জন করতে পেরেছে। বাংলাদেশ তাঁর মেধা, কঠোর পরিশ্রম, উদারতা ও প্রজ্ঞা ভাগাভাগি করে। আমরা তাঁকে বাংলাদেশের সেরা প্রতীক মনে করি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন নিন্দিত ও নন্দিত জামায়ত ইসলামী বাংলাদেশের আমির অধ্যাপক গোলাম আজম ।

চলে গেলেন নিন্দিত ও নন্দিত জামায়ত ইসলামী বাংলাদেশের আমির অধ্যাপক গোলাম আজম। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ মগবাজারের বাসায় নিয়ে গেছেন। তাকে মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আজমী। তবে তার অন্য ছেলেরা বিদেশ থাকায় শনিবার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছর সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেই পর্যন্ত তার লাশ কোন মেডিকেলের হিমঘরে রাখা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে তিনি ইন্তেকাল করেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কারাবিধি অনুযায়ী রাতেই তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাত ১০টার পর থেকে গোলাম আযম মারা গেছেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাত ১২টার দিকে মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। গোলাম আযমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) আবুল কালাম। গোলাম আযমের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহ আমান আযমী তাকে জানিয়েছেন যে, তার বাবা আর বেঁচে নেই। আবুল কালাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। গোলাম আযম ১৯২২ সালে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বীরগাঁও গ্রামে। ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট ঢাকা থেকে পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে তিনি ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪৭-৪৮ ও ৪৮-৪৯ সালে পরপর দু বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের (ডাকসু ) জিএস হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদেরও জিএস ছিলেন। ১৯৪৮ সালের নভেম্বরে রাষ্টভাষা বাংলা করার দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তত্কালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নিকট পেশ করেছিলেন গোলাম আযম। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষকতা দিয়ে গোলাম আযমের কর্মজীবনের শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে দলের সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১৯৬৭ সালে আমির নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি দল থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যান।

ভিডিও