জর্জিয়ার খবর

শিকাগোতে জিয়ার নামে রাস্তার নামকরণ করায় জর্জিয়া আ'লীগের প্রতিবাদ
Published : 17.09.2014 07:03:01 am

শিকাগো সিটির নর্থ ক্লার্ক এভিনিউর ওয়েস্ট প্র্যাট বুলেভার্ডে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তার উদ্বোধন করায় জর্জিয়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি রেস্তোরায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক স্বৈরশাসক শাসক ছিলেন এবং বহু সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন। সে একজন স্বীকৃত খুনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত। বাংলাদেশের প্রথম মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘‘ঠান্ডা মাথার খুনি” হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে কোন স্থাপনার নামকরণ হতে পারেনা। অবিলম্বে এই নাম প্রত্যাহার করার জন্য শিকাগো কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান। জর্জিয়া আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটির আহ্ববায়ক মোহাম্মদ আলী হোসেনের সভাপতিত্বে ও সচিব শেখ জামালের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় অন্যানের মধ্য উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিক, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম গাজী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কাউসার। এছাড়াও মোহাম্মদ ফাহাদ, মোস্তাক আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মিনহাজুল ইসলাম বাদল প্রমুখ।

বিস্তারিত
ফেসবুকাশ্রিত অপরাধ ও অপরাধীদেরকে রুখবে কে ?

পৃথিবীর সকল মানুষকে সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে আত্মীয় করেছে ফেসবুক । দূরকে এনেছে কাছে আর পরকে করেছে আপন । বিশ্বকে এনেছে হাতের মুঠোয় । দূর দেশের ছেলে মেয়ের মধ্যে ফেসবুক সূত্রে পরিচয় হয়ে তা পরিণয়ে রুপ লাভ করছে । আবার ফেসবুকের জন্যেই ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেকের সংসার । ফেসবুক আসক্ত একদল তরুন-তরুনী তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কাটিয়ে দিচ্ছে হেলায় ফেলায় । শুধু তরুন-তরুনীরা নয় বরং সব বয়সের ফেসবুক ব্যবহারকারীরাই কম বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে এক ধরনের নেশায় । দিনের অন্যান্য কাজগুলো রুটিন অনুযায়ী না হলেও ফেসবুক ব্যবহার ঠিকই নিয়ম মাফিক হচ্ছে । ফেসবুকের পেইজে ঠিক সময়ে ঢোকা হলেও ঠিক সময়ে বের হওয়া অনেকের জন্যই অসাধ্য । বিভিন্ন কারনে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ সাইটের তুলনায় ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি । ফেসবুকের মাধ্যমে ছবি শেয়ার করা, খবর শেয়ার করা, বার্তা পাঠানো, দল ভিক্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা, চ্যাট করাসহ বিভিন্ন কাজ করা যায় । ২০০৪ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী মার্ক জুকারবার্গের নেতৃত্বে একদল প্রযুক্তি মনস্ক প্রতিভাধারী ছাত্রের নিরলস চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত ফেসবুক তার যাত্রা শুরুর পর বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক আন্তসংযোগ যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইটে পরিনত হয়েছে । ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধরাও ফেসবুকের কল্যানে তার বন্ধুদের সাথে মনের সবকিছু শেয়ার করছে । ফেসবুক আসক্ত অনেক পিতামাতা তাদের অনাগত সন্তানের নামে ফেসবুকে আইডি খুলে রাখেন যাতে তাদের সন্তানকে পৃথিবীর আলোয় এসে ফেসবুকের সদস্য হতে অতিরিক্ত সময় দিতে না হয় । ফেসবুকের প্রতি মানুষের এক ধরনের ম্যানিয়া সৃষ্টি হয়েছে । যে ম্যানিয়া উপকার যেমন করছে তেমনি অপকারও কম করছে না । যদিও ফেসবুকের নিয়ম অনুসারে নূন্যতম ১৩ বছরের কম বয়সী কোন শিশু ফেসবুকের সদস্য হতে পারবে না তবুও তা কেবল নিয়মেই সীমাবদ্ধ রয়েছে । বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ণ কার্যনকরী ব্যবহারকারী এই ওয়েবসাইটি ব্যবহার করছে । অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচার এবং বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে । নিমিষেই এখানে আনন্দ উপরকরণের সবকিছু পাওয়া যায় । তাই অন্যান্য সকল সামাজিক সাইটের তুলনায় ফেসবুকের অগ্রযাত্রার গতি দুর্বার । ফেসবুককে পত্রিকার চেয়েও শক্তিশালী মাধ্যম মনে করা হয় । গোটা বিশ্বের আনাচে কানাচের সকল খবর ফেসবুকের মাধ্যমে মূহুর্তের মধ্যে দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে যাচ্ছে । রাজনৈতিক দল, নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষ তার স্বার্থ হাসিলের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছে । বিশেষ কোন বাধ্যবাধকতা না থাকার কারনে ফেসবুক অবর্ননীয় সুনাম কুড়িয়েছে । তবে ভালো মানুষেরা তাদের সৎ উদ্দেশ্যকে যেভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে তেমনি অসৎ কিছু মানুষ তাদের খারাপ উদ্দেশ্যকেও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রসার ঘটাচ্ছে । ফেসবুককে ব্যবহার করেই তারা এমন কিছু অপরাধ করছে যার কারনে সমাজ হুমকির সম্মূখীন হয়েছে । আমাদের দেশে ফেসবুক বাধাহীনভাবে ব্যবহার করা গেলেও বিশ্বের কিছু দেশে ফেসবুক বাধার সম্মূখীন হয়েছে । সিরিয়া, চায়না এবং ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যধকর আছে । এ সকল দেশের কর্তৃপক্ষ ফেসবুক ব্যবহারে সময় অপচয় হয় আখ্যা দিয়ে কর্মচারীদেরকে এটা ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে ফেসবুককে প্রায় নিষিদ্ধ করেছে । আমি ফেসবুকের সদস্য হয়েছি ২০১০ সালের ৫ই ডিসেম্বর । দীর্ঘ চলার পথে ফেসবুক আমার যা কেড়ে নিয়েছে তা না হয় গোপন রাখলাম । তবে ফেসবুক আমাকে কম কিছু দেয়নি । ফেসবুকে বন্ধুত্ব বানানো এবং বন্ধুত্ব হারানোর গল্পের মধ্যেও বন্ধুর সংখ্যা ১৬০০+ । গত কয়েকদিন চেষ্টা করেছি অকার্য কর বন্ধুদের রিমুভ করতে । যদিও এটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার তবুও হাল ছাড়িনি । তবে ফেসবুকের বন্ধুদের মধ্য থেকে কিছু অপসারণ করতে গিয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে । এ অভিজ্ঞতার মধ্যে অন্যতম হল, কিছু পরিচিত-অপরিচিত বন্ধু তাদের ফেসবুকীয় লিঙ্গ পরিবর্তন করে জনপ্রিয় হওয়ার মেকি চিন্তায় পুরুষত্ব বিসর্জন দিয়ে অঙ্গহীন নারী সাজার চেষ্টা করেছে । তাদের জনপ্রিয়তাও দেখলাম ব্যাপক । তবুও তাদের এ রুচিকে ঘৃণা করতে পারিনি কেননা জনপ্রিয়তার খায়েশ কার না আছে ! সবচেয়ে আশ্চার্যখ লাগল যখন দেখলাম আমার প্রিয় বন্ধুর এক নিকটাত্মীয়ার ছবি দিয়ে তার নামের শেষে একটি অশ্লীল শব্দ যোগ করে ফেসবুক আইডি তৈরি করা হয়েছে । যখন আমি তাকে বন্ধুর তালিকায় যোগ করেছিলাম তখন এমনটা ছিল না । প্রোফাইলে ঘুরে যে অভিজ্ঞতা হল তা খুবই তিক্ত । প্রোফাইলে যে ছবিগুলো আপলোড করা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগ দেশী বিদেশী বিভিন্ন অভিনেত্রীদের অর্ধ উলঙ্গ ছবি । সেসব ছবিতে শত শত লাইক এবং উষ্ণ শব্দমালার মন্তব্য । প্রোফাইলে একটি মোবাইল নাম্বারও দেয়া আছে । আমি তাৎক্ষনাৎ ফোন দিলাম । ফোনটা রিসিভ করলেন একজন ভদ্রমহিলা । কণ্ঠ শুনে মনে হল সে আমার পরিচিত কিন্তু প্রথমে আমি তার কাছে পরিচয় না দিয়ে তার নাম্বারটা এখানে যোগ করার কারন জিজ্ঞাসা করলাম । তার বাক্যে স্পষ্ট বিরক্তির সুর এবং তিনি খুব রাগন্বিত অবস্থায় আছেন সেটা বুঝতে বাকি রইল না । অবস্থা বেগতিক দেখে আমি পরিচয় দিলাম । এরপর তিনি যা বলল তার সারাংশ হল, আমার ফোনটা লাইন পাওয়ার কয়েক মিনিট পূর্বে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী এক যুবক তাকে ফোন দিয়েছিল এবং এভাবে দিনের বেশিরভাগ সময়েই তার নাম্বারে দেশ-বিদেশ থেকে কল, মিসকল আসতে থাকে । ঠিকমত ঘুমাতেও পারেন না । তিনি যে সিম অপরাটেররের সদস্য সে অফিসেও যোগাযোগ করেছিলেন কিন্তু এক্ষেত্রে তাদেরও বিশেষ কিছু করার নাই বলে জানিয়ে দিয়েছে । এ ভদ্র মহিলার সন্তানেরা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং আত্মীয়-স্বজনেরা দূর দূরান্তে থাকার পরেও আমি তাকে সিমটি বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম । এরপর ছবির এক অচেনা রুপবতীকে বন্ধুত্বের তালিকা থেকে রিমুভ করার আগে তার ওয়ালে একবার ঢুঁ মারলাম । তিনি ওয়ালে যে স্টাটাস দিয়েছেন তাতে শব্দমালা যাই হোক না কেন তাতেই হাজার লাইক এবং শত কমেন্ট । গোটা প্রোফাইল ঘুরে আমি নিশ্চিত হলাম এটা ফেক আইডি । সেখানেও একটি মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে । সেটাতে ফোন দিলাম । যিনি ফোন রিসিভ করলেন তার কণ্ঠ শুনে মনে হয়েছে তিনি ষাটোর্ধ বৃদ্ধা । তাকে বিশেষ কিছু জিজ্ঞাসা করতে সাহস হচ্ছিল না কেননা তার ভাষায় যথেষ্ঠ অস্পষ্টতা রয়েছে এবং তিনি গ্রাম্য ভাষায় কথা বলছিলেন । তবুও অনেক অপ্রাসাঙ্গিক কথা বলে তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চেষ্টা করছিলাম যাতে মূল কথায় আসতে পারি । অবশেষে অবস্থা যখন অনুকূল হল তখন তার কাছে ফেসবুকে তার নাম্বার কেমনে আসল তার কারন জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি যা বললেন তার মূল বক্তব্য হল, মাস খানেক হল বিভিন্ন ছোকরার মাধ্যমে ফেসবুকের নাম শুনছেন । এটা আসলে কি সেটা তিনি জানেন না । তার ছেলে সৌদিতে যাওয়ার পূর্বে তাকে মোবাইল কিনে দিয়ে গেছে । ছেলে মাঝে মাঝে তার কথা বলেন । ছেলে যখন ফোন দিতে বিলম্ব করেন তখন তিনি ইচ্ছা থাকলেও ছেলেকে ফোন দিতে পারেন না । কেননা তিনি শুধু কল রিসিভ করতে পারেন কিন্তু কাউকে কল দিতে পারেন না । বিভিন্ন অপরিচিত নাম্বার থেকে প্রায়ই তাকে ফোন দেয় তবে তার সাথে কেউ বেশি কথা বলেন না । তিনি ঠিকমত নামাজও পড়তে পারেননা । নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যেও ফোন আসে এবং তিনি তার ছেলের ফোন ভেবে দৌঁড়ে গিয়ে রিসিভ করে যখন বুঝেন অন্য কারো ফোন তখন কেটে দেন কিংবা তারাই কেটে দেন । ঠিকমত ঘুমাতেও পারেন না । এরপর বন্ধুত্বের তালিকা থেকে যাদেরকে রিমুভ করেছি তাদেরকে আর ফোন দেয়ার সাহস হয়নি । নিজের উপর ঘৃণা জন্মেছে কারন এদের মত কুলাঙ্গরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেছিলাম । যারা আমার মূর্খতার সুযোগ নিয়ে বন্ধু হয়েছিল । শুধু এ ধরনের অপরাধই নয় বরং আরও মারাত্মক কিছু অপরাধের মাধ্যম হিসেবে আজকাল ফেসবুক ব্যবহার হচ্ছে । বছর খানেক পূর্বে ফেসবুক সম্পর্কীয় সরকারের একটি খবর পাঠের পর ফেসবুকের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে সরকারকেও অসহায়ন মনে হয়েছে । খবরটি ছিল, সরকার দেশের কয়েক ব্যক্তির তথ্য চেয়ে ফেসবুকের কাছে চিঠি দিয়েছে । খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তিসহ সকল অপরাধের একাংশ ফেসবুকের মাধ্যমে হচ্ছে । ফেসবুকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিরন্তর হুমকি দেয়া হচ্ছে । বিভিন্ন মহল সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট এবং কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্র হিসেবেও ফেসবুক প্রধান মাধ্যম । উত্যক্তসহ মেয়েদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কেও বিচ্ছিন্ন তথ্য ছড়ানোর জন্য ফেসবুকের অপব্যবহার করা হচ্ছে । অথচ ফেসবুকের নানাবিধ অপব্যবহার বন্ধে সরকার পুরোপুরি নিরুপায় । বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কমবেশি ফেসবুকের সদস্য থাকলেও মাত্র ২৫টি দেশে ফেসবুকের আঞ্চলিক অফিস আছে । সম্প্রতি ফেসবুকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশেও একটি আঞ্চলিক অফিস করার আলোচনা শোনা যাচ্ছে । ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারেরর যৌথ প্রচেষ্টায় এটি যত শীঘ্র স্থাপন করা যায় তত মঙ্গল । বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে ফেসবুক আসক্ত হয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মারত্মক কোন বিধান চালু করা সম্ভব নয় । তবে এটার ব্যবহারকারীদেরকে একটি বিধানের আওতায় আনা আবশ্যক । সরকার যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তবে অসংখ্য বেকারের কর্ম সংস্থান যেভাবে সৃষ্টি করা যাবে তেমনি বিভিন্ন মারাত্মক অপরাধের হাত থেকেও পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র রক্ষা পাবে । বিশেষ করে বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিশেষ সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ, ভদ্র মহিলাদের মোবাইল নাম্বারের অপব্যবহার করে যেভাবে তাদেরকে বিরক্ত করা হয় তার কবল থেকে তারা মুক্ত থাকবেন । আমার মা কিংবা বোনকে কেউ বিরক্ত করলে আমার যেভাবে খারাপ লাগে অন্য কারো মা কিংবা বোনকে বিরক্ত করলে তারও ঠিক সেভাবে খারাপ লাগে । এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন সকলে নৈতিক বিবেক জাগ্রত হওয়া । তারপরেও বলতে হচ্ছে, প্রাকৃতিক ভাবে সকলের নৈতিক বিবেক জাগ্রত হবে না । কাজেই কঠোর আইনের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে । ফেসবুক ব্যবহারের জন্য যদি নির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয় তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কেউ হত্যার হুমকি দেয়ার সাহস পাবে না । কর্তৃপক্ষ যদি এ ব্যাপারে একটু ভাবেন তবে কৃতার্থ হব এবং সব মানুষের সব ধরনের নিরাপত্তা রক্ষা পাবে । দেশের মানুষকে অন্যান্য ক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তা না দিতে পারলেও যেন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক নিরাপত্তা দেয়া যায় তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছি ।

আটলান্টায় আসছেন সাবিনা ইয়াসমিন

ডিস্ট্রার্ড চিল্ডেন এন্ড ইনফান্ট ইন্টারন্যাশনাল সংক্ষেপে ডিসিআই আটলান্টা চ্যাপ্টার আয়োজিত আর্ত পীড়িত শিশুদের সাহাযার্থে তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত লাইভ কানসার্টে সঙ্গীত পরিবেশন করতে আগামি ২০ সেপ্টেম্বর আটলান্টায় আসছেন অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানটি হবে স্থানীয় বার্কমার হাই স্কুলে। সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভুবনে তার রাজত্ব। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী হিসেবে সবখানেই তার সুখ্যাতি। বাংলা গানের শ্রোতারা তাকে ‘গানের পাখি’ হিসেবেই চেনেন। যিনি অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের শিল্পী। তার কণ্ঠে অডিও, চলচ্চিত্র কিংবা রেডিওতে প্রচারিত অনেক গানই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একটা সময় ছিল চলচ্চিত্রের গান মানেই, সাবিনা ইয়াসমীন ও রুনা লায়লার গান। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকের রাজ্যে পা রাখেন সাবিনা। শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুর-সঙ্গীতে এ ছবিতে তিনি গেয়েছিলেন ‘মধু জোছনার দীপালি’ গানটি। দীর্ঘ সময় মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০০৭ সালে গানের ভুবনে আবারো ফিরে আসেন সাবিনা ইয়াসমীন। গানের ভুবনে থেমে নেই এ শিল্পী পথচলা। পাশাপাশি তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন। আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার সোসাইটি’র শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এর কার্যক্রম ও গানবাজনা নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

প্রবাস

শিকাগোতে জিয়ার নামে রাস্তা উদ্বোধন
Published : 16.09.2014 07:51:13 pm

আমেরিকার শিকাগোতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তা উদ্বোধন হয়েছে। আওয়ামী লীগের আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও ইলনয় স্টেটের শিকাগো শহরে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসেননি। রাস্তা উদ্বোধনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ অনুষ্ঠান করেন। সিটির ৬৮০০ নর্থ ক্লার্কের ওয়েস্ট প্রাট ব্লুভারের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৬৭৫০ নর্থ ক্লার্কের পশ্চিম কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তকে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ সড়কের উদ্বোধন করেন সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর পরিচালনায় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলডারমেন জোসেফ ম্যুর বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান।” জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেয়া শোক বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিশ্ব নেতা। শিকাগো শহরে বহু বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত নেতৃত্বের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সুসম্পর্ক ছিল, যার ধারাবাহিকতা তার সহধর্মীনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অত্যন্ত খুশি। এর মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “আজকের এই দিনটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে আরেকবার স্বীকৃতি দিয়েছে গণতন্ত্রের চারণভূমি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আমরা গর্ববোধ করছি। এমন একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান একজন বিশ্ব নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সড়কের নামকরণ বাস্তবায়নে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিত তদারকি করেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেট থেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এসেছেন। শিকাগো শহরের বরেণ্য রাজনীতিকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সবার প্রতি আজকের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।” শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, “ইতিপূর্বে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশেষ ব্যক্তির নাম ফলক উন্মোচনে এত মানুষের সমাগম ঘটেনি। মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে ‘জিয়া মরে নাই’।” বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী জিয়াউর রহমানের নামে রাস্তার নামকরণ করায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও শিকাগো সিটি নেতৃত্বকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই শ্রদ্ধা জানানোয় বিএনপি নেতাকর্মী নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আনন্দিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।” বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র একজন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এতে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত।” উদ্বোধনের পর শিকাগো শহরের নর্থ শোর ব্যাংকুয়েট হলে বিএনপি এক আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইলনয়ের সেক্রেটারি অব স্টেট জেসি হোয়াইটের অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য, শিকাগো বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শিকাগো সিটির অলডারমেন জোসেফ ম্যুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম মনা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আবদুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসাইন বাবু, বাবর উদ্দিন, জাকির হোসেন হাওলাদার, শাহ মোসাদ্দেক মিন্টু, একে আজাদ, মো. আবদুল বাসিত, জসীম উদ্দীন ভুইয়া, কাজী আজম, আতিকুল হক আহাদ, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন, গিয়াস উদ্দিন, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাইদ আহমেদ, এবাদ চৌধুরী, রেজাউল আজাদ, আবদুস সবুর, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, শেখ হায়দার আলী, শাহাদত হোসাইন রাজু, হাদী, শাহ মোশাররফ, মো. ডুলো মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিকাগো বিএনপির নেতা জসীম উদ্দীন। শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বেবী নাজনিন। প্রসঙ্গত, শিকাগো সিটি কাউন্সিলে অনুমোদিত রাস্তার নামকরণের উদ্যোগ নিলে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা করা হয় তা ফেরানোর জন্য। এমনকি এর বিরুদ্ধে শিকাগোতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন করলো। উল্লেখ্য, শিকাগোতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শেখ মুজিব ওয়ে, বিশ্ববিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ারের ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খানের নামে এফ আর খান ওয়ে ভারতের মহাত্মা গান্ধীসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুনিজনের নামে সড়ক রয়েছে।

বিস্তারিত
আজ সেই ভয়াল ৯/১১

আরো দু’ দশটা দিনের মতই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের দিনটি শুরু হয়েছিল। ১৩ বছর আগের দিনটি ছিল মঙ্গলবার।দিনটিতে ঘঠে যাওয়া ঘঠনায় শুধূ আমেরিকাই নয় ,যেন পাল্টে গেছে পুরো বিশ্ব। ২০০১ সালের এ দিনটিতে জঙ্গী হামলায় মাটিতে মিশে যায় নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র।বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে পেন্টাগন পর্যন্ত জঙ্গীদের শাড়াশী বিমান হামলা। নিহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশী মানুষ।বিশ্বের সেরা দেশের কর্ম পাগল মানুষেরা দিনটি শুরু করেছিল নিত্যদিনের মত।টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্থাপনার উপর ছিনতাই করা যাত্রিবাহী বিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাতকরা।পর পর দুটি বিমানের ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।হলিউডের চিত্র নির্মতারাও এমন ধ্বংশ যজ্ঞের সিনেমা নির্মান করতে পারেননি।বাংলাদেশী শাকিলা-নুরুল দম্পতি নিহত হন বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের উপর জঙ্গী হামলায়।অভিবাসনের নগরী নিউইয়র্কে এ দিনটিতে নিহত হন ৬০টি দেশের লোকজন।অন্যান্যের মধ্যে নিহত হন বাংলাদেশী মুহাম্মদ সাদেক আলী,মোহাম্মদ শাহাজাহান,সাব্বির হোসেন,সালাউদ্দিন আহমেদ , আবুল কে চৌধূরী,নাভিদ হোসেন,ওসমান গণি এবং আশফাক আহমেদ। ঘঠনার তের বছর পর চলে গেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর বড় হওয়া প্রজন্মের কাছে এক ভিন্ন বিশ্ব বাস্তবতা।নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের ফিফ্থ এভিন্যু সংলগ্ন ’’ সাকিলা ইয়াসমিন এন্ড নুরুল হক মিয়া ৯১১ মেমোরিয়েল ” সড়ক পথে কেউ হয়ত থমকে দাঁড়ায়।জানতে চায় বাংলাদেশী এ দম্পতির কথা।২০০৫ সালে নিউইয়র্ক নগরীর পক্ষ থেকে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে নিহত হওয়া এ বাংলাদেশী দম্পতির নামে সড়কটির নামকরন করা হয়। টুইন টাওয়ারে,পেন্টাগনে হামলাকারীদের পরিচয় জানতে সেদিন বিলম্ব হয়নি।মাত্র ঊনিশ জনের একটি দল পরিকল্পনা করে এ হামলা চালায়।তিনটি বিমানই লক্ষ্যস্থলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।নিপুন পরিকল্পনার এ হামলার কথা আগাম ধারনাও করতে পারেনি বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা গোয়েন্দারা।মুসলমান পরিচয়ে এ আত্মঘাতী হামলাকারীদের ধংশজজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে আমেরিকার জঙ্গীবাদ বিরোধি যুদ্ধযাত্রার শুরু।আফগান, ইরাক হয়ে এ যুদ্ধ যাত্রা এখনো চলমান।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিহত হওয়া তিন হাজারের সংখ্যাটি এখন হতাহত মিলে লাখের সীমানা পেরিয়েছে।হামলার মূল পরিকল্পনার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছে।১৩ বছর পরও শেষ হচ্ছে না আমেরিকার যুদ্ধ যাত্রা। রাত ১০টার আগে ফিরতে পারবেন না বলে পুত্র কন্যার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কাজে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহাজাহান।আদরের কন্যা শিরিনকে কিন্টারগার্টেনে নামিয়ে দিয়ে গুডবাই বলেছিলেন।শেষ বারের মত বাবার বলে যাওয়া গুডবাই-এর স্মৃতি নিয়ে শিরিন বেড়ে উঠেছেন ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তি আমেরিকায়।ধংশ হয়ে যাওয়া বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে আবার । নির্মিত হয়েছে ফ্রিডম টাওয়ার।শাহাজাহান কন্যার মত মানুষের কাছে ফ্রিডম টাওয়ার ভিন্ন অর্থ বহন করে।টুইন টাওয়ারের ধংশস্তুপ থেকে সংগ্রহ করা পোড়া মাটি সংগ্রহ করে নিজের কাছে রেখেছেন শিরিন। এ মাটির দিকে তাঁকিয়ে শুধূ ১১ সেপ্টেম্বর নয়,গত ১৩টি বছর জনকের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে ম্যরিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের কিছু আগে আবার কোন কারন ছাড়াই নিউইয়র্কে ফিরে আসেন।কাজে যোগ দেন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উইন্ডোজ অব দ্যা ওয়ার্ল হোটেলে।ঘটনার দিন তাঁর নির্ধারিত কাজও ছিল না।সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে চিকিতসকের কাছে নেয়ার জন্য কাজ বদল করেছিলেন অন্য সহকর্মির সাথে।বিমান হামলার ধংশস্তুপে প্রাণ দেয়া সালাউদ্দিন দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেন নি।১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া ফারাকাত এখন ১৩ বছরের কিশোর।আমেরিকায় প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় নানাসব আনুষ্টানিকতার মধ্য দিয়ে।কিশোর ফারাকাতের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর, আর না দেখা বাবার নাম অনেকটাই সমার্থক।নিহত সালাউদ্দিনের বাল্যবন্ধু মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন,ম্যারিল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে ফিরে আসাটা সালাউদ্দিনের জন্য ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলতে হবে।

শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গ্লোবাল কনফারেন্স

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আদর্শকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে গ্লোবাল কনফারেন্সের আয়োজন করেছে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের সহায়তায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. এ কে আবদুল মোমেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মনসুর খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা জামাল উদ্দিন হোসেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ও নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন নবী, অটোয়া প্রবাসী অধ্যাপক ড. ওমর সেলিম শের, বাংলাদেশের যুদ্ধশিশু-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মুস্তাফা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা প্রদীপ রঞ্জন কর, কবি ও লেখক ফকির ইলিয়াস, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি, সাবেক সংসদ সদস্য এম আনিসুজ্জামান খোকন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, কনফারেন্সের আহবায়ক নুরুল আবেদিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান, আবু রায়হান, তাহমিনা শাহীদ, জলি কর, সবিতা দাশ, শাহরিন সুলতানা, চিত্র এষ, অনুপ কুমার, জেরিন মাইশা, রবি শংকর, শহীদ উদ্দীন, দিলরুবা আবেদীন, নিখিল রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সাখাওয়াত আলী, মুহাম্মদ আবদুস সালাম, নাঈমা খান, মিনা ইসলাম। কনফারেন্সের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও প্রধান সমন্নয়কারী সাংবাদিক ওমর আলী। অনুষ্ঠানে লন্ডন, প্যারিস, মস্কো, বার্লিন, রোম, কুয়ালালামপুর, অটোয়া, মন্ট্রিল, টরেন্টো এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থিত বিভিন্ন মিশনের কর্মকর্তা এবং প্রবাসীরা যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পূর্বে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই আয়োজকদের উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন।

বাংলাদেশ

মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে: আসম আবদুর রব
Published : 22.09.2014 10:16:55 am

তীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেছেন, ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগণ সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই বর্তমান সরকারের সব কাজই এখন দুরভিসন্ধিমূলক মনে করছে। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সেক্টর কমান্ডারদের পাকিস্তানের চর আখ্যায়িত করে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব ও মর্যাদা নষ্টের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। জেএসডি সভাপতি বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগ জোটের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক ‘বিকল্প শক্তি’র অপেক্ষায় আছে। বিকল্প জোট এবং সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে জনগণ আন্দোলন সংগঠিত করবে এবং ভোটের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন হবে। নতুন রাজনৈতিক ধারা গণমুখী ধারার উন্মেষ ঘটবে। মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারের সদ্য প্রকাশিত বই সম্পর্কে আসম রব বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন যা জাতির জন্য গৌরবের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে ব্যাপক কর্মকাণ্ডের এবং সমগ্র জনগোষ্ঠীর যৌথ ফসল। সুতরাং প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কত অসংখ্য ঘটনা, বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতিরত স্রোতধারাগুলি একই স্রোতধারায় একত্রিত হয়েছে-একই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি ‘জাতি রাষ্ট্র’ নির্মিত হয়েছে। অনেকের পক্ষেই অনেক কিছু জানা সম্ভব নয়। কারও অজ্ঞতা বা সীমাবদ্ধতা ইতিহাসের দায় নয়। আর ভিন্নমত হলেই ‘দেশদ্রোহী’ ‘পাকিস্তানের চর’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। তিনি বলেন, সেক্টর কমান্ডারদের ‘পাকিস্তানি চর’ বলে মুক্তিযুদ্ধকে চূড়ান্ত অপমান করা আওয়ামী সংস্কৃতি কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সব করে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিনষ্ট করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ও আওয়ামী লীগ দায়ী। আওয়ামী লীগ অন্যের অবদানকে স্বীকার করার মতো উন্নততর নৈতিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে না। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সমালোচনা করে আসম রব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে গণমাধ্যম তথা গণবিরোধী। গণমাধ্যম যেন সত্য প্রকাশ করতে না পারে-সেজন্য এ নীতিমালা। এ সরকার সত্য এবং জনগণ দু’টো বিষয়কে বিসর্জন দিয়েছে। তারা মিথ্যার আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত। ৫ই জানুয়ারি সকল গণমাধ্যম বললো-৫ ভাগ ভোট পড়েনি সেখানে সরকার বলছে-৪০ ভাগ ভোট পড়েছে। এটা কত বড় প্রতারণা! সুতরাং এই সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চায়-তা হাস্যকর। তিনি বলেন, এটা শুধু গণমাধ্যম নয়, জনগণের ভোটচুরি, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়-বিনা নির্বাচনে অস্ত্র-প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ক্ষমতা জবরদখলের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিবিশেষও যাতে সমালোচনা না করতে পারে, সেজন্য ১৬ কোটি মানুষের মুখে তালা ঝোলানো। বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে আসম রব বলেন, সরকারের যে কোন কাজ এখন জনগণের কাছে দুরভিসন্ধিমূলক প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ সরকার জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এ সরকার দিন দিন স্বৈরাচারীই হতে পারবে, গণতান্ত্রিক হতে পারবে না। রাজাকারদের যেমন রাজাকারি করা ছাড়া বিকল্প নেই তেমনি আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক রাস্তায় তারা প্রাচীর দিয়ে দিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ আর গণতান্ত্রিক রাস্তায় চলতে পারবে না আপাতত। স্বৈরাচারী হওয়া-গণবিচ্ছিন্ন হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়তি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। চুরি-হাইজ্যাক ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে। সুতরাং জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য নতুন নির্বাচন জরুরি। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন ফ্রন্ট গঠন সম্পর্কে আ স ম রব বলেন, ফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রচলিত ও ধ্বংসগ্রস্ত শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগ বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে চরম প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র এখন জনগণের ওপর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের হাতিয়ার। রাষ্ট্রকে ‘জনগণের রাষ্ট্রে’ রূপান্তর করার জন্যই মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল অথচ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রকে জনগণের মালিকানায় ফেরত দিতে চাই। রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন ফ্রন্টে বিকল্পধারা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের না থাকার বিষয়ে আসম রব বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই- অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তিকে নিয়েই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটবে। আমরা কাউকে বাদ দেবো না। বর্তমান সরকার পতনের দাবিতে নতুন ফ্রন্ট রাজপথে কর্মসূচি দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি-জনগণের সপক্ষের শক্তি তারা নিশ্চয়ই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে। যে দেশের মানুষ আইয়ুব-ইয়াহিয়াকে বুকের রক্ত দিয়ে বিতাড়িত করেছে সে দেশে জনগণকে প্রতারিত করে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আন্দোলন করবে।

বিস্তারিত
হজে যাচ্ছেন দুই বাম রাজনৈতিক দলের প্রধান

তাদের ভেতরে পরিবর্তন আসছে । সারা জীবন বাম রাজনীতি করার পর নৈাকায় উঠে তারা হয়েছেন মন্ত্রী । কথায় আর নৈতিকতায় এসছে পরিবর্তন । হয়ত মানসিকতায় ঘটে গেছে আমুল পরিবর্তন । তাই হজে যাচ্ছেন দুই বাম রাজনৈতিক দলের প্রধান রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যাচ্ছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। রাশেদ খান মেনন সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনার কাজেও অংশ নেবেন। গত ২১শে আগস্ট মেননসহ ১০ সদস্যের টিমের সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জিওতে বলা হয়েছে, এ দলটি ২৩শে সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে গিয়ে ১০ই অক্টোবর বাংলাদেশে ফিরে আসবে। হজ প্রতিনিধি দলের দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে। প্রতিনিধি দলে সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. একে আজাদ চৌধুরী, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ফারুক (এম ফারুক), প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার মনোনীত প্রতিনিধি শেখ মো. আবদুল্লাহ, ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মেছবাহ-উল আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এবং জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ, চট্টগ্রামের খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আলকাদেরী। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ব্যক্তিগত উদ্যোগে হজে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া। তিনি জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও হাসানুল হক ইনু নিজ ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন জানিয়েছেন, মন্ত্রী স্ত্রীসহ ২৭শে সেপ্টেম্বর হজে যাবেন, ফিরবেন ১৪ই অক্টোবর।

কচুয়ায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

সহিংসতার অভিযোগে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা বিএনপি’র সহসভাপতি ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিকদার আজাহার আলীকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর তাঁকে তার নিজ বাড়ি গজালিয়া থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গত ৬ মে কচুয়া থানায় উপজেলার আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক খান এমডি শহীদুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় পুলিশ ওই বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে। রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে এ প্রতিনিধিকে জানান, ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবরের নির্বাচনের পর তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের আমলে বিএনপি নেতা সিকদার আজাহার আলী কচুয়া উপজেলা্র বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ওই সময়ে তিনি তার দলবল নিয়ে উপজেলার সম্মানকাঠি গ্রামে এসে মহড়া দিলে তা দেখে ভয়ে কলেজের প্রভাষক খান এমডি শহীদুল ইসলামের বাবা সুলতান আলী খান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এর কিছুদিন পর তিনি মারা যান। এই ঘটনায় তিনি ভয়ে ওই সময়ে মামলা করতে পারেননি। চলতি বছরের ৬ মে কলেজ শিক্ষক খান এমডি শহীদুল ইসলাম বিএনপি নেতা সিকদার আজাহার আলীসহ বিএনপি’র ১৯ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে কচুয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু বলেন, রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করতে জনপ্রিয় বিএনপি নেতা সিকদার আজাহার আলীর বিরুদ্ধে একযুগ পরে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ওই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করে তাঁর মুক্তি দাবী জানিয়েছেন।

ভিডিও